চকবাজারের আগুন ২৯ ঘণ্টায়ও নেভেনি
পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় বহুতল ভবনের গুদামে লাগা আগুন গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত ২৯ ঘণ্টায়ও পুরোপুরি নেভানো যায়নি। গতকাল ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার তথ্য দেয় ফায়ার সার্ভিস। তবে সারাদিনই ভবনটি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগুনের শিখা আর দেখা যাচ্ছে না। ভেতরে জমে থাকা ধোঁয়া বের করে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ভবনে ঢুকতে না পারায় ক্ষতির প্রকৃত হিসাব করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। আগুনে বিপুল পরিমাণ পণ্য পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ।
ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক সমকালকে জানান, আগুন লাগা গুদামে পানি ছিটিয়ে স্থানটি নিরাপদ করার চেষ্টা চলছে। ভেতরে দাহ্য বস্তু থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গত সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে ছোট কাটারার মুনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পান তারা। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে গতকালও ছয়টি ইউনিট সেখানে কাজ করে।
সকালে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, ভবনের গুদামগুলো থেকে মালপত্র সরিয়ে সেখানে পানি দেওয়া হচ্ছে। আগুন সম্পূর্ণ নেভাতে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ৭তলা ভবনটির নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত রয়েছে ব্যাগ, প্রসাধনী, ছাতা, আতর ও চার্জারের দোকান। প্রতি তলায় দোকানের সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০টি। প্রথমে ভবনের ষষ্ঠ তলায় আগুন লাগে। এতে ওই তলার প্রায় সব গুদামের মালপত্র পুড়ে যায়। সপ্তম তলারও বেশির ভাগ গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন ছড়িয়েছে পঞ্চম তলাতেও।
ব্যবসায়ীরা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে ঢুকতে পারছেন না তারা। ফলে দোকান ও গুদামে থাকা পণ্যের কতটা পুড়েছে, আর কতটা অক্ষত রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার কারণে গতকাল মিটফোর্ড হাসপাতালমুখী সড়কটি বন্ধ রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে মুনসুর খান প্লাজার আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫টি ভবনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এসব ভবনেও প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান রয়েছে।