ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
আইন দর্পণ

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৭২

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৭২

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৩৪২ জনের মৃত্যু হলো। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গু সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এই ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। এর ফলে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৩১২ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ চার হাজার ১৯৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬০, ঢাকা বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২২৩, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩২৩, খুলনা বিভাগে ২৩৩, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৭, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৫৯ এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন রয়েছেন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরে তিনজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দুইজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।  বিডি প্রতিদিন/জেডএ 

কোরিয়ান সৌন্দর্যচর্চার ‘গ্লাস স্কিন’ ট্রেন্ড, জানুন ত্বকের ঝুঁকি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখে পড়ছে চকচকে, মসৃণ ও শিশিরভেজা ত্বকের ছবি। যেন মুখের ত্বক কাচের মতো স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল। এই আকর্ষণীয় সৌন্দর্যধারণার নাম ‘গ্লাস স্কিন’। কোরিয়ান সৌন্দর্যচর্চা থেকে জনপ্রিয় হওয়া এই প্রবণতা এখন টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে রীতিমতো ট্রেন্ড। ত্বককে এমন ঝকঝকে করতে একের পর এক টোনার, সিরাম, এসেন্স ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন অনেক সৌন্দর্যপ্রভাবক। কেউ কেউ আবার একই রুটিনে একাধিক স্তরে পণ্য ব্যবহারের ভিডিও প্রকাশ করছেন। কিন্তু যে ত্বককে কাচের মতো উজ্জ্বল করার চেষ্টা, সেটিই কি শেষ পর্যন্ত ত্বকের ক্ষতির কারণ হতে পারে? সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ও জটিল স্কিনকেয়ার রুটিনে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা বা স্কিন ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে দেখা দিতে পারে জ্বালা, ব্রণ, র্যাশ ও বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা। আরও পড়ুনআরও পড়ুনথাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে কোন মাছ বেশি খাবেন কীভাবে জনপ্রিয় হলো ‘গ্লাস স্কিন’ ‘গ্লাস স্কিন’ শব্দটির শিকড় দক্ষিণ কোরিয়ার সৌন্দর্যচর্চায়। এতে এমন ত্বককে বোঝানো হয়, যা অত্যন্ত মসৃণ, উজ্জ্বল এবং প্রায় ছিদ্রহীন দেখায়। ২০১০-এর দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ে ধারণাটি জনপ্রিয় হতে শুরু করে। তবে ২০২৫ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে সৌন্দর্যপ্রভাবকেরা নিজেদের স্কিনকেয়ার রুটিনের ভিডিও প্রকাশ করতে থাকেন। সেখানে একের পর এক পণ্য ব্যবহারের পাশাপাশি আঙুল বা বিউটি টুল দিয়ে মুখে আলতোভাবে চাপ দেওয়ার শব্দও অনেক দর্শকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। পরে অভিনেত্রী ও মডেলসহ বিভিন্ন তারকাও নিজেদের এমন স্কিনকেয়ার রুটিন তুলে ধরায় প্রবণতাটি আরও ছড়িয়ে পড়ে। ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার ত্বকের যত্নে ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে একসঙ্গে অনেক পণ্য ব্যবহারের কারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি। বিশেষজ্ঞদের বড় উদ্বেগ হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ভিডিওতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রশিক্ষণ না থাকা ব্যক্তিরা ত্বকের যত্নের পরামর্শ দিচ্ছেন। ফলে এসব পরামর্শে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা তথ্য বাদ পড়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ইউরোপিয়ান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যান্ড ভেনেরিওলজি কংগ্রেসে উপস্থাপিত এক গবেষণায় ‘গ্লাস স্কিন’ নিয়ে ভাইরাল ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকেরা পাঁচটি কোরিয়ান স্কিনকেয়ার-সংক্রান্ত সার্চ শব্দের অধীনে জনপ্রিয় ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করেন। ৩৮টি ভিডিও বিশ্লেষণের পর দেখা যায়, প্রায় ৯৫ শতাংশ ভিডিওতে বিভ্রান্তিকর দাবি ছিল। এর মধ্যে মাত্র একটি ভিডিওতে ত্বকে জ্বালাপোড়ার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল। মাত্র দুটি ভিডিওতে সূর্য থেকে ত্বক সুরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। কোনো ভিডিওতেই কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিসের ঝুঁকি বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়নি। প্রায় ৪৫ শতাংশ ভিডিওতে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পরামর্শ ছাড়াই একাধিক সক্রিয় উপাদান একসঙ্গে ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছিল। আর ৩২ শতাংশ ভিডিওতে তাৎক্ষণিক ফল পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্লেষণ করা কোনো ভিডিওই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের তৈরি নয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুননিউমোনিক প্লেগ কী, কেন এটি নিয়ে এতো উদ্বেগ বাস্তব অভিজ্ঞতাও সুখকর নয় টিকটকে একসময় ‘গ্লাস স্কিন গার্ল’ নামে পরিচিত ছিলেন গ্রেটা কোস্তিওলি। ত্বক স্বাভাবিকভাবেই শুষ্ক হওয়ায় কৈশোর থেকেই তিনি বেশি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতেন। ‘গ্লাস স্কিন’ ট্রেন্ড জনপ্রিয় হওয়ার পর তিনি আরও বেশি পণ্য ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে সাত স্তরে হাইড্রেটিং টোনার ব্যবহারের পদ্ধতিও অনুসরণ করেন। শুরুতে এতে ভালো ফল পেয়েছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাস্তব জীবন- দুই জায়গাতেই তার ত্বকের প্রশংসা হতে থাকে। কিন্তু পরে অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহারের কারণে তার স্কিন ব্যারিয়ার বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। তার মুখে ছোট ছোট লালচে দানা দেখা দেয়, যা কয়েক দিন স্থায়ী হতো। অতিরিক্ত স্কিনকেয়ার চালিয়ে গেলে সেই দানাগুলো আরও তীব্র হয়ে উঠত। শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের স্কিনকেয়ার রুটিনের ধাপ কমাতে হয়। ‘ছিদ্রহীন’ ত্বক কি আদৌ সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘গ্লাস স্কিন’-এর যে প্রায় ছিদ্রহীন ত্বকের ধারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানো হয়, সেটি বাস্তবে অর্জন করা সম্ভব নয়। কারণ ত্বকের ছিদ্র বা পোরস জিনগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং শুধু স্তরে স্তরে প্রসাধনী ব্যবহার করে এগুলো দূর করা যায় না। অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহারের কারণে বরং কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস, রোসেশিয়া ও ব্রণের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোনা গোহারা বলেন, ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে টানটান ভাব, চুলকানি, ব্যথা, প্রদাহ, খসখসে হয়ে যাওয়া এবং ত্বক লাল বা গাঢ় হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিছুদিন স্ক্রাব, এক্সফোলিয়েটিং অ্যাসিড ও রেটিনয়েড ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ সময় হালকা, পিএইচ-নিরপেক্ষ ও সাবানবিহীন ক্লিনজার এবং কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। স্কিন ব্যারিয়ার মেরামতে সহায়ক ক্রিমও ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের যত্নে জটিল রুটিনের প্রয়োজন নেই। সাধারণভাবে একটি মৃদু ক্লিনজার, ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী একটি সক্রিয় উপাদান- যেমন রেটিনল, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন সি- ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন দিয়েই একটি সহজ রুটিন তৈরি করা যায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের ত্বকের ধরন ও সহনশীলতা বোঝা। নতুন কোনো পণ্য একসঙ্গে অনেকগুলো না দিয়ে একটি করে ধীরে ধীরে ব্যবহার শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন ৩০ বা তার বেশি এসপিএফের ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ।

কোরিয়ান সৌন্দর্যচর্চার ‘গ্লাস স্কিন’ ট্রেন্ড, জানুন ত্বকের ঝুঁকি

জনপ্রিয় ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের

ভিটামিন ডি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর একটি জনপ্রিয় সাপ্লিমেন্ট নিয়ে নতুন উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি২ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে শরীরে ভিটামিন ডি৩-এর মাত্রা কমে যেতে পারে। ডি৩ হলো সেই ধরনের ভিটামিন ডি, যা সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে মানবদেহ স্বাভাবিকভাবে তৈরি করে। গবেষকদের মতে, ভিটামিন ডি২বি ও ডি৩কে দীর্ঘদিন ধরে একই পুষ্টি উপাদানের দুটি বিকল্প উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নতুন প্রমাণ বলছে, এদের কার্যকারিতা এক নয়। বিশেষ করে রক্তে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা বাড়ানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ডি৩ তুলনামূলক বেশি কার্যকর। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে এবং হাড়কে মজবুত রাখে। পাশাপাশি এটি পেশি, স্নায়ু ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডি২ ও ডি৩-এর মধ্যে পার্থক্য কী? ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট সাধারণত দুটি রূপে পাওয়া যায়—ডি২ (এরগোক্যালসিফেরল) এবং ডি৩ (কোলেক্যালসিফেরল)। ডি২ সাধারণত অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আনা ছত্রাক বা ইস্ট থেকে তৈরি করা হয়। অন্যদিকে ডি৩ হলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে স্বাভাবিকভাবে উৎপন্ন হওয়া ভিটামিন ডি। ঐতিহ্যগতভাবে সাপ্লিমেন্টে ব্যবহৃত ডি৩ ভেড়ার লোম থেকে পাওয়া ল্যানোলিন থেকে তৈরি হলেও বর্তমানে লাইকেনসহ উদ্ভিদভিত্তিক উৎস থেকেও প্রাণিজ উপাদানমুক্ত ডি৩ তৈরি করা হচ্ছে। গবেষণায় কী পাওয়া গেছে? ইউনিভার্সিটি অব সারে, জন ইনেস সেন্টার এবং কোয়াডরাম ইনস্টিটিউট বায়োসায়েন্সের গবেষকদের পরিচালিত এবং নিউট্রিশন ভিউজ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় ২০টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ১১টি গবেষণার তথ্য মূল বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, যারা ভিটামিন ডি২ গ্রহণ করেছেন তাদের শরীরে ২৫-হাইড্রক্সিভিটামিন ডি৩-এর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। বিশ্লেষণ পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে এই হ্রাসের পরিমাণ গড়ে প্রতি লিটারে প্রায় ৯ থেকে ১৮ ন্যানোমোল। তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে ডি২ ক্ষতিকর বা এটি শরীর থেকে ভিটামিন ডি সরিয়ে দেয়। বরং ডি২ নিজেও শরীরে ভিটামিন ডি-এর সামগ্রিক মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এক ধরনের ভিটামিন ডি বাড়লে অন্যটির মাত্রা কমে যাওয়ার বিষয়টি গবেষকদের বিস্মিত করেছে। কেন ডি২ ডি৩ কমিয়ে দেয়? এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, শরীরে ভিটামিন ডি নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার কারণে এমনটি হতে পারে। ডি২-এর মাত্রা বাড়লে শরীর হয়তো বিদ্যমান ডি৩ দ্রুত ভেঙে ফেলে বা অপসারণ করে দেয়। গবেষণার প্রধান গবেষক এবং ইউনিভার্সিটি অব সারের পিএইচডি গবেষক এমিলি ব্রাউন বলেন, ‘বিশেষ করে অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমরা দেখেছি, ভিটামিন ডি২ সাপ্লিমেন্ট শরীরে ডি৩-এর মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে, যা আগে জানা ছিল না। ব্যক্তিগত প্রয়োজন বিবেচনায় অধিকাংশ মানুষের জন্য ডি৩ সাপ্লিমেন্ট বেশি উপকারী হতে পারে।’     আরও পড়ুনআরও পড়ুনফ্যাটি লিভার কি পুরোপুরি ভালো হয়? জানুন সুস্থ রাখার কার্যকর উপায় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায়ও ভিন্ন প্রভাব গবেষণায় আরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ডি২ ও ডি৩ শুধু ভিটামিন ডি-এর মাত্রা বৃদ্ধিতেই নয়, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপরও ভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব সারের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডি৩ শরীরের ‘টাইপ-১ ইন্টারফেরন সিগন্যালিং’ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করতে পারে, যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শরীরের প্রাথমিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে ডি২-এর ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রভাব দেখা যায়নি। গবেষক কলিন স্মিথ বলেন, ‘ডি৩ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে সক্রিয় করতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত ডি৩-এর উপস্থিতি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।’ তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ফলাফল থেকে সরাসরি ডি৩ কোনো নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধ করে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও বৃহৎ পরিসরের গবেষণা প্রয়োজন। তবুও ডি২ অকার্যকর নয় ২০২৬ সালে প্রকাশিত আরেকটি বিশ্লেষণে ২৬টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ডি২ সাপ্লিমেন্ট প্যারাথাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কমাতে এবং রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সামান্য বাড়াতে সক্ষম। অর্থাৎ ডি৩ কমিয়ে দিলেও ডি২-এর নিজস্ব জৈবিক কার্যকারিতা রয়েছে। বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, ডি২ ও ডি৩—দুটিই শরীরে ভিটামিন ডি-এর মোট মাত্রা বাড়াতে পারে। তবে অধিকাংশ গবেষণা বলছে, দীর্ঘমেয়াদে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা বাড়িয়ে রাখতে ডি৩ তুলনামূলক বেশি কার্যকর। গবেষকদের মতে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ডি২ ও ডি৩-এর এই জৈব রাসায়নিক পার্থক্য দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যে কতটা প্রভাব ফেলে। এর উত্তর জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। সূত্র- সাইন্স ডেইলি 

