আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে পাশে থাকা মিত্র দলগুলোর ক্ষোভ ও দূরত্ব ঘোচাতে নেতাদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলগুলোর নেতারা তাঁদের ক্ষোভের পাশাপাশি প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রধানের কাছে। জানিয়েছেন সরকারের অংশীদার হওয়ার দাবি। প্রধানমন্ত্রী সেগুলো ধৈর্যসহকারে শুনেছেন, আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু মিত্রদের এই বাড়তি প্রত্যাশা সামলানো এবং জোটের মূল শক্তিগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রধানমন্ত্রীর জন্য বেশ কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গত সোমবার রাতে হয়েছে ওই নৈশভোজ এবং আলোচনা। এই আয়োজনে ৪১টি শরিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। নৈশভোজে অংশ নেওয়া একাধিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা আন্দোলন-সংগ্রামের পর ক্ষমতার সমীকরণে গিয়ে শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। যমুনার ওই আয়োজনে নেতারা খোলামেলাভাবেই নিজেদের অবহেলার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। শরিকদের অভিযোগ, দুর্দিনের সঙ্গীদের সরিয়ে রেখে বিএনপির মধ্যে একাকী পথচলার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল, যা রাজনীতিতে ভুল বার্তা দিচ্ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শরিকদের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে প্রাপ্য মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায়। এ লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি দুই মাস পর শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। নৈশভোজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলাম—আপনাদের এই ডাক কি ফেয়ারওয়েল ডিনার, নাকি নতুন কোনো যাত্রার সূচনা? জবাবে উনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এটি কোনো বিদায়ী আয়োজন নয়, বরং আমাদের ওয়েলকামিং ডিনার। এখান থেকেই নতুন করে পথচলা শুরু।’ সাইফুল হক আরও বলেন, ‘দুর্দিনে যারা পাশে ছিল, তাদের সঙ্গে নিয়ে চলার শৈলীটি বিএনপি নেতৃত্বের রপ্ত করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক ছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যে অধিকাংশ দলই আশ্বস্ত হতে পেরেছে বলে মনে করি।’ একই সুর পাওয়া গেছে আরও কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে। ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে সুদৃঢ় করতে এই আয়োজন বড় ভূমিকা রাখবে। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিনের রাজপথের বন্ধুদের মধ্যে যে মান-অভিমান তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই অবসান ঘটেছে এই পুনর্মিলনীর মাধ্যমে। তবে এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেও রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র উঠে এসেছে শরিক নেতাদের অনেকের কথায়। কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা শরিকদের জমে থাকা ক্ষোভ-হতাশা কিছুটা প্রশমিত হলেও দুর্দিনের সঙ্গীদের সঠিক মূল্যায়ন, চাটুকারিতা এড়িয়ে চলা এবং শরিকদের প্রত্যাশা সামলে ঐক্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বিএনপির নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে সামনের দিনে। কেননা, নৈশভোজে অংশ নেওয়া কোনো কোনো শরিক দলের চাওয়া-পাওয়া বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি। রাজপথে যাদের উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান বা সাংগঠনিক সামর্থ্য নেই, তারাও অবাস্তব পদ-পদবির আবদার করছেন। বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। তৎকালীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে ওই দলের হয়ে তিনিও আমন্ত্রণ পান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে। তাঁর মতো আরও অনেকে আমন্ত্রণ পান। সৈয়দ এহসানুল হুদা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শরিকদের সঙ্গে দূরত্বের যে আভাস ছিল, আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সেই দূরত্ব কমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায় সবাই আশ্বস্ত হয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পথচলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শরিকদের মূল্যায়নের বিষয়েও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।’
২২ জুলাই ২০২৬ পড়ুনমেসির বারবার পেনাল্টি মিসের পেছনে যে কারণ
২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির পেনাল্টি যেন হয়ে গেছে অরণ্যে রোদন, সব যেন নিষ্ফল চেষ্টা। ২ বার পেনাল্টি নিয়ে দুই বারই পেনাল্টি মিস করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অথচ আগের আসরেই মেসি পেনাল্টি থেকে করেছিলেন ৪ গোল, শ্যুট আউট যোগ করলে পেনাল্টিতে স্কোর করেছিলেন ৬ বার। সেবার মেসি খুবই বুদ্ধিদীপ্ত এক কৌশল ব্যবহার করতেন। তিনি গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতেন, সঠিক সময়ে শট নিতেন এবং মানসিকভাবে থাকতেন শান্ত। মূলত তিনি দুই ধরনের শট নিতেন। একটি ছিল চতুর সাইড ফুট শট, যেখানে তিনি গোলরক্ষককে ভালোভাবে লক্ষ্য করে বিপরীত দিকে শট নিতেন। আরেকটি ছিল শক্তিশালী ইনস্টেপ শট, যেখানে গতিই ছিল আসল অস্ত্র। দৌড় শুরুর সময় মেসি ছোট ছোট পা ফেলতেন। এতে তিনি নিজের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন। পাশাপাশি গোলরক্ষকের নড়াচড়াও ভালোভাবে বুঝতে পারতেন। বল না দেখে তিনি চোখ রাখতেন গোলরক্ষকের দিকে। গোলরক্ষক কোন দিকে ঝুঁকছেন, সেটাই বোঝার চেষ্টা করতেন তিনি। গোলরক্ষক একবার দিক ঠিক করে ফেললে, মেসি আলতো করে বল পাঠিয়ে দিতেন উল্টো দিকের ফাঁকা কোণে। এই ধরনের শটের গতি সাধারণত থাকত ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে। এখানে শক্তির চেয়ে নিখুঁত নিশানাই ছিল আসল ব্যাপার। সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের বিপক্ষে এই কৌশলে গোল করেছেন তিনি। তবে গোলরক্ষক যদি স্থির দাঁড়িয়ে থাকতেন বা তার এই কৌশল ধরে ফেলতেন, তখন মেসি ভিন্ন পথে হাঁটতেন। সেই সময় তিনি সোজা পথে দৌড় শুরু করতেন। গোলরক্ষকের দিকে না তাকিয়ে তিনি চোখ রাখতেন বলের দিকে। এতে বলে ঠিকভাবে পা লাগানো সম্ভব হতো। এরপর তিনি জোরালো শট নিতেন। সেই শটের গতি অনেক সময় ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে যেত এবং তা গিয়ে লাগত গোলবারের ওপরের কোণে। এত দ্রুতগতির শট হওয়ায় গোলরক্ষক সঠিক দিকে ঝাঁপ দিলেও কিছুই করার থাকত না তার। এই পদ্ধতির শটে অবশ্য সফলতার হার ৫০ শতাংশ ছিল, তিনি পোল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যর্থ হলেও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সফল হয়েছিলেন। ২০২২ বিশ্বকাপের ২ কৌশলের প্রথমটির ব্যবহার এবারের বিশ্বকাপে করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অস্ট্রিয়া ও মিশর দুই দলের বিপক্ষেই পেনাল্টি নিয়েছেন বেশ জোরের ওপর, প্রথমটি বারের ওপর দিয়ে গেছে, দ্বিতীয়টি হয়েছে সেভ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ওই প্রথম কৌশল ব্যবহার না করার ফলেই পেনাল্টি থেকে এভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন মেসি।
চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক
লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। গত সোমবার বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে ঝড়-বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এতে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ফসলের খেতে পানি দিতে পারছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এরপর থেকে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
তিস্তাপারে আলোর মিছিল
প্রধানমন্ত্রীর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল করেছে ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’। বুধবার সন্ধ্যায় তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলার বিভিন্ন স্থানে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল বের করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই সময়ে গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তাতীরবর্তী আট স্থানে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। নীলফামারীর জলঢাকার শৈলমারী ও বানপাড়া; কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বুড়িরহাট ও উলিপুরের হোকোডাঙা; রংপুরের গঙ্গাচড়া এবং তিস্তাতীরবর্তী অন্যান্য এলাকায়ও গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তবে তিস্তাপারের মানুষ আর নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, প্রকল্পটির দ্রুত একনেক অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি দেখতে চায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’ সমাবেশ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা; অভিজ্ঞ নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং তিস্তা আন্দোলনের প্রতিনিধি সমন্বয়ে ‘তিস্তা কর্তৃপক্ষ’ গঠন; দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ; সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘তিস্তা বন্ড’ চালু; ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
মিয়ানমারের রাখাইনে বিমান বিস্ফোরণের শব্দ, সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি
মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর মুহুর্মুহু বিমান হামলায় কেঁপে উঠছে টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের কঠোর পাহারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে ক্ষমতাসীন সরকারি জান্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) লড়াই এখন চরম আকার ধারণ করেছে। আরাকান আর্মির বিভিন্ন অবস্থানকে লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী যুদ্ধবিমান থেকে অনবরত ও তীব্র বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল রাতভর মংডু সীমান্তে যুদ্ধবিমান থেকে ছিটকে আসা একের পর এক শক্তিশালী বোমার বিকট শব্দ এবং গোলাবর্ষণের তীব্র আওয়াজে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্ত এলাকাগুলো। ওপারে এই সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর নতুন করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢোকার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভুত এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে নাফ নদীসহ পুরো সীমান্তজুড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ডের টহল তৎপরতা বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, হ্নীলা, হোয়াইক্যং এবং নেটংপাড়া সীমান্ত এলাকাগুলোতে সরেজমিনে এক থমথমে ও থমকে যাওয়া পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। থমথমে অবস্থার কারণে সীমান্তে স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে। নাফ নদীতে নিয়োজিত স্থানীয় জেলেরা অত্যন্ত সতর্কতা ও ভয়ের সঙ্গে মাছ ধরার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সীমান্ত নিরাপত্তার খাতিরে পুরো এলাকাজুড়ে বিজিবি এবং কোস্টগার্ডের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ও কঠোর টহল দিতে দেখা গেছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, রাখাইন রাজ্যের বর্তমান রাজধানী সিত্তে (আকিয়াব) এলাকা থেকে জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে উড়ে আসছে। এরপর সেখান থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মংডু এলাকায় আরাকান আর্মির ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে আবার ঘাঁটিতে ফিরে যাচ্ছে। প্রতিটি হামলার সময় একসঙ্গে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি অতি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এসব বোমা বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি যে নাফ নদীর এপারে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি পর্যন্ত তীব্রভাবে কেঁপে উঠছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে মংডু টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর এই তীব্র বিমান হামলা শুরু হয়। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত চলা টানা দুই ঘণ্টার এই অভিযানে দুটি যুদ্ধবিমান থেকে অন্তত ২৭ বার বোমাবর্ষণ ও হামলা চালানো হয়েছে। জান্তা বাহিনীর এই আক্রমণের মুখে আরাকান আর্মিও বসে থাকেনি, তারাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে জবাব দিয়েছে। টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দারা ওপারে ঘটা এই যুদ্ধের আগুনের তীব্র ঝলকানি এবং বিকট বিস্ফোরণের শব্দ স্পষ্টভাবে দেখতে ও শুনতে পেয়েছেন। এই বিষয়ে উখিয়া-৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গতকাল রাতের বেলা রাখাইনের ভেতরে তীব্র বিমান হামলার বিকট শব্দ শোনা গেলেও আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নতুন করে তেমন কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি। সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। ওপার থেকে কোনোভাবেই যেন নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটতে না পারে, সে জন্য নাফ নদীতে অতিরিক্ত টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে। আজ বিকেল পর্যন্ত বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো গুলি এসে পড়ার বা কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। এদিকে সবրան্দ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান এবং হোয়াইক্যং ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল চৌধুরী একই ধরণের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ওপারের সংঘাত যদি সামনের দিনগুলোতে আরও বৃদ্ধি পায়, তবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দলে দলে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করার মরিয়া চেষ্টা চালাতে পারে। উখিয়া এলাকার একটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের অন্যতম নেতা মো. জুবায়েরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর এই ভয়াবহ বিমান হামলায় অসংখ্য ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে এবং কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। একই সময়ে আকাশপথের পাশাপাশি স্থলপথেও আরাকান আর্মির সঙ্গে আরও তিনটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর তুমুল সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বহুমুখী এই সংঘর্ষের কারণে রাখাইনের সার্বিক পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র হলে এই বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ কোনো উপায় না পেয়ে আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হতে পারে বলে তিনি বড় ধরণের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পরিসংখ্যান ও পূর্বের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ ১১ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুথিডং এবং রাথেডংসহ প্রায় ৮০ শতাংশ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় আরাকান আর্মি। বর্তমানে শুধুমাত্র রাজধানী সিত্তে এলাকাটি মিয়ানমারের সরকারি জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সীমান্ত সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মংডু অভিমুখে পরিচালিত সবকটি বিমান হামলা মূলত এই সিত্তে রাজধানী থেকেই নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা হচ্ছে। মিয়ানমারভিত্তিক বেশ কয়েকটি স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গতকাল বুথিডং টাউনশিপের একটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং সেখানে অন্তত ১০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগেও গত ১৭ এবং ২৪ জুন মংডু ও কিয়াউকতাও এলাকায় পৃথক দুটি বিমান হামলা চালিয়েছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী, যেখানে বেশ কিছু সাধারণ নাগরিক হতাহত হন। সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া স্পষ্ট করে বলেছেন, সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের শিথিলতা না রেখে নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সুর শোনা গেছে স্থানীয় প্রশাসনের কণ্ঠেও। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী জানিয়েছেন, আজ দিনভর সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত ছিল। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন
০৩ জুলাই ২০২৬বোমা ভেবে আতঙ্ক, পুলিশ গিয়ে পেল মিউজিক ডিভাইস
০৩ জুলাই ২০২৬
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক
লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। গত সোমবার বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে ঝড়-বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এতে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ফসলের খেতে পানি দিতে পারছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এরপর থেকে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক
লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। গত সোমবার বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে ঝড়-বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এতে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ফসলের খেতে পানি দিতে পারছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এরপর থেকে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক
লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। গত সোমবার বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে ঝড়-বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এতে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ফসলের খেতে পানি দিতে পারছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এরপর থেকে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।