ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
আইন দর্পণ

মেসির বারবার পেনাল্টি মিসের পেছনে যে কারণ



মেসির বারবার পেনাল্টি মিসের পেছনে যে কারণ
সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির পেনাল্টি যেন হয়ে গেছে অরণ্যে রোদন, সব যেন নিষ্ফল চেষ্টা। ২ বার পেনাল্টি নিয়ে দুই বারই পেনাল্টি মিস করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

অথচ আগের আসরেই মেসি পেনাল্টি থেকে করেছিলেন ৪ গোল, শ্যুট আউট যোগ করলে পেনাল্টিতে স্কোর করেছিলেন ৬ বার। সেবার মেসি খুবই বুদ্ধিদীপ্ত এক কৌশল ব্যবহার করতেন। তিনি গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতেন, সঠিক সময়ে শট নিতেন এবং মানসিকভাবে থাকতেন শান্ত। 

মূলত তিনি দুই ধরনের শট নিতেন। একটি ছিল চতুর সাইড ফুট শট, যেখানে তিনি গোলরক্ষককে ভালোভাবে লক্ষ্য করে বিপরীত দিকে শট নিতেন। আরেকটি ছিল শক্তিশালী ইনস্টেপ শট, যেখানে গতিই ছিল আসল অস্ত্র।

দৌড় শুরুর সময় মেসি ছোট ছোট পা ফেলতেন। এতে তিনি নিজের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন। পাশাপাশি গোলরক্ষকের নড়াচড়াও ভালোভাবে বুঝতে পারতেন।

বল না দেখে তিনি চোখ রাখতেন গোলরক্ষকের দিকে। গোলরক্ষক কোন দিকে ঝুঁকছেন, সেটাই বোঝার চেষ্টা করতেন তিনি। গোলরক্ষক একবার দিক ঠিক করে ফেললে, মেসি আলতো করে বল পাঠিয়ে দিতেন উল্টো দিকের ফাঁকা কোণে। এই ধরনের শটের গতি সাধারণত থাকত ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে। এখানে শক্তির চেয়ে নিখুঁত নিশানাই ছিল আসল ব্যাপার। সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের বিপক্ষে এই কৌশলে গোল করেছেন তিনি।

তবে গোলরক্ষক যদি স্থির দাঁড়িয়ে থাকতেন বা তার এই কৌশল ধরে ফেলতেন, তখন মেসি ভিন্ন পথে হাঁটতেন। সেই সময় তিনি সোজা পথে দৌড় শুরু করতেন। গোলরক্ষকের দিকে না তাকিয়ে তিনি চোখ রাখতেন বলের দিকে। এতে বলে ঠিকভাবে পা লাগানো সম্ভব হতো। এরপর তিনি জোরালো শট নিতেন। সেই শটের গতি অনেক সময় ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে যেত এবং তা গিয়ে লাগত গোলবারের ওপরের কোণে। এত দ্রুতগতির শট হওয়ায় গোলরক্ষক সঠিক দিকে ঝাঁপ দিলেও কিছুই করার থাকত না তার। এই পদ্ধতির শটে অবশ্য সফলতার হার ৫০ শতাংশ ছিল, তিনি পোল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যর্থ হলেও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সফল হয়েছিলেন। 

২০২২ বিশ্বকাপের ২ কৌশলের প্রথমটির ব্যবহার এবারের বিশ্বকাপে করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অস্ট্রিয়া ও মিশর দুই দলের বিপক্ষেই পেনাল্টি নিয়েছেন বেশ জোরের ওপর, প্রথমটি বারের ওপর দিয়ে গেছে, দ্বিতীয়টি হয়েছে সেভ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ওই প্রথম কৌশল ব্যবহার না করার ফলেই পেনাল্টি থেকে এভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন মেসি।