জনপ্রিয় ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের

ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য করতে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন যুক্ত হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকার ক্যানসারের রোগীদের চিকিৎসা সহজ ও সহজলভ্য করতে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যুক্ত করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, এই ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি মেশিন স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও ম্যানপাওয়ার (জনবল) প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। দেশের ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে ক্যানসারের রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যানসারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ক্যানসারের মতো জটিল রোগে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অর্থের অভাব এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে দরিদ্র মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। আগামী দিনে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবার পরিকল্পনা খাতকে শক্তিশালী করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী ব্যাপক জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে প্রচারাভিযান শুরু করা হবে। কর্মসূচিতে র‌্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ এই ক্যাম্পেইন চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু–পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসকদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ হাজার ৩৫৬ জন। এর মধ্যে ৮৮ হাজার ২৯৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আ ন ম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।

ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য করতে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন যুক্ত হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ক্ষমা করলে মন হালকা হয়, সম্পর্কও ফেরে স্বাভাবিক ছন্দে

জীবনে কষ্ট, অভিমান কিংবা ভুল বোঝাবুঝি থাকবেই। কখনও অন্যের আচরণে আমরা আঘাত পাই, আবার কখনও নিজের কোনও কথা বা কাজের কারণে প্রিয় মানুষ কষ্ট পান। সময়ের সঙ্গে অনেক ঘটনা পেছনে পড়ে গেলেও মনের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ সহজে মুছে যায় না। অথচ মানসিক শান্তির জন্য অনেক সময় প্রয়োজন হয় সেই পুরনো অভিমান থেকে বেরিয়ে আসার। ক্ষমা করার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয় আজকের ক্ষমা ও সুখ দিবস। এই দিনটির মূল বার্তা হলো, অতীতের আঘাত আঁকড়ে না ধরে ক্ষমা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে সম্পর্ক ও নিজের মানসিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। কী বলছে দিবসটির ইতিহাস? ক্ষমা ও সুখ দিবসের সূচনা হয়েছিল ধর্মীয় ভাবনার সঙ্গে যুক্ত একটি আয়োজন হিসাবে। পরে রবার্ট ময়ার্স ও ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফরগিভনেস অ্যালায়েন্স এই দিবসটি প্রতিষ্ঠা করেন। ক্ষমাকে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে তুলে ধরাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক মেরামত, মানসিক মুক্তি এবং ক্ষমা, শান্তি, আনন্দ ও ভালোবাসার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিও এই দিবসের মূল ভাবনার সঙ্গে যুক্ত। পুরনো অভিমান থেকে বেরিয়ে আসুন কাউকে ক্ষমা না করার বোঝা অনেক সময় সবচেয়ে বেশি বহন করতে হয় নিজেকেই। যিনি কষ্ট দিয়েছেন, তিনি হয়তো জানেনই না যে তাঁর কোনও আচরণ এখনও আপনার মনে প্রভাব ফেলছে। তাই অন্যের জন্য নয়, নিজের মানসিক শান্তির জন্যও ক্ষমা করার কথা ভাবা যেতে পারে। তবে ক্ষমা মানে ঘটনার কথা ভুলে যাওয়া বা অন্যায়কে সমর্থন করা নয়। বরং অতীতের কষ্টকে মেনে নিয়ে তার নেতিবাচক প্রভাব থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে মুক্ত করার একটি মানসিক প্রক্রিয়া। পুরনো আঘাত খুব গভীর হলে এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে। ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা চান মানুষ ভুল করবেই। কখনও ভুলটি সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারি, আবার কখনও অনেক বছর পর উপলব্ধি হয় যে নিজের কোনও কথা বা আচরণে কাছের মানুষ কষ্ট পেয়েছেন। এই দিনটি হতে পারে নিজের আচরণের দিকে ফিরে তাকানোর একটি সুযোগ। কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া যায়। ফোন করা, চিঠি লেখা কিংবা সরাসরি দেখা করে নিজের ভুল স্বীকারসহ পরিস্থিতি অনুযায়ী যে কোনও পথ বেছে নেওয়া যেতে পারে। আন্তরিক ক্ষমা চাওয়া অনেক সময় পুরনো সম্পর্কের দূরত্ব কমানোর পথ তৈরি করে। তবে ক্ষমা চাইতে গিয়ে নিজের ভুলের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে সরাসরি নিজের আচরণের জন্য অনুতপ্ত হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকেও ক্ষমা করতে শিখুন অন্যকে ক্ষমা করার চেয়েও অনেক সময় নিজেকে ক্ষমা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অতীতের ভুল, ব্যর্থতা কিংবা ভুল সিদ্ধান্তের জন্য অনেকে দীর্ঘদিন নিজেকেই দোষ দিতে থাকেন। এতে অপরাধবোধ ও অনুশোচনা আরও গভীর হতে পারে। নিজেকে ক্ষমা করার অর্থ নিজের ভুলকে অস্বীকার করা নয়। বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা। কী ঘটেছিল তা স্বীকার করা, নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ভবিষ্যতে একই ভুল যাতে না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কীভাবে পালন করবেন এই দিন? নিজের সম্পর্ক ও মানসিক অবস্থার দিকে একটু সময় দিয়ে তাকানোই হতে পারে দিনের সবচেয়ে অর্থপূর্ণ উদ্‌যাপন। কাউকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, নিজের কোনও ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে পারেন কিংবা দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রতি জমে থাকা রাগ ও অপরাধবোধ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে পারেন। প্রিয়জনের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা, পুরনো ভুল বোঝাবুঝি মেটানো কিংবা নিজের জন্য কিছুটা নিরিবিলি সময় রাখাও হতে পারে এই দিনের অংশ। ক্ষমা কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিভিন্ন গবেষণায় ক্ষমা করার মানসিকতার সঙ্গে ভালো মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ক্ষোভ ও তিক্ততা ধরে রাখার বদলে ক্ষমা করার অভ্যাস মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক। তবে প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা। তাই কোনও সম্পর্ক পুনরায় গড়ে তোলা বা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সব পরিস্থিতিতে জরুরি নয়। বিশেষ করে যেখানে সম্পর্কটি ক্ষতিকর বা অনিরাপদ, সেখানে নিজের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। শেষ পর্যন্ত ক্ষঅন্য কারও জন্য মা করা কোনও বাধ্যতামূলক কাজ নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি নিজের মনকে পুরনো কষ্টের ভার থেকে কিছুটা মুক্ত করার একটি পথ। তাই এই দিনে অন্যকে ক্ষমা করার পাশাপাশি নিজেকেও একটু সহানুভূতির চোখে দেখার চেষ্টা করা যেতে পারে।

ক্ষমা করলে মন হালকা হয়, সম্পর্কও ফেরে স্বাভাবিক ছন্দে

ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯০২

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭১ জনে। সোমবার (৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও চারজন নারী। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতদের মধ্যে পুরুষের হার প্রায় ৪৮ শতাংশ এবং নারীর হার ৫২ শতাংশ। রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন করে ১ হাজার ৯০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৮ হাজার ৩৬০ জন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৯৮৮ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ৮২ হাজার ৩৩৫ জন। নতুন ভর্তি রোগীর হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ৪০১ জন। খুলনা বিভাগে ৩০৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭২ জন, বরিশালে ২১৬ জন, রাজশাহীতে ১০৫ জন, ময়মনসিংহে ৯৮ জন এবং রংপুরে ৬৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ২০৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ২২৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে বেশি তিনজন মারা গেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায়। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৭১ জনে পৌঁছেছে।

ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯০২

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে যে ১০ কারণে

বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর তালিকায় এখন অসংক্রামক রোগের আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৩ সালে বিশ্বের মোট ৬ কোটি ১০ লাখ মৃত্যুর মধ্যে ৩ কোটি ৩০ লাখ, অর্থাৎ প্রায় ৫৪ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল শীর্ষ ১০টি কারণ। ২ অক্টোবর প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর ‘দ্য টপ ১০ কজেস অব ডেথ’ প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের বৈশ্বিক মৃত্যুর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের আটটিই অসংক্রামক রোগ। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজে। ২০২৩ সালে এ রোগে প্রায় ৯৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ১৬ শতাংশ। ২০০০ সালের তুলনায় এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৩০ লাখ। মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ স্ট্রোক। ২০২৩ সালে এতে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১১ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)। এ রোগে মারা গেছে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ। চতুর্থ প্রধান কারণ নিম্ন শ্বাসনালীর সংক্রমণ। ২০২৩ সালে এ রোগে ২৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব কমে আসায় রোগটি আবার বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগে পরিণত হয়েছে। এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৯ সালের মহামারিপূর্ব পর্যায়েও ফিরে গেছে। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে আলঝেইমার রোগ ও অন্যান্য ডিমেনশিয়া। ২০২৩ সালে এসব রোগে ২১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিশ্বব্যাপী আলঝেইমার ও অন্যান্য ডিমেনশিয়ায় মৃত্যুর ৬৬ শতাংশই নারী। ষষ্ঠ প্রধান মৃত্যুর কারণ ডায়াবেটিস। ২০২৩ সালে এ রোগে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০০০ সালের তুলনায় ডায়াবেটিসে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। সপ্তম অবস্থানে রয়েছে শ্বাসনালি, ব্রঙ্কাস ও ফুসফুসের ক্যানসার। ২০০০ সালে এ রোগে ১১ লাখ মানুষের মৃত্যু হলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখে। অষ্টম প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ। এরপর নবম অবস্থানে রয়েছে কিডনি রোগ। ২০০০ সালে বিশ্বে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগের অবস্থান ছিল ১৭তম। ২০২৩ সালে তা উঠে এসেছে নবম অবস্থানে। এ সময়ে কিডনি রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৮৬ শতাংশ। দশম অবস্থানে রয়েছে ডায়রিয়াজনিত রোগ। বদলে গেছে মৃত্যুর ধরন ডব্লিউএইচওর তথ্য বলছে, গত দুই দশকে বিশ্বে মৃত্যুর ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০০০ সালে শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের তালিকায় থাকা এইচআইভি/এইডস এখন আর সেই তালিকায় নেই। ২০০০ সালে বিশ্বের মৃত্যুর সপ্তম প্রধান কারণ ছিল এইচআইভি/এইডস। ২০২৩ সালে তা নেমে এসেছে ২২তম অবস্থানে। এ সময়ে এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে কিডনি রোগের মতো কিছু অসংক্রামক রোগের প্রভাব বেড়েছে। একই সময়ে ফুসফুসের ক্যানসার ও ডায়াবেটিসেও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কোভিড-১৯ও ২০২৩ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। মহামারির তীব্র সময়ে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ সরাসরি প্রায় ৫৩ লাখ এবং ২০২১ সালে ৯৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল। ২০২৩ সালে সরাসরি কোভিড-১৯-এ মৃত্যুর সংখ্যা কমে প্রায় ৯ লাখে দাঁড়ায়। ফলে বিশ্বে মৃত্যুর কারণ হিসেবে এর অবস্থান নেমে আসে ১৪তম স্থানে। আয়ের সঙ্গে বদলায় মৃত্যুর কারণ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গেও মৃত্যুর কারণের ধরনে বড় পার্থক্য রয়েছে। স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে এখনো সংক্রামক রোগই বড় মৃত্যুঝুঁকি। ২০২৩ সালে এসব দেশের শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের সাতটিই ছিল সংক্রামক রোগ। স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে নিম্ন শ্বাসনালীর সংক্রমণ দীর্ঘদিন ধরেই মৃত্যুর প্রধান কারণ। এ ছাড়া ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, এইচআইভি/এইডস ও ডায়রিয়াজনিত রোগও বড় কারণ হিসেবে রয়েছে। নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চিত্রটি তুলনামূলকভাবে মিশ্র। ২০২৩ সালের শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের মধ্যে পাঁচটি ছিল অসংক্রামক রোগ, চারটি ছিল সংক্রামক, মাতৃ, নবজাতক ও পুষ্টিসংক্রান্ত রোগ এবং একটি ছিল আঘাতজনিত কারণ, সড়ক দুর্ঘটনা। এই শ্রেণির দেশগুলোতে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক ও সিওপিডিতে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে ডায়াবেটিসও দ্রুত বেড়েছে। ২০০০ সালে মৃত্যুর কারণের তালিকায় ১৫তম অবস্থানে থাকা ডায়াবেটিস ২০২৩ সালে উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অসংক্রামক রোগের আধিপত্য আরও বেশি। ২০২৩ সালের শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের আটটিই ছিল অসংক্রামক রোগ। ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক ও ফুসফুসের ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই শ্রেণির দেশগুলোতেই কোভিড-১৯ এখনো শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের মধ্যে রয়েছে, তবে ২০২১ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় এ রোগে মৃত্যু ৮৫ শতাংশ কমেছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের নয়টিই ছিল অসংক্রামক রোগ। এসব দেশে জনসংখ্যার বার্ধক্যের কারণে অধিকাংশ প্রধান রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। আলঝেইমার ও অন্যান্য ডিমেনশিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা ২০০০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ হয়েছে। ২০২৩ সালে এসব রোগ উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। কেন মৃত্যুর কারণ জানা জরুরি ডব্লিউএইচও বলছে, মানুষ কেন মারা যায়, তা জানা শুধু মৃত্যুর হিসাব রাখার জন্য নয়। কোন রোগ বা ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব, কোথায় স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন বেশি এবং কোন পদক্ষেপ কার্যকর হচ্ছে, তা নির্ধারণেও এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। মৃত্যুর কারণের নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি পরিবহন, খাদ্য ও কৃষি এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো ক্ষেত্রেও নীতি নির্ধারণ করা যায়। বয়স, লিঙ্গ ও ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকির বৈষম্যও চিহ্নিত করা সম্ভব। ডব্লিউএইচওর ২০২৬ সালের গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৬০টির বেশি রোগ ও আঘাতের কারণে মৃত্যু এবং রোগের প্রবণতার তথ্য তুলে ধরেছে। সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে যে ১০ কারণে

অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা

চুল ত্বকেরই একটি বিশেষ অংশ। মাথার চুল ঝরে দিন দিন টাক পড়ে যাচ্ছে বা চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে, এমন লোকের সংখ্যা অনেক। প্রতিদিন ১০০টির বেশি চুল পড়লে মাথা ফাঁকা হতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা এর বিভিন্ন কারণের কথা বলে থাকেন। অল্প বয়সে চুল পড়ার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ দায়ী: ১. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: পুরুষের শরীরে যখন টেস্টোস্টেরন হরমোন ‘ডাই-হাইড্রোটেস্টোস্টেরন’-এ রূপান্তর হয়, তখন তা চুলের ফলিকলগুলোকে ছোট করে ফেলে। এ কারণে চুল পাতলা হয়ে ঝরে পড়া শুরু করে। ২. অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিদ্রা: পড়ালেখা ও ক্যারিয়ারের জন্য দৌড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত স্ট্রেস ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ নামক জটিলতা সৃষ্টি করে। এ কারণে হঠাৎ প্রচুর পরিমাণ চুল পড়া শুরু হয়। ৩. পুষ্টির অভাব ও দূষণ: প্রোটিন, বায়োটিন ও আয়রনের অভাবের পাশাপাশি শহরের ধুলাবালি ও শক্ত পানি চুলের গোড়াকে দুর্বল করে দেয়। অল্প বয়সে টাক পড়া রোধে করণীয় ১. সঠিক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার নির্বাচন ঘন ঘন চুল ধোয়ার জন্য সালফেট ও প্যারাবেনমুক্ত মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। চুল ধোয়ার পর প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ক্যাস্টর অয়েল বা নারকেল তেল কিছুটা গরম করে মাথায় মাসাজ করে নিতে পারেন। যা স