ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
আইন দর্পণ
Topic Ads 1
চকবাজারের আগুন ২৯ ঘণ্টায়ও নেভেনি

চকবাজারের আগুন ২৯ ঘণ্টায়ও নেভেনি

পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় বহুতল ভবনের গুদামে লাগা আগুন গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত ২৯ ঘণ্টায়ও পুরোপুরি নেভানো যায়নি। গতকাল ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার তথ্য দেয় ফায়ার সার্ভিস। তবে সারাদিনই ভবনটি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগুনের শিখা আর দেখা যাচ্ছে না। ভেতরে জমে থাকা ধোঁয়া বের করে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে ভবনে ঢুকতে না পারায় ক্ষতির প্রকৃত হিসাব করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। আগুনে বিপুল পরিমাণ পণ্য পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক সমকালকে জানান, আগুন লাগা গুদামে পানি ছিটিয়ে স্থানটি নিরাপদ করার চেষ্টা চলছে। ভেতরে দাহ্য বস্তু থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে।  ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গত সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে ছোট কাটারার মুনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পান তারা। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে গতকালও ছয়টি ইউনিট সেখানে কাজ করে।  সকালে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, ভবনের গুদামগুলো থেকে মালপত্র সরিয়ে সেখানে পানি দেওয়া হচ্ছে। আগুন সম্পূর্ণ নেভাতে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ৭তলা ভবনটির নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত রয়েছে ব্যাগ, প্রসাধনী, ছাতা, আতর ও চার্জারের দোকান। প্রতি তলায় দোকানের সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০টি। প্রথমে ভবনের ষষ্ঠ তলায় আগুন লাগে। এতে ওই তলার প্রায় সব গুদামের মালপত্র পুড়ে যায়। সপ্তম তলারও বেশির ভাগ গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন ছড়িয়েছে পঞ্চম তলাতেও। ব্যবসায়ীরা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে ঢুকতে পারছেন না তারা। ফলে দোকান ও গুদামে থাকা পণ্যের কতটা পুড়েছে, আর কতটা অক্ষত রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার কারণে গতকাল মিটফোর্ড হাসপাতালমুখী সড়কটি বন্ধ রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে মুনসুর খান প্লাজার আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫টি ভবনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এসব ভবনেও প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান রয়েছে।

সচিবালয়ে ৬ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড

প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নেভানো গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানা যায়নি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে সচিবালয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের ওপরের ছাদের অংশে আগুন লাগে। খবর পেয়ে সচিবালয়ের ভেতরে থাকা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। তবে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়। রোজিনা আক্তার বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে সচিবালয়ে আগুন লাগে। ৭ নম্বর ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের টানা ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সেই আগুনে ভবনটির চারটি তলায় অবস্থিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; সড়ক পরিবহন ও সেতু, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র, কম্পিউটার ও আসবাব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দেয়াল ও মেঝেতেও বড় ক্ষতি হয়। আগুন নেভাতে গিয়ে ট্রাকচাপায় মো. সোহানুর জামান নামে ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য নিহত হন। সে সময় অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনার কারণ বের করতে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয় বৈদ্যুতিক স্পার্ক (স্ফুলিঙ্গ) থেকে। সাধারণত সকেট-প্লাগে লুজ কানেকশন (দুর্বল সংযোগ), কেবলে ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ ইত্যাদি কারণে বৈদ্যুতিক স্পার্ক হয়ে থাকে। এ ঘটনায় কোনো বিস্ফোরকের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।

সচিবালয়ে ৬ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড