ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
আইন দর্পণ
Topic Ads 1
হাসপাতালের ১৫ ফ্যান চুরি, বিএনপি নেতার ছেলের ৬ মাসের কারাদণ্ড

হাসপাতালের ১৫ ফ্যান চুরি, বিএনপি নেতার ছেলের ৬ মাসের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৫টি সিলিং ফ্যানসহ লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল চুরির ঘটনায় মো. মান্না শেখকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মান্না শেখ একজন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক। তিনি বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সহকোষাধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজাউল হক শেখের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত কক্ষের তালা ভেঙে মালামালগুলো চুরি করা হয়। পরদিন শনিবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবনের পেছনে থাকা অব্যবহৃত ক্যান্টিন কক্ষ থেকে এসব মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নৈশপ্রহরী না থাকায় চুরির সময় ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়েনি। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে মালামাল নিয়ে বের হওয়ার সময় মান্না শেখকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনকে শনাক্তের পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মান্না আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা মালামালসহ তাকে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালতে পাঠানো হলে আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর আগেও একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালকদের কেউ কেউ এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলেও দাবি তাদের। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।