ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
আইন দর্পণ

ভুয়া মামলা দিয়ে গাজীপুরে শতাধিক মানুষকে হয়রানির ঘটনায় লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আরিফুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শরীয়তপুরের সাবেক সিনিয়র সহকারী জজ (পরবর্তীতে চাকরির মেয়াদ জেলা ও দায়রা জজ) বর্তমানে লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা অনুযায়ী যথাক্রমে ‘অদক্ষতা’ ও ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও অনুসন্ধানের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট পরামর্শ দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

১৫ অক্টোবর ২০২৬ পড়ুন

নভেম্বরে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা হবে: বিমানমন্ত্রী

নভেম্বরের শুরুতেই কক্সবাজার আঞ্চলিক বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, আধুনিক টেকসই প্রতিযোগিতা মূলক পর্যটন খাত গড়ে তুলে বাংলাদেশকে পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলবে সরকার চায়।  শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।  তিনি বলেন, ‌বর্তমানে জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ২ থেকে ৩ শতাংশ। যা ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড চালু করা হয়। টেকসই পর্যটন, উদ্ভাবন, সেবার মান, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিটিবি ১৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করে।  সেই সাথে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হয়।  স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়।

চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। গত সোমবার বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে ঝড়-বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এতে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ফসলের খেতে পানি দিতে পারছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এরপর থেকে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
<span class='techtaranga_subtitle'>১ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি অনুমোদন নিয়ে আপত্তি, ছয় দিন পর তা প্রত্যাহার—শ্রমিক লীগের সাবেক নেতাদের অন্তর্ভুক্তি ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পদবঞ্চিতদের। / </span>বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক দলের কমিটি: পদ বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ, উঠেছে বাণিজ্যের অভিযোগ

১ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি অনুমোদন নিয়ে আপত্তি, ছয় দিন পর তা প্রত্যাহার—শ্রমিক লীগের সাবেক নেতাদের অন্তর্ভুক্তি ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পদবঞ্চিতদের। / বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক দলের কমিটি: পদ বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ, উঠেছে বাণিজ্যের অভিযোগ

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে চরম অস্থিরতা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে মাঠে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক লীগ’-এর পদধারী ব্যক্তিদের কমিটিতে পুনর্বাসন এবং এর নেপথ্যে বড় অঙ্কের ‘পদ বাণিজ্যের’ গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।সবচেয়ে বড় রহস্য তৈরি হয়েছে স্বয়ং সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের স্বাক্ষর নিয়ে। প্রথমে নিজের সইকে ‘অবৈধ ও বাতিল’ ঘোষণা করে জরুরি বিজ্ঞপ্তি এবং মাত্র ছয় দিনের মাথায় কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের ঘটনা সাংগঠনিক পরিমণ্ডলে নজিরবিহীন নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে।মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ-এর প্রধান কার্যালয় এবং সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও থমথমে পরিস্থিতি। সাধারণ কর্মচারীদের একাংশ এবং দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা এই কমিটিকে সরাসরি ‘পকেট কমিটি’ ও ‘সুবিধাবাদীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।কার্যালয়ের করিডোরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রবীণ কর্মচারী বলেন: "বিগত ১৫ বছর যারা হামলা, মামলা ও বরখাস্তের শিকার হয়ে বিআইডব্লিউটিএ থেকে বিতাড়িত ছিল, তাদের কোনো মূল্যায়ন নেই। অথচ বিগত সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী শ্রমিক লীগের সাবেক নেতারা রাতারাতি বনে গেছেন শ্রমিক দলের শীর্ষ কাণ্ডারি। এটা দলের তৃণমূলের পিঠে সরাসরি ছুরিকাঘাত।"সাধারণ শ্রমিকদের অভিযোগ, নতুন এই কমিটিকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির ভেতরে প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং যে কোনো সময় পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কমিটি অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াতেই রয়েছে বড় ধরনের নাটকীয়তা ও অসঙ্গতি। শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় প্যাডে গত ১ সেপ্টেম্বর সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিআইডব্লিউটিএ ইউনিট কমিটি অনুমোদনে তাঁর স্বাক্ষরের অপব্যবহার করা হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট স্বাক্ষরটি ‘বাতিল ও অকার্যকর’ বলে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে মাত্র ছয় দিনের মাথায়, অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বর আরেকটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগের বিজ্ঞপ্তিটি ‘প্রত্যাহার’ করে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সভাপতির এমন ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে সংগঠনের ভেতর নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে।কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিদের পূর্ববর্তী সাংগঠনিক পরিচয় ঘেঁটে দেখা যায়, বর্তমান কমিটির পদপ্রত্যাশী ও অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকজন অতীতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। পুরোনো নথিপত্র অনুযায়ী মাজহারুল ইসলাম, শাহিন উদ্দিন খান ও জিয়াদ উদ্দীন বিভিন্ন সময় শ্রমিক লীগের নানা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের সক্রিয় নেতাদের কোনো ধরনের সাংগঠনিক তদন্ত ছাড়াই রাতারাতি কীভাবে এই ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হলো, তা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ জুড়ে চলছে তীব্র সমালোচনা।এদিকে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে একটি মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই কমিটিতে পদ বাণিজ্য করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কিছু ব্যক্তিকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে এই অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাংকিং প্রমাণ প্রকাশ্যে না এলেও, সভাপতির স্বাক্ষরের বৈধতা নিয়ে সৃষ্ট নাটকীয়তা ও সমঝোতার গতিপ্রকৃতি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগকে আরও ঘনীভূত করেছে। ফলে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বশীল এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিআইডব্লিউটিএ ইউনিটের কমিটি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অবগত এবং বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১৭ অক্টোবর ২০২৬
আদালত থেকে বেরিয়ে আইভী বললেন, ‘জয় বাংলা’ দাবিয়ে রাখা যাবে না

