ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
আইন দর্পণ

আন্তর্জাতিক

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাবাকে ফোনে যা বলেছিলেন সুইটি

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাবাকে ফোনে যা বলেছিলেন সুইটি

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে অনৈতিক কাজ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করার পর দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড সম্প্রতি কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ১৪ অক্টোবর (গত বুধবার) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)। যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তারা হলেন- নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার। সৌদির আরবে দুই প্রবাসী মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের পর থেকে বাংলাদেশে এ বিষয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ করছেন। সুইটির গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামে। তার পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান তিনি। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। পরে ফোন করে বাড়িতে জানান তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিলেন। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। তারা জানতে পেরেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সুইটিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং সম্প্রতি তা কার্যকরও করেছে। সুইটির বাবা ফজল মিয়া বিছানায় শুয়ে রয়েছেন। মা পরিবারের কাজ করছেন। সুইটির বাবা দিন মজুরের কাজ করেন। ফজল মিয়ার ৫ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটি। ৪ বছর আগে ধার-দেনা করে মেয়েকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন। ফজল মিয়া বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। এজন্য দেড় লাখ টাকা ধার করেছিলাম। প্রথম ৫ মাস সে বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিল। পরে একদিন ফোন করে জেলে যাওয়ার খবর জানায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুইটি জানিয়েছিল, মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছে। এরপর এক বছর সুইটির খোঁজ পাননি। ১৫ দিন আগে আবার একদিন মেয়ে জেল থেকে ফোন করে। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি। শেষদিকে ফোনে জানিয়েছিল দুই মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেতে পারে।’ তবে, দুদিন আগে তারা জানতে পারেন যে সৌদি সরকার সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। যদিও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু জানানো হয়নি। ফজল বলেন, ‘আমার মেয়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে আমরা জানি না। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে তাও আমরা জানি না। আমরা শুধু মানুষের কাছে উড়ো খবর শুনেছি।’ সুইটির মা জহুরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সুইটির বিয়ে হয়েছিল প্রায় ছয় বছর আগে। প্রায় দুই সপ্তাহ যাবত আমার মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। ১৫ দিন আগে ফোন করে জানিয়েছিল, সে দুই মাস পর বাড়ি ফিরবে। আমার মেয়ে সুইটির কী হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পরিষ্কার করে কিছু জানি না। তবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাই, আমার মেয়ের কী হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। জীবিত হোক, মৃত হোক আমি আমার মেয়েকে চাই।’ স্থানীয় মহেরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সুইটির বিষয়ে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত ১৯: কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের শোক

ভারতের কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন, কলকাতা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১৯ জন দর্শনার্থী প্রাণ হারান এবং আরও অনেকে আহত হন। আজ রোববার প্রকাশিত এক শোকবার্তায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন এ শোক প্রকাশ করে। শোকবার্তায় বলা হয়, সর্বজনীন দুর্গোৎসবের আনন্দঘন মুহূর্তে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় উপহাইকমিশন গভীরভাবে মর্মাহত। নিহত ব্যক্তিদের আত্মার সদ্গতি ও চিরশান্তি কামনা করার পাশাপাশি তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সৃষ্টিকর্তা যেন শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে এ অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দেন, সেই প্রার্থনা করা হয়। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতাও কামনা করেছে উপহাইকমিশন। শোকবার্তায় আরও বলা হয়, এ ঘটনায় শোকাচ্ছন্ন কলকাতার মানুষের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সহমর্মিতা ও একাত্মতা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।

পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত ১৯: কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের শোক

ভারতীয় উড়োজাহাজে আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালো পাকিস্তান

ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে পাকিস্তান। ভারতের বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) জানিয়েছে, আগামী ২৪ নভেম্বর স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভারত নিবন্ধিত, ভারতীয় বিমানসংস্থা দ্বারা পরিচালিত বা ইজারাকৃত যেকোনও বেসামরিক বিমান এবং সামরিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য। পাকিস্তান সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির অধীন করাচি ও লাহোর উভয় ফ্লাইট ইনফরমেশন অঞ্চলেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে জিও নিউজ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর দুদেশের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ওই হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে ভারত, যা ইসলামাবাদ অস্বীকার করে। এই উত্তেজনার জের ধরে ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল প্রথমবার ভারতের ওপর এই আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা জারি করে পাকিস্তান। জবাবে ওই বছরের ৩০ এপ্রিল পাকিস্তানি বিমানসংস্থাগুলোর জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় ভারত। এর আগেও ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময় পাকিস্তান ভারতীয় বিমান চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদি এই পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার ফলে আন্তর্জাতিক পথ ঘুরে চলায় এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালনা ব্যয় ও ফ্লাইট সময় বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন এই ঘোষণার ফলে আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশসীমা ভারতীয় বিমানের জন্য পুরোপুরি বন্ধই থাকছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ভারতীয় উড়োজাহাজে আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালো পাকিস্তান

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক বাগাড়ম্বর’ বলে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ভারত যদি তার ‘আধিপত্যবাদী মানসিকতা’ থেকে সরে না আসে, তাহলে উপমহাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় রাজনাথ সিং বলেছিলেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তান থেকে কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলে ভারত আগের চেয়েও কঠোর জবাব দেবে শনিবার (১৭ অক্টোবর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের হুমকি নিহিত রয়েছে। নয়াদিল্লিকে উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিপজ্জনক বাগাড়ম্বর পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ভারতের আধিপত্যবাদী মানসিকতা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি তাদের সৃষ্ট ঝুঁকিরই বহিঃপ্রকাশ। পাকিস্তান তার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের মোকাবিলায় পাকিস্তান কঠোর জবাব দেবে। স্মরণ করা যায়, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামে জঙ্গি হামলার পর মে মাসে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। নয়াদিল্লির অভিযোগ ছিল, ওই হামলায় ২৬ জন পর্যটককে হত্যাকারী সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানি। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে ভারতের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। এরপর পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকেই যুদ্ধের সূত্রপাত হয় বলে ইসলামাবাদের ভাষ্য। পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই দেশের এই সংঘাত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়। শনিবার গণমাধ্যমের সামনে ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গত বছরের মে মাসের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, পাকিস্তান তার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সক্ষমতা ও দৃঢ় সংকল্প প্রদর্শন করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়; যেকোনো অবিবেচনাপ্রসূত আগ্রাসনের মুখে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার জন্য পাকিস্তান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, পাকিস্তানের সংযম ও শান্তির প্রতি অঙ্গীকারকে যেন দুর্বলতা বলে ভুল না করা হয়। যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।      

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের

ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত

হিজরি বছরের হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছরই রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের সময় পরিবর্তিত হয়। খ্রিষ্টীয় ক্যালেন্ডারের চেয়ে ইসলামী ক্যালেন্ডার প্রায় ১১ দিন ছোট এবং এটি সাধারণত ৩৫৪ দিনের হয়ে থাকে। ফলে প্রতি বছরই রমজান মাস গ্রেগরিয়ান বছরের চেয়ে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে। এই হিসেব অনুসারে ২০২৭ সালে কবে নাগাদ পবিত্র রমজান শুরু হতে পারে এবং ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা যেতে পারে, সে বিষয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ২০২৭ সালের রমজান মাসের চাঁদ দেখার জন্য ওই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি (রোববার) সন্ধ্যায় আকাশে নজর রাখা হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় যদি চাঁদ দেখা যায়, তবে সেদিন রাতেই মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানরা বছরের প্রথম তারাবিহ নামাজ আদায় করবেন এবং পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) থেকে প্রথম রোজা পালন শুরু হবে। তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার সময়ের পার্থক্যের কারণে বাংলাদেশে সাধারণত এর একদিন পর রোজা শুরু হয়ে থাকে। সেই হিসেবে, বাংলাদেশে রমজানের চাঁদ দেখার জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) সন্ধ্যায় আকাশে নজর রাখা হতে পারে। ওই দিন সন্ধ্যায় যদি চাঁদ দেখা যায়, তবে সেদিন রাতেই এ দেশের মুসলমানরা বছরের প্রথম তারাবিহ নামাজ আদায় করবেন এবং পরদিন ৯ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে প্রথম রোজা পালন শুরু হবে।

ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত

দিল্লিতে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ-ভারত

তিন বছর বিরতির পর দিল্লিতে আবারও আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ ও ভারত। আজ (বৃহস্পতিবার) ও কাল (শুক্রবার) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ১৬তম বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেডের (জেডব্লিউজি) বৈঠক। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাণিজ্য সম্পর্ক সচল রাখা, আমদানি-রপ্তানির বাধা কমানো এবং দুদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় এ বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেবে। এর আগে ১৫তম জেডব্লিউজি বৈঠক ২০২৩ সালের ২৬-২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বন্দর-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, পণ্য সরবরাহ, মান নির্ধারণ ও পারস্পরিক স্বীকৃতি, সড়ক-রেল যোগাযোগ এবং প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। পাটপণ্যে নতুন শুল্ক, সুতায় বিধিনিষেধ : এবারের বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি হচ্ছে বাংলাদেশের পাটপণ্যে ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক। গত সেপ্টেম্বরে ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা জুট ইয়ার্ন/টুইন, হেসিয়ান ফ্যাব্রিক ও জুট স্যাকিং ব্যাগের ওপর বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতীয় সুতা আমদানির বিধিনিষেধ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে দুপক্ষই নিজ নিজ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বাজারসুবিধা ও বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমানোর বিষয়টি তুলতে পারে। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি কারণে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়ে হয়েছে প্রায় ১০.৯৬ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল মাত্র ১.৭৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবধান প্রায় ৯.২১ বিলিয়ন ডলার। এ কারণে, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ বৈঠকে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ সম্প্রসারণ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা এবং স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহণ সহজ করার ওপর জোর দিতে পারে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩৩৫.২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৬৭ শতাংশ বেশি। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো, স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো ও সক্ষমতা উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। ২০২৩ সালের বৈঠকেও বন্দর, স্থলবন্দর, বহুমাত্রিক যোগাযোগ এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছিল। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দুদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হবে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আমদানি-রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথ খুঁজে বের করাই বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য। সেপায় নতুন গতির প্রত্যাশা : তিন বছর পর জেডব্লিউজি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) নিয়েও নতুন করে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালের বৈঠকে দুদেশ সেপা চালুর প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও দুদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা আলাদা। বাংলাদেশ শিল্পের কাঁচামাল, তুলা, সুতা, খাদ্যপণ্য ও বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে বাংলাদেশের বড় একটি বাজার ভারত। তাই বাণিজ্যকে রাজনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামার বাইরে রেখে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া উভয় দেশের স্বার্থেই জরুরি।

দিল্লিতে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ-ভারত

মক্কা-মদিনা ছাড়া সৌদির পুরো আকাশসীমাকে অভিযানের টার্গেট ঘোষণা হুতির

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয়বারের মতো হামলার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। একই সঙ্গে মক্কা ও মদিনার পবিত্র আকাশসীমা বাদ দিয়ে সৌদি আরবের বাকি পুরো আকাশসীমাকে নিজেদের সামরিক অভিযানের জন্য ‘ওপেন টার্গেট’ বা উন্মুক্ত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে তারা। সোমবার এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের ওপর সৌদি ‘আগ্রাসনের’ জবাবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিমানবন্দরটি লক্ষ্য করে চালানো হামলাটি ছিল ‘সুনির্দিষ্ট’। এর ফলে বিমানবন্দরের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে একই দিন সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল হুতিরা। সে সময় গোষ্ঠীটি জানায়, মক্কা ও মদিনার পবিত্র আকাশসীমা ছাড়া সৌদি আরবের পুরো আকাশসীমাই তাদের সামরিক অভিযানের জন্য উন্মুক্ত। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি আকাশসীমার ব্যবহার অব্যাহত রাখার বিষয়ে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হলে এর পরিণতির দায় হুতিরা নেবে না। সূত্র : মিডল ইস্ট আই।

মক্কা-মদিনা ছাড়া সৌদির পুরো আকাশসীমাকে অভিযানের টার্গেট ঘোষণা হুতির

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে সরকারপন্থী সবচেয়ে বড় সমাবেশ, লাখো মানুষের উপস্থিতি

যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর গত শুক্রবার ইরানে সরকার আয়োজিত এক বড় সমাবেশে অংশ নেন লাখো মানুষ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে এটিই এ ধরনের সবচেয়ে বড় সমাবেশ। এতে অংশ নেওয়া মানুষ দেশ রক্ষায় অস্ত্র হাতে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবি আল–জাদিদ বা নিউ আরবের খবরে বলা হয়েছে—ইরান সরকার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সময়ে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং তেহরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। সীমিত সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশ রক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য কত মানুষ স্বেচ্ছাসেবী হয়েছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের হিসাব পাওয়া গেছে। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘জানফাদায়ে ইরান’, যার অর্থ ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারীরা।’ স্বেচ্ছাসেবীরা তেহরানের কেন্দ্রীয় এলাকার সড়ক দিয়ে সামরিক পোশাক পরে মিছিল করেন। তাদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। পথের পাশে থাকা মানুষ তাদের দেখে উল্লাস করেন। কয়েক দিন ধরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জনগণকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শিগগিরই স্বয়ংক্রিয় রাইফেলসহ অস্ত্রের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। নতুন এই স্বেচ্ছাসেবীরা ইরানের শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড এবং এর স্বেচ্ছাসেবী শাখা বাসিজের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার জন্য আরও একটি স্তর হিসেবে কাজ করবেন। তেহরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে বলেন, ৬ লাখের বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। প্রশিক্ষণে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার সকালে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটি অনুমান করে জানায়, ৩ লাখের বেশি মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। সমাবেশ শুরুর সময় দেওয়া এক বক্তব্যে বাসিজের নতুন প্রধান হোসেইন তাইয়েব বলেন, স্বেচ্ছাসেবীরা ‘পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষার’ জন্য প্রস্তুত থাকবেন। শিগগিরই ইরানের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান। তাইয়েব আরও বলেন, নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা ইরানের শত্রুদের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে। এ সময় প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, সামরিক কমান্ডার এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিছিলটি দেখছিলেন। সমাবেশে অংশ নেওয়া কয়েকজন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পায়ে মাড়ান। কেউ কেউ ‘আমেরিকার মৃত্যু চাই’ এবং ‘ইসরায়েলের মৃত্যু চাই’ বলে স্লোগান দেন। ২৪ বছর বয়সী মারজিয়ে আফাগি তাঁর ছোট সন্তান ও স্বামীর সঙ্গে সমাবেশে অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘আমি ট্রাম্পকে বলতে এসেছি—আমাদের মাতৃভূমির বিরুদ্ধে তাঁর হুমকিতে আমরা ইরানিরা ভয় পাই না। ইতিহাসে কেউই ইরান আক্রমণ করে সেখানে থেকে যেতে পারেনি।’ এই সমাবেশে ইরান সামরিক সরঞ্জামও প্রদর্শন করে। সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেখানো হয়। কালো মাথার স্কার্ফ পরা নারী রেভল্যুশনারি গার্ড সদস্যদের ট্রাকের ওপর স্থাপিত মেশিনগানের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। রেভল্যুশনারি গার্ড তাদের ড্রোনও প্রদর্শন করে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের বিরুদ্ধে এসব ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে উপসাগরীয় এলাকা থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবারের ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে তাইয়েবের মতো কট্টরপন্থীরা ভবিষ্যতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো বিক্ষোভ হলে তা দমন করতে আরও বেশি প্রস্তুত থাকবে। যুদ্ধ শুরুর কিছুদিন আগে, জানুয়ারিতে ইরানে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দেশব্যাপী বিক্ষোভগুলোর একটি হয়েছিল। অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে শুরু হওয়া ওই বিক্ষোভ পরে আরও বিস্তৃত অসন্তোষে রূপ নেয়। মে মাসে ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, প্রায় ৯ কোটি মানুষের দেশ ইরানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ অনলাইন ফর্ম পূরণ করে অথবা বিভিন্ন জনসমাবেশে অংশ নিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গ করার স্বেচ্ছাসেবী হয়েছেন।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে সরকারপন্থী সবচেয়ে বড় সমাবেশ, লাখো মানুষের উপস্থিতি