আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কৃত কুরআন হাফেজ ও শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করার পাশাপাশি দেশে কুরআন শিক্ষা ও চর্চাকে আরও উৎসাহিত করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবনে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমন সাফল্য অর্জন সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়।
সাক্ষাৎকালে ‘কুরআন শিক্ষা মিশন বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান মাওলানা মো. বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। দলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা ও ডা. মাঈনুল ইসলাম ভূঁইয়া।
উপস্থিত বিজয়ীদের মধ্যে ছিলেন:
- হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া: ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান (আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা)
- হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান: ১৫ পারা হিফজ বিভাগে তৃতীয় স্থান (তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফজ মাদরাসা)
- হাফেজ শেখ মো. মাহমুদুল হাসান (আশরাফী): ৩০ পারা হিফজ বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী (মারকাযুল মদিনা মাদরাসা)
- হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ: ৩০ পারা হিফজ বিভাগে কৃতিত্ব অর্জনকারী (সাউদা বিনতে জামআ’হ রা. আন্তর্জাতিক বালিকা মাদরাসা)
রাষ্ট্রপতি বিজয়ী প্রতিযোগী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই অনন্য অর্জনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার এবং হাফেজ ও আলেমদের যথাযথ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
সাক্ষাৎকালে বিজয়ী শিক্ষার্থী ও তাদের শিক্ষকরা বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা মাদ্রাসা ও মক্তব শিক্ষার মানোন্নয়ন, মেধাবী হাফেজদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং বিশ্বমঞ্চে সাফল্য অর্জনকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং তারা সর্বদা ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় ত্যাগ স্বীকার করেছেন। নতুন অভিযাত্রায় ধর্মীয় শিক্ষার আধুনিকায়ন ও প্রসারে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মতামত