ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
আইন দর্পণ

কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল, বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি


| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল, বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি

একই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা, বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ, লাল কাঁকড়ার বিচরণ, লেম্বুর বনের সবুজ প্রকৃতি, রাখাইন সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আর বৌদ্ধ মন্দিরের ঐতিহ্য– সব মিলিয়ে কুয়াকাটা যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক অনন্য ছবি। এই সাগরকন্যাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরতে দীর্ঘ ৯ বছর পর আয়োজন করা হচ্ছে ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল’। ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুদিনব্যাপী এ উৎসব উপলক্ষে নেওয়া হচ্ছে বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি।

সমুদ্রসৈকতে খেলাধুলা, বিচ ফুটবল, বিচ ক্রিকেট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত, ফ্যাশন শো, কমেডি, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, বিচ ম্যারাথন. চর বিজয় ভ্রমণসহ নানা আয়োজন থাকছে উৎসবে।

আয়োজকদের পরিকল্পনায় এবারের কার্নিভাল কেবল বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়; বরং কুয়াকাটাকে প্রকৃতি, ঐতিহ্য, স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি ও আধুনিক বিনোদনের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান, ঐশী, হাসান, আরমান আলিফ ও চিশতী বাউলের পরিবেশনা ঘিরে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। পাশাপাশি অভিনয়শিল্পী, উপস্থাপক, ফ্যাশন মডেল ও সামাজিক মাধ্যমের পরিচিত মুখদের অংশগ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

কার্নিভালকে কেন্দ্র করে আট শতাধিক পুলিশ সদস্য, আটটি চেক পয়েন্ট, চারটি পার্কিং জোন, স্বেচ্ছাসেবক, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্য এবং চারটি মেডিকেল টিমের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উৎসব কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুন করে পরিচিত করার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য কুয়াকাটা। পর্যটকদের কাছে এর সবচেয়ে বড় পরিচিতি একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ। তবে কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা শুধু সমুদ্রসৈকতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। লেম্বুর বন, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, রাখাইন পল্লি, বৌদ্ধ মন্দির, স্থানীয় খাবার, কৃষি ও জীবনধারা এ অঞ্চলের পর্যটনকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে। থাকছে নৃত্য পরিবেশনা, ফ্যাশন শো ও কমেডি অনুষ্ঠান। 

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক জানান, নিরাপত্তায় ৮০০ পুলিশ সদস্য, আটটি চেক পয়েন্ট, চারটি পার্কিং জোন, ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক, শতাধিক বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্য এবং চারটি মেডিকেল টিম রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা, যানজট নিরসন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. সামীমুজ্জামান বলেন, পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে সরকার প্রতিবছরই পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের আয়োজন করে থাকে। এ বছর আমরা সেই আয়োজনটি পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় করেছি। আমরা চাই, এই কার্নিভালের মাধ্যমে কুয়াকাটায় থাকা বিভিন্ন সম্ভাবনাময় স্থান দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে। আমরা মনে করি, এই কার্নিভাল উপলক্ষে কুয়াকাটার পর্যটনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে সামনে আনতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে নতুন পর্যটন আকর্ষণগুলো পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন খাতে সংশ্লিষ্টদের আগ্রহও বাড়তে পারে।

পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার চেষ্টা করছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে আরও সমৃদ্ধ করতে। সে লক্ষ্যেই আমরা এই কার্নিভালকে গুরুত্ব দিচ্ছি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ পর্যটকের আগমনকে সফল করতে চাই। কুয়াকাটায় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও এই উৎসব একটি বড় প্রচারমাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।  

বিষয় : কুয়াকাটা পর্যটক

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

আইন দর্পণ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল, বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা, বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ, লাল কাঁকড়ার বিচরণ, লেম্বুর বনের সবুজ প্রকৃতি, রাখাইন সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আর বৌদ্ধ মন্দিরের ঐতিহ্য– সব মিলিয়ে কুয়াকাটা যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক অনন্য ছবি। এই সাগরকন্যাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরতে দীর্ঘ ৯ বছর পর আয়োজন করা হচ্ছে ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল’। ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুদিনব্যাপী এ উৎসব উপলক্ষে নেওয়া হচ্ছে বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি।

সমুদ্রসৈকতে খেলাধুলা, বিচ ফুটবল, বিচ ক্রিকেট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত, ফ্যাশন শো, কমেডি, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, বিচ ম্যারাথন. চর বিজয় ভ্রমণসহ নানা আয়োজন থাকছে উৎসবে।

আয়োজকদের পরিকল্পনায় এবারের কার্নিভাল কেবল বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়; বরং কুয়াকাটাকে প্রকৃতি, ঐতিহ্য, স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি ও আধুনিক বিনোদনের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান, ঐশী, হাসান, আরমান আলিফ ও চিশতী বাউলের পরিবেশনা ঘিরে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। পাশাপাশি অভিনয়শিল্পী, উপস্থাপক, ফ্যাশন মডেল ও সামাজিক মাধ্যমের পরিচিত মুখদের অংশগ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

কার্নিভালকে কেন্দ্র করে আট শতাধিক পুলিশ সদস্য, আটটি চেক পয়েন্ট, চারটি পার্কিং জোন, স্বেচ্ছাসেবক, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্য এবং চারটি মেডিকেল টিমের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উৎসব কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুন করে পরিচিত করার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য কুয়াকাটা। পর্যটকদের কাছে এর সবচেয়ে বড় পরিচিতি একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ। তবে কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা শুধু সমুদ্রসৈকতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। লেম্বুর বন, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, রাখাইন পল্লি, বৌদ্ধ মন্দির, স্থানীয় খাবার, কৃষি ও জীবনধারা এ অঞ্চলের পর্যটনকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে। থাকছে নৃত্য পরিবেশনা, ফ্যাশন শো ও কমেডি অনুষ্ঠান। 

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক জানান, নিরাপত্তায় ৮০০ পুলিশ সদস্য, আটটি চেক পয়েন্ট, চারটি পার্কিং জোন, ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক, শতাধিক বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্য এবং চারটি মেডিকেল টিম রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা, যানজট নিরসন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. সামীমুজ্জামান বলেন, পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে সরকার প্রতিবছরই পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের আয়োজন করে থাকে। এ বছর আমরা সেই আয়োজনটি পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় করেছি। আমরা চাই, এই কার্নিভালের মাধ্যমে কুয়াকাটায় থাকা বিভিন্ন সম্ভাবনাময় স্থান দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে। আমরা মনে করি, এই কার্নিভাল উপলক্ষে কুয়াকাটার পর্যটনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে সামনে আনতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে নতুন পর্যটন আকর্ষণগুলো পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন খাতে সংশ্লিষ্টদের আগ্রহও বাড়তে পারে।

পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার চেষ্টা করছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে আরও সমৃদ্ধ করতে। সে লক্ষ্যেই আমরা এই কার্নিভালকে গুরুত্ব দিচ্ছি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ পর্যটকের আগমনকে সফল করতে চাই। কুয়াকাটায় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও এই উৎসব একটি বড় প্রচারমাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।  


আইন দর্পণ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: গোলাম মোস্তফা 

কপিরাইট © ২০২৬ আইন দর্পণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল, বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি
0:00 0:00
1.0x