আদালত থেকে বেরিয়ে আইভী বললেন, ‘জয় বাংলা’ দাবিয়ে রাখা যাবে না

গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রিকশাধালক তুহিন হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক সিটি মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভীর পুনর্জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ দেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে কড়া পুলিশি প্রহরায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পৌঁছান সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে তাকে দ্রুত আদালতকক্ষে নেওয়া হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও তার সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। শুনানিকালে আইভীর প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন আদালতে জানান, মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে পুলিশ বিস্ফোরকের কোনো আলামত কিংবা ঘটনার সঙ্গে আসামির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়নি। এছাড়া নোটিশ পাওয়ার পরও মামলার বাদী ও নিহত তুহিনের স্ত্রী আলেয়া আক্তার মিম আদালতে হাজির হননি। আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, এর আগেও এই মামলায় তার মক্কেল জামিনে ছিলেন। ফলে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ এবং তার ক্লায়েন্টের পুনরায় জামিন মঞ্জুরের জন্য তারা আবেদন জানান। অন্যদিকে, শুনানিতে জামিনের বিরোধিতা করেন নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাকির হোসেন। তিনি আদালতে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই জামিনের বিরুদ্ধে 'নারাজি পিটিশন' জমা দেওয়া হবে। তবে এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পিপি জাকির হোসেনের কাছে জানতে চান—ঠিক কোন আইনের ভিত্তিতে তিনি নারাজি পিটিশন দেবেন? উভয় পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ আইভীর পুনরায় জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। আইনি কার্যক্রম শেষে আদালত থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় সেলিনা হায়াৎ আইভী উচ্চস্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘জয় বাংলা, দাবিয়ে রাখা যাবে না।’ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৪ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে থাকা অন্য একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।

১৩ অক্টোবর ২০২৬
কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত, বিজিবির পাল্টা ফায়ার

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত, বিজিবির পাল্টা ফায়ার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সাজুল হোসেন (৩০) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাল্টা ফায়ার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জামালপুর সীমান্তের ১৫২/১০-এস নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাজুল হোসেন জামালপুর গ্রামের সাবাজ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে ঘাস কাটতে গেলে ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নার্সারি ক্যাম্পের টহলদল তাঁকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকালে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হন। ঘটনার পরপরই জামালপুর বিওপির বিজিবি টহলদল দ্রুত সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিজিবিও পাল্টা ফায়ার করে। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি রয়েছে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এদিকে, গুলিবিদ্ধ সাজুল হোসেনকে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোহিদ হাসান তুহিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি যাচাই করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

১০ অক্টোবর ২০২৬
কলকাতায় মারা গেলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন

কলকাতায় মারা গেলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান।  রোটনের মৃত্যুর বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন তার মামা তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী সুমন। তিনি জানান, রোটন কোলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মারা গেছেন।  এদিকে সকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসেও রোটনের মৃত্যুর খবর জানান।  ওই পোস্টে আমিনুল ইসলাম লেখেন, ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে রোটনের সঙ্গে তার পরিচয়। ১৯৯৬ সালের আন্দোলনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রামে একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতিও স্মরণ করেন তিনি। রোটনের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম আরও লেখেন, মুজিবাদর্শের কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেছিলেন রোটন। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হন এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। স্ট্যাটাসে রোটনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আমিনুল ইসলাম তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। গত ৪ অক্টোবর রাতে রোটনকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় অবস্থান করছিলেন তিনি। মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন। ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া রোটন পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় হন। চট্টগ্রামের রাউজানের এই রাজনীতিবিদ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্যও হন তিনি।

১০ অক্টোবর ২০২৬
বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মাহদীকে

বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মাহদীকে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। মাহদী নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আজ আমার ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে করে জ্যামাইকা যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইটটি ছিল রাত ৯.৩৫ মিনিটে। কিন্তু আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি।’ তার দাবি, সব মামলায় জামিনে থাকলেও তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। দেশের বাইরে যেতে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে আদালতের অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে চলে যান তিনি। 

০৯ অক্টোবর ২০২৬
বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে আখতারুজ্জামানের জামিন হয়নি: গোলাম পরওয়ার

বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে আখতারুজ্জামানের জামিন হয়নি: গোলাম পরওয়ার

বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।  মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমান বন্দরে অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনা সাধারণ কোনো বিষয় নয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী জায়গা থেকে নির্দেশনা ছাড়া এটি ঘটতে পারে না। আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগ দেওয়ার আক্রোশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিমান বন্দরের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, বিমান বন্দরে ট্রলি পাওয়া যায় না। লাগেজ পেতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হয়। জনাব আখতারুজ্জামান অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে পরে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দেওয়া জামিনযোগ্য মামলায় আদালতে তার জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে।  তিনি আরও বলেন, সরকারের মন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে জাতির সামনে সেদিনের ঘটনা নিয়ে অসত্য কথা বলে শপথ ভঙ্গ করেছেন। মন্ত্রী সৎ হলে অব্যবস্থাপনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন, তাদের প্রত্যাহার করতেন এবং মামলা দিতেন; কিন্তু মন্ত্রী তা করেননি। বরং অব্যবস্থাপনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা কর্মকর্তার দ্বারা আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য করা হয়েছে। আখতারুজ্জামান সমাজে একজন সম্মাননীয় ব্যক্তি। অথচ তাকে হাতকড়া, হেলমেট ও জ্যাকেট পড়িয়ে আদালতে আনা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামানকে ডিভিশন দেওয়া হয়নি। তিনি যে সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা- সে গেজেট আমরা আদালতে উপস্থাপন করেছি। তবুও তাকে ডিভিশন দেওয়া হয়নি। ৭৫ বছর বয়সী আখতারুজ্জামান অসুস্থ, কিন্তু তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। আমরা অবিলম্বে তার ডিভিশনের আদেশ কারাগারে পাঠানোর দাবি জানাচ্ছি। বিচারকরা ভয় পাচ্ছেন তাকে ডিভিশন দিলে তার কি না হয়, এর পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।  গোলাম পরওয়ার বলেন, আদালতে বিএনপি আইনজীবীরা মব সৃষ্টি করেছে। আখতারুজ্জামানের আইনজীবীদের উপর হামলা চালিয়েছে, আমাদের নেতাকর্মী ও আখতারুজ্জামানের আত্মীয়স্বজন যারা তাকে দেখতে গিয়েছিলেন, তাদের উপর হামলা করেছে। আমরা ধিক্কার জানাই আওয়ামী ফ্যাসিবাদী যুগে আদালতে যে দৃশ্য করা হতো, যে ঘটনা ঘটানো হতো, আমরা তারই পুনরাবৃ্ত্তি দেখতে পাচ্ছি। আচরণের দিক থেকে কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আর এখনকার বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ সারা দেশে হচ্ছে। প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দারুণভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে, প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে। তাকে মুক্তি না দিলে রেমিট্যান্স শাটডাউনের ঘোষণা দেবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তারা। এসব বিবেচনায় নিয়ে আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।  এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত।

০৫ অক্টোবর ২০২৬
দলীয় পরিচয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার কতটা কঠোর?

দলীয় পরিচয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার কতটা কঠোর?