বিষয় : ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা ফুটবল দল

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

আইন দর্পণ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মেসির বারবার পেনাল্টি মিসের পেছনে যে কারণ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির পেনাল্টি যেন হয়ে গেছে অরণ্যে রোদন, সব যেন নিষ্ফল চেষ্টা। ২ বার পেনাল্টি নিয়ে দুই বারই পেনাল্টি মিস করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

অথচ আগের আসরেই মেসি পেনাল্টি থেকে করেছিলেন ৪ গোল, শ্যুট আউট যোগ করলে পেনাল্টিতে স্কোর করেছিলেন ৬ বার। সেবার মেসি খুবই বুদ্ধিদীপ্ত এক কৌশল ব্যবহার করতেন। তিনি গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতেন, সঠিক সময়ে শট নিতেন এবং মানসিকভাবে থাকতেন শান্ত। 

মূলত তিনি দুই ধরনের শট নিতেন। একটি ছিল চতুর সাইড ফুট শট, যেখানে তিনি গোলরক্ষককে ভালোভাবে লক্ষ্য করে বিপরীত দিকে শট নিতেন। আরেকটি ছিল শক্তিশালী ইনস্টেপ শট, যেখানে গতিই ছিল আসল অস্ত্র।

দৌড় শুরুর সময় মেসি ছোট ছোট পা ফেলতেন। এতে তিনি নিজের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন। পাশাপাশি গোলরক্ষকের নড়াচড়াও ভালোভাবে বুঝতে পারতেন।

বল না দেখে তিনি চোখ রাখতেন গোলরক্ষকের দিকে। গোলরক্ষক কোন দিকে ঝুঁকছেন, সেটাই বোঝার চেষ্টা করতেন তিনি। গোলরক্ষক একবার দিক ঠিক করে ফেললে, মেসি আলতো করে বল পাঠিয়ে দিতেন উল্টো দিকের ফাঁকা কোণে। এই ধরনের শটের গতি সাধারণত থাকত ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে। এখানে শক্তির চেয়ে নিখুঁত নিশানাই ছিল আসল ব্যাপার। সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের বিপক্ষে এই কৌশলে গোল করেছেন তিনি।

তবে গোলরক্ষক যদি স্থির দাঁড়িয়ে থাকতেন বা তার এই কৌশল ধরে ফেলতেন, তখন মেসি ভিন্ন পথে হাঁটতেন। সেই সময় তিনি সোজা পথে দৌড় শুরু করতেন। গোলরক্ষকের দিকে না তাকিয়ে তিনি চোখ রাখতেন বলের দিকে। এতে বলে ঠিকভাবে পা লাগানো সম্ভব হতো। এরপর তিনি জোরালো শট নিতেন। সেই শটের গতি অনেক সময় ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে যেত এবং তা গিয়ে লাগত গোলবারের ওপরের কোণে। এত দ্রুতগতির শট হওয়ায় গোলরক্ষক সঠিক দিকে ঝাঁপ দিলেও কিছুই করার থাকত না তার। এই পদ্ধতির শটে অবশ্য সফলতার হার ৫০ শতাংশ ছিল, তিনি পোল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যর্থ হলেও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সফল হয়েছিলেন। 

২০২২ বিশ্বকাপের ২ কৌশলের প্রথমটির ব্যবহার এবারের বিশ্বকাপে করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অস্ট্রিয়া ও মিশর দুই দলের বিপক্ষেই পেনাল্টি নিয়েছেন বেশ জোরের ওপর, প্রথমটি বারের ওপর দিয়ে গেছে, দ্বিতীয়টি হয়েছে সেভ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ওই প্রথম কৌশল ব্যবহার না করার ফলেই পেনাল্টি থেকে এভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন মেসি।


আইন দর্পণ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: গোলাম মোস্তফা 

কপিরাইট © ২০২৬ আইন দর্পণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মেসির বারবার পেনাল্টি মিসের পেছনে যে কারণ
0:00 0:00
1.0x