একদিকে অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ও রাজনৈতিক পরিচয় না দেখার ঘোষণা, অন্যদিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানী ও আশপাশে দখল, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের একাধিক ঘটনা। এর কয়েকটিতে ক্ষমতাসীন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নাম আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা কঠোর হতে পারছে? মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও পরে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে জমি দখলের অভিযোগে হামলা, আদাবরে একটি ভবন দখলের চেষ্টা এবং ইসিবি চত্বরে একটি আবাসন প্রকল্প ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা ঘটে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। এর বাইরে সাভারের আশুলিয়ায় একটি মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় স্থানীয় বিএনপির এক নেতাসহ ৭৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম এসেছে, যদিও অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধের তদন্ত বা অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলছে কি না, সেই আলোচনাও সামনে এসেছে। একদিকে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা, অন্যদিকে সহিংসতা অব্যাহত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই। গত ১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একই নির্দেশ দিয়ে বলেন, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় হচ্ছে সে অপরাধী। তবে সেপ্টেম্বরের মানবাধিকার পরিস্থিতির পরিসংখ্যান বলছে, রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) হিসাবে, সেপ্টেম্বরে দেশে ৬৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় চারজন নিহত এবং ৫২৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ৩৫টি ঘটনায় একজন নিহত ও অন্তত ৩৪০ জন আহত হন। বিএনপি-জামায়াতের সাতটি সংঘর্ষে ৬১ জন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের ছয়টি ঘটনায় ৪২ জন আহত এবং একজন নিহত হন। জামায়াত-আওয়ামী লীগের দুটি ঘটনায় একজন নিহত হন। আগস্টে ৭০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় সাতজন নিহত ও ৫৩৬ জন আহত হয়েছিলেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, অন্তঃকোন্দল এবং চাঁদাবাজি এসব সংঘাতের অন্যতম কারণ। সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক, যৌথ ও বিশেষ অভিযানে ২৮৭টি ঘটনায় অন্তত ২১ হাজার ২০৮ জনকে গ্রেফতারের তথ্যও দিয়েছে এইচআরএসএস। একই মাসে ৩৫টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) পর্যবেক্ষণে সেপ্টেম্বরে ৬৫টি মব সহিংসতার ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৭৪ জন আহত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৭১টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার এবং কারা হেফাজতে ২৪ জনের মৃত্যুর তথ্যও দিয়েছে সংস্থাটি।  অপরাধ মোকাবিলায় তিন ধাপের পরিকল্পনা সহিংস অপরাধ, কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র ও ডিজিটাল জালিয়াতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত অপরাধের তথ্য পর্যালোচনা করে তিন ধাপের পরিকল্পনা তৈরি করেছে তারা। পুলিশের ওই পর্যালোচনা অনুযায়ী, দেশে বছরে গড়ে ৯ হাজার ১৭৮টি চুরি, ২ হাজার ৭৩৩টি ডাকাতি, ১ হাজার ৩৩৩টি ছিনতাই এবং ৪৪৫টি দস্যুতার মামলা হয়। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ব্যবহার করে ১ হাজার ১০৬টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে অপহরণের মামলা হয়েছে ৩ হাজার ১১২টি। পরিকল্পনার প্রথম ধাপে গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর টহল ও টার্গেটেড অভিযান, বডি ক্যামেরা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ৯৯৯ ও অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং জেলা ও মহানগরে সাইবার অপরাধ ইউনিট তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। তৃতীয় ধাপে অপরাধপ্রবণ এলাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল তদন্ত মনিটরিং ব্যবস্থা এবং থানার অপারেশন ও তদন্ত কার্যক্রম আলাদা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘সরকারদলীয় হলেও অপরাধ করলে আটক হবে’ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কতটা কঠোর এবং ক্ষমতাসীন দলের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুলিশের ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে অতিরিক্ত আইজিপি সাইদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশে অপরাধ নতুন নয় এবং অপরাধের ধরন ও মাত্রাও সমাজভেদে আলাদা। বাড়িঘর বা সম্পত্তি দখল, আক্রমণ কিংবা দলবদ্ধভাবে বেআইনি কর্মকাণ্ড, সবই প্রচলিত আইনে অপরাধ। তিনি বলেন, ‘আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সব সময়ই কঠোর। তবে সেই কঠোরতা যেন অমানবিক না হয় এবং মানবাধিকার যেন লঙ্ঘিত না হয়, সেটিও আমাদের দেখতে হয়।’ সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের নাম বিভিন্ন ঘটনায় আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ যখন বেআইনি বা জনশৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করে, তখন সে সরকারদলীয়, বিরোধীদলীয় বা নিরপেক্ষ, সেটা বিবেচনার সুযোগ পুলিশের নেই। অভিযোগ এলে পুলিশ তদন্ত করবে এবং তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারদলীয় বলে কাউকে ছাড় দেওয়ার বিধান আইনে নেই এবং পুলিশও তা করে না। সরকারদলীয় লোকজনকেও আটক করা হয়েছে। অপরাধ করলে তো আটক হবেই। সরকারদলের কোনো ব্যক্তিকে অপরাধ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যখন সরকারে থাকে, তখন সেই দলেরও দায়িত্ব থাকে নিজেদের নেতাকর্মীদের পরিষ্কার বার্তা দেওয়া যে উচ্ছৃঙ্খলতা বা বেআইনি কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান সরকারদলও তাদের নেতাকর্মীদের সেই বার্তা দিচ্ছে। আর পুলিশের ক্ষেত্রে এটি একটি স্থায়ী নীতি। কেউ বেআইনি কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমান সরকারও কোথাও পুলিশকে বলেনি যে তাদের দলের কোনো কর্মীকে ধরা যাবে না। রাড্ডার পর দৃশ্যমান দলীয় ব্যবস্থা মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের তিনটি কমিটি বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দলীয় বিজ্ঞপ্তিগুলোতে রাড্ডার ঘটনাকে সরাসরি এসব সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বহিষ্কারের ক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তার আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। রাড্ডার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। এসব ঘটনার বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজনের সঙ্গে সম্প্রতি আলাপকালে তারা জানিয়েছিলেন, এসব পদক্ষেপ কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া হচ্ছে না। এর উদ্দেশ্য সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করা। তাদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল বার্তা হলো, দলের নামে অপরাধ করে কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবিধা নিতে পারবেন না। তারা সেসময় আরও জানান, রাজনৈতিক পরিচয়কে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; এ বিষয়টি দল স্পষ্ট করতে চায়। একই সময়ে সরকারও যখন বলছে, কোনও অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না, তখন দলের সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় আইনের প্রয়োগও একই ধরনের কঠোর অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, এ মাসে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি হলেও কয়েকটি বিষয়ে অবনতি হয়েছে। মাসজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন-কেন্দ্রিক সহিংসতা, ক্যাম্পাসে সহিংসতা, গণপিটুনি ও মব সহিংসতা, কারাগারে মৃত্য, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতা, শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনার ধারাবাহিকতা রয়েছে। তবে এ মাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার, হয়রানি ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘটনার ধারাবাহিকতা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এসব বিষয় সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গত ৩০ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রকৃত কর্মীরা কখনও চাঁদাবাজি বা জমি দখলের সঙ্গে জড়িত হতে পারেন না। দলের নাম ব্যবহার করে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে, বিএনপি তাদের কাউকে ছাড়বে না। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান শনিবার (৩ অক্টোবর) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চেষ্টা করছেন। সরকারে থাকা দলের নাম ব্যবহার করে কিছু সুযোগসন্ধানী অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে যারা অপরাধে জড়িয়েছে, কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।’ শীর্ষ অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার কবে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জিরো টলারেন্সে নীতি গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’

০৪ অক্টোবর ২০২৬
বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার ক্ষোভে আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার, দাবি পরওয়ারের

বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার ক্ষোভে আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার, দাবি পরওয়ারের

বিমানবন্দরের ঘটনায় নয়, বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার ক্ষোভেই মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, আখতারুজ্জামানের দল পরিবর্তন বিএনপি সহ্য করতে পারছে না। সেই ক্ষোভ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। ‘সরকার কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ঠুনকো অজুহাতে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে’ এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগরী জামায়াত। সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জামায়াতের ৩৪ জন সংসদ সদস্য এবং দলের নেতারা বিদেশ সফর শেষে বিমানবন্দরে নেমে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জমজমের পানি ও লাগেজ পাননি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া নাগরিক অধিকার। আখতারুজ্জামান সেই অধিকার প্রয়োগ করেছেন। অথচ এ ঘটনায় মামলা করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়া ও লাঞ্ছিত করার যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সত্য নয় বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার, রিমান্ডের আদেশ বাতিল এবং তাঁর মুক্তি দাবি করেন তিনি। সরকারের আচরণে দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হচ্ছেন উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু প্রস্তুত হইতেছে। বিএনপি সরকারের যে আচরণ, তারা প্রস্তুতি নিতেছে আপনাদের বিরুদ্ধে, সামলাইতে পারবেন না।’ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রীও তাঁর দলের মন্ত্রী-এমপিদের সুরে জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন উল্লেখ করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, তিনি জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলছেন। ৪–দলীয়, ১৮–দলীয়, ২০–দলীয় জোটের নেতা হিসেবে খালেদা জিয়া যখন জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তখন তাদের গুপ্ত মনে হয়নি। খালেদা জিয়া কর্মসূচি দিয়েছেন, মাঠে ছিল জামায়াত–শিবির। প্রধানমন্ত্রী এখন তাদের গুপ্ত বলেন, তখন তিনি ছিলেন লন্ডনে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে গুপ্ত, গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধী বলার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থানকেই শক্তিশালী করা হচ্ছে। এ সময় দিল্লির সঙ্গে বিএনপির গোপন কোনো সংযোগ হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন। বিএনপির কোনো কোনো সংসদ সদস্যের জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁদের বক্তব্যে শেখ হাসিনার সুর শোনা যাচ্ছে। এর অর্থ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে শুধু নামের পার্থক্য, চরিত্র এক। একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, সে সময় জামায়াতের যাঁরা রাজনীতি করতেন, তাঁরা অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। তবে তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামী কখনো গণহত্যা বা ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হয়নি। একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতার সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রেম তো আর একতরফা হয় না, আমরাই খালি ভালোবাসব, আপনি মোটে ভালোবাসবেন না।…একাত্তরের ন্যারেটিভ তৈরি করে জাতিকে বিভক্ত করে হাসিনার পথে হাঁটবেন, আর আমি আপনাকে সহযোগিতা করব, জামায়াতে ইসলামী রাজনীতিকে এত ইমম্যাচিউরড নয়, এত অপরিপক্ব নয়।’ বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ এবং ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ষড়যন্ত্র বানচাল করার আহ্বানও জানান জামায়াত সেক্রেটারি। সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ঢাকার জন্য মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্রুত মামলা প্রত্যাহার করে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন, ঢাকা উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত ও ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট মোড় প্রদক্ষিণ করে মৎস্য ভবন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

০৩ অক্টোবর ২০২৬
উত্তরায় সাবেক এমপি শওকত হাসানুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার ১৪ আসামি রিমান্ড শেষে কারাগারে

উত্তরায় সাবেক এমপি শওকত হাসানুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার ১৪ আসামি রিমান্ড শেষে কারাগারে

বরগুনার সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমানের (রিমন) ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে গ্রেপ্তার ১৪ আসামির রিমান্ড শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরা এলাকায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ জনের পৃথক মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সেদিন ১৪ আসামিকে তিন দিন ও ফারজানা (২১) নামের এক আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার কারাগারে যাওয়া ১৪ আসামি হলেন মো. ইয়াকুব হোসাইন (২৬), আরাফাত মিয়া (২২), রিফাত হাওলাদার (১৯), হৃদয় হাসান (২১), ফাহিম (১৯), রাজিব হোসেন (২৪), মো. ফিরোজ (২৬), মো. আরিফ (২৮), মো. ওমর ফারুক (২১), আবদুল্লাহ আল আমান (১৯), মো. আবদুল্লাহ আল নোমান (২১), মো. সোহানুর হোসেন শাহীন (২২), মো. হাসিব (১৯) ও মো. হাসিব মিয়া (২৩)। এদিন তাঁদেরকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক ইকবাল হোসেন তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপর দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ১১ জনের পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার বিবরণে বলা হয়, রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এই সংবাদ পেয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রুমের ভেতর থেকে আসামিদের আটক করেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা ২০–২২ জন আসামি কৌশলে পালিয়ে যান। মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, তল্লাশি করে রুমের টেবিলের ড্রয়ারের ভেতর থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিরা ইউনিয়ন কমিটির পদপ্রার্থী ২০ জনের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত লেখা ২০টি পাতা জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠন উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সদস্য বলে জানায়। এ ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা হয়।

০৩ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান ইনকিলাব মঞ্চের

জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান ইনকিলাব মঞ্চের

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে শরিফ ওসমান হাদি বলেন, বিএনপি অসহযোগিতা করলে তাদের জাতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জামায়াত অসহযোগিতা করলে জবাবদিহি করতে হবে তাদেরও। এই সরকারের মেয়াদ হবে ১০ মাস থেকে এক বছর। যদি জাতীয় সরকার না করতে পারেন তাহলে জাতীয় ঐক্য কাউন্সিল গড়ে তোলেন। জাতীয় ঐক্য কাউন্সিল প্রধান হবেন ড. ইউনূস। সব রাজনৈতিক দল থেকে সেখানে প্রতিনিধি থাকবে সদস্য হিসাবে। তাদের সাংবিধানিক মর্যাদা হবে ক্যাবিনেট মন্ত্রী পরিষদের মতো। তারা মন্ত্রী হবেন না, উপদেষ্টা হবেন না কিন্তু ওয়াচডগ হিসাবে কাজ করবেন।জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্রের কার্যক্রম না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে কোনো লাভ নেই। যদি জুলাই ঘোষণাপত্র না আসে, যারা জুলাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দিল্লির সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগ তাদের কচুকাটা করবে। জুলাই ঘোষণাপত্র সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেলেই আওয়ামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবে।

০২ মে ২০২৫
“

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাবাকে ফোনে যা বলেছিলেন সুইটি

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে অনৈতিক কাজ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করার পর দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড সম্প্রতি কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ১৪ অক্টোবর (গত বুধবার) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)। যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তারা হলেন- নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার। সৌদির আরবে দুই প্রবাসী মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের পর থেকে বাংলাদেশে এ বিষয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ করছেন। সুইটির গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামে। তার পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান তিনি। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। পরে ফোন করে বাড়িতে জানান তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিলেন। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। তারা জানতে পেরেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সুইটিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং সম্প্রতি তা কার্যকরও করেছে। সুইটির বাবা ফজল মিয়া বিছানায় শুয়ে রয়েছেন। মা পরিবারের কাজ করছেন। সুইটির বাবা দিন মজুরের কাজ করেন। ফজল মিয়ার ৫ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটি। ৪ বছর আগে ধার-দেনা করে মেয়েকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন। ফজল মিয়া বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। এজন্য দেড় লাখ টাকা ধার করেছিলাম। প্রথম ৫ মাস সে বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিল। পরে একদিন ফোন করে জেলে যাওয়ার খবর জানায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুইটি জানিয়েছিল, মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছে। এরপর এক বছর সুইটির খোঁজ পাননি। ১৫ দিন আগে আবার একদিন মেয়ে জেল থেকে ফোন করে। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি। শেষদিকে ফোনে জানিয়েছিল দুই মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেতে পারে।’ তবে, দুদিন আগে তারা জানতে পারেন যে সৌদি সরকার সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। যদিও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু জানানো হয়নি। ফজল বলেন, ‘আমার মেয়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে আমরা জানি না। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে তাও আমরা জানি না। আমরা শুধু মানুষের কাছে উড়ো খবর শুনেছি।’ সুইটির মা জহুরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সুইটির বিয়ে হয়েছিল প্রায় ছয় বছর আগে। প্রায় দুই সপ্তাহ যাবত আমার মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। ১৫ দিন আগে ফোন করে জানিয়েছিল, সে দুই মাস পর বাড়ি ফিরবে। আমার মেয়ে সুইটির কী হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পরিষ্কার করে কিছু জানি না। তবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাই, আমার মেয়ের কী হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। জীবিত হোক, মৃত হোক আমি আমার মেয়েকে চাই।’ স্থানীয় মহেরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সুইটির বিষয়ে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

২০ অক্টোবর ২০২৬
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

বিমানে পাশাপাশি সিটে শাকিব-মিথিলা, গেলেন কোথায়?

বিমানের সিটে পাশাপাশি বসে আছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ তারকা শাকিব খান ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জুটির একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ার পরই ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগে—হঠাৎ একসঙ্গে কোথায় রওনা হলেন তারা? ভক্তদের সেই কৌতূহলের অবসান ঘটেছে মিথিলার একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমেই। জানা গেছে, কোনো নতুন সিনেমার শুটিংয়ের জন্য নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই ঢাকা ছেড়েছেন এই দুই তারকা। ইতোমধ্যে তারা নিরাপদে নিউইয়র্কেও পৌঁছে গেছেন। ফেসবুক পোস্টে বিমান ভ্রমণের ছবির পাশাপাশি ইভেন্টের অফিশিয়াল পোস্টারও শেয়ার করেন এই মডেল ও অভিনেত্রী। ছবিগুলোর ক্যাপশনে মিথিলা লেখেন, ‘আগুন আর এলিনা আসছে ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডে, দেখা হচ্ছে নিউইয়র্কে!’   প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ‘রকস্টার’ সিনেমায় শাকিব খানের চরিত্রের নাম ছিল ‘আগুন’ এবং মিথিলা অভিনয় করেছিলেন ‘এলিনা’ চরিত্রে। সেই সিনেমার চরিত্র দুটির নাম উল্লেখ করেই একসঙ্গেই দুই তারকা নিউইয়র্ক যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আগামী ১০ অক্টোবর নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটির এভাঞ্জেল চার্চ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। শোটাইম মিউজিকের আয়োজনে জমকালো এই অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শাকিব খান। একই মঞ্চে দেখা যাবে তানজিয়া জামান মিথিলাকেও।

এখনই
বিচারক আরিফুল ইসলাম বরখাস্ত
প্রিমিয়ার লিগেও সেরার মুকুট পরলেন সালাহ

প্রিমিয়ার লিগেও সেরার মুকুট পরলেন সালাহ

লিভারপুলের শিরোপা জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রেখে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেন মোহামেদ সালাহ। এর আগে ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভোটে ইংলিশ ফুটবলের বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়েছেন এই মিসরীয় ফরোয়ার্ড।২০২৪-২৫ প্রিমিয়ার লিগের এখনো শেষ রাউন্ড বাকি। তবে এর আগেই শনিবার (২৪ মে) মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় হিসাবে সালাহর নাম জানিয়ে দিল লিগ কর্তৃপক্ষ।নতুন কোচ আর্নে স্লটের অধীনে এবার চার ম্যাচ বাকি থাকতে প্রিমিয়ার লিগের রাজত্ব পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করে লিভারপুল। দলের সাফল্যে নিয়মিত গোল করে এবং করিয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন সালাহ। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৮ গোল করার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ১৮টি গোল বানিয়ে দিয়েছেন তিনি।রোববার (২৫ মে) মৌসুমের শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে ক্রিস্টাল প্যালেসের মুখোমুখি হবে লিভারপুল। শেষ রাউন্ডে নাটকীয় কিছু না হলে চতুর্থবার গোল্ডেন বুট জিতে আর্সেনাল কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরির রেকর্ড স্পর্শ করবেন সালাহ।

কোন পোস্ট নেই !
কোন পোস্ট নেই !
লাঠি-বৈঠা নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ২

লাঠি-বৈঠা নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ২

গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, রায় বাতিল ও রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বৈঠা ও লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তবে মিছিলের পরপরই অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসেনপুর গ্রামের ভূঁইয়া ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক ঘুরে হরি এলাকার ভূঁইয়া বাড়ির সামনে গিয়ে শেষ হয়। ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাসান তূর্ণের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সংগঠক ও সাবেক ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন মণ্ডল। মিছিল শেষে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও দেন। এছাড়াও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও রাকিব মণ্ডল প্রমুখ মিছিলে অংশ নেন। এদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে মিছিল বের করার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় দুজনকে গ্রেপটার করা হয়। তারা হলেন—ঈশ্বরগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল-মাসুদ (৩০) ও ছাত্রলীগকর্মী মো. সজিব মিয়া (২০)। তারা ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন জানান, মিছিলের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে অন্যদের আইনের আওতায় আনা হবে।

আইনজীবী তালিকাভুক্তির বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে বার কাউন্সিল, কবে বাস্তবায়ন

আইনজীবী তালিকাভুক্তির বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে বার কাউন্সিল, কবে বাস্তবায়ন

আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বার কাউন্সিলের গত ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত কাউন্সিল সভায় আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বর্তমানে এলএলবি অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের তারিখ ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখ থেকে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির আবেদন গ্রহণ, প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই এবং তালিকাভুক্তিসংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রমে সর্বোচ্চ বয়সসীমার বিধান অনুসরণ করা হবে।

ঘুষ দাবির অভিযোগে পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

ঘুষ দাবির অভিযোগে আল মামুন নামে ঢাকার ধামরাই থানার এক এএসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিন পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটকের পর তাঁর পরিবারের কাছে ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠে ওই এএসআইর বিরুদ্ধে।  মঙ্গলবার প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান। তিনি বলেন, ওই পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বদলি করা হয়েছে। তবে কী অভিযোগে এই বদলি করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। জানা গেছে, সম্প্রতি ধামরাইয়ের সানোড়া ইউনিয়নের দ্বিতীয় মহিষাশী এলাকার হান্নান মৃধা নামে এক ব্যক্তিকে তিন পিস ইয়াবাসহ আটক করেন ধামরাই থানার এএসআই আল মামুন। হান্নান মৃধার পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর হান্নান মৃধাকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক দেখিয়ে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন এএসআই আল মামুন। তাঁকে ছেড়ে দিতে তাঁর স্ত্রীর কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় তাঁকে। তবে তিনি এরপর আরও ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ হয়ে যায়। এরই জেরে গত সোমবার রাতে এএসআই আল মামুনকে প্রত্যাহার করা হয়। ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান জানান, তিনি এ বিষয়ে কোনো লিখিত আদেশ পাননি। মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে ওই পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাঁকে ক্লোজড করা হয়েছে, নাকি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তা আদেশ পেলে বুঝতে পারবেন। অভিযোগের বিষয়টিও তাঁকে স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।

ঘুষ দাবির অভিযোগে পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তিন নেতা ঢাকায় গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজন পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং একজন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। গতকাল সোমবার বিকেল চারটার দিকে মোহাম্মদপুরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জুয়েল রানা এই তথ্য জানান। পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবুল কালাম আজাদ (৬১), মোখলেসুর রহমান (৬৪) ও শহিদুল ইসলাম (৬৩)। আবুল কালাম আজাদ ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র। মোখলেসুর রহমান একই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। শহিদুল ইসলাম আটঘরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল রানা বলেন, গ্রেপ্তার তিনজন দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ রেখে ঢাকায় দলীয় কার্যক্রম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাটটিতে অবস্থান করছিলেন। তিনজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তিন নেতা ঢাকায় গ্রেপ্তার

অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির ক্লোজড

রাজধানীর ভাটারা এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) অভিযান চালায়। এতে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়। এই ঘটনার পর অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে ক্লোজড করা হয়েছে। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযান চলে পরদিন দুপুর পর্যন্ত। মঙ্গলবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ নির্দেশনা (ক্লোজড) অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে। অফিস আদেশে বলা হয়- পুলিশ সদর দফতরের রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির ক্লোজড
বাজারে আসার পরপরই আইফোন ১৮ প্রোর রং বদলে যাওয়ার অভিযোগ

বাজারে আসার পরপরই আইফোন ১৮ প্রোর রং বদলে যাওয়ার অভিযোগ

বাজারে আসার এক মাসও পার হয়নি। এর মধ্যেই আইফোন ১৮ প্রো-এর রং বদলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবহারকারী। তাদের দাবি, নতুন ফোনের পেছনের ক্যামেরার আশপাশের অংশে রঙের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ ফোনটি অ্যাপলের কাছে ফেরত পাঠিয়ে অর্থ ফেরতও চেয়েছেন। আইফোন ১৮ প্রো-এর রঙের জন্য অ্যানোডাইজড অ্যালুমিনিয়ামে ডাইং প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ধাতুর হানিকম্ব কাঠামোর ভেতরে রঙের পিগমেন্ট প্রবেশ করে, যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা। তবে ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, কালো ও বেগুনি রঙের মডেলগুলোতে ইতোমধ্যে পেছনের ক্যামেরার আশপাশে রঙের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রেডিটে এক ব্যবহারকারী নিজের ফোনের ছবি দিয়ে জানান, ক্যামেরার লেন্সগুলোর চারপাশের অংশ পাশের ক্যামেরা হাউজিংয়ের তুলনায় কিছুটা হালকা বা গোলাপি দেখাচ্ছে। ফোনে কোনও তেল, ময়লা বা অন্য কোনও অবশিষ্টাংশ নেই এবং জায়গাটি ভালোভাবে পরিষ্কার করার পরও সমস্যাটি থেকে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। ফোনে কোনও আঁচড়, দাগ বা শারীরিক ক্ষতির চিহ্নও নেই বলে জানান ওই ব্যবহারকারী। ওই পোস্টের পর একই ধরনের সমস্যার কথা জানান আরও কয়েকজন আইফোন ব্যবহারকারী। একজন জানান, তিনি পরদিন অ্যাপলে গিয়ে ফোনটি পরিষ্কার কালো মডেল দিয়ে বদলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন অথবা গ্লেসিয়ার মডেলে পরিবর্তন করবেন। আরেকজন জানান, তার ফোনও একই সমস্যায় আক্রান্ত এবং সেটি ইতোমধ্যে অ্যাপলের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্য একজন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীও একই সমস্যার কথা জানান। তবে রুপালি ও হালকা নীল গ্লেসিয়ার মডেল ব্যবহারকারীরা এ ধরনের সমস্যার কথা জানাননি। অনেক অ্যাপল ব্যবহারকারীর ধারণা, ক্যামেরার লেন্সের চারপাশের রঙের পরিবর্তন আসলে ধুলা বা তেল জমার কারণে হতে পারে। তবে যাদের ফোনে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাদের দাবি, বারবার পরিষ্কার করেও এটি দূর হচ্ছে না। এর আগে আইফোনের প্রো মডেলে রঙ পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছিল। গত বছর উজ্জ্বল ‘কসমিক অরেঞ্জ’ রঙের আইফোন ১৭ প্রো গোলাপি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন ব্যবহারকারীরা। ফোনের ফ্রেম পরিষ্কার করার রাসায়নিক বা হাতের অবশিষ্টাংশের সংস্পর্শে এলে অক্সিডেশনের কারণে ওই সমস্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। রঙিন অ্যালুমিনিয়ামে সহজে আঁচড় পড়ে নিচের ধাতব অংশ দেখা যাওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। তবে নতুন আইফোন ১৮ প্রো-এর ক্ষেত্রে এ ধরনের আঁচড়ের সমস্যা এখনও সামনে আসেনি। বাইরের দিক থেকে আইফোন ১৮ প্রো আগের মডেলের মতো দেখতে হলেও ভেতরে ক্যামেরা, পারফরম্যান্স, ব্যাটারি ও এআই-সংক্রান্ত বেশ কিছু উন্নয়ন রয়েছে। নতুন মডেলে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে। পাশাপাশি ফটোগ্রাফিক স্টাইল ও ভিডিও সক্ষমতায় উন্নয়ন আনা হয়েছে। আইফোন ১৮ প্রো-এর দাম ১ হাজার ১৯৯ পাউন্ড বা ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ১ হাজার ২৯৯ পাউন্ড বা ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এগুলো অ্যাপলের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি নন-ফোল্ডিং স্মার্টফোন। সূত্র: ডেইলি মেইল

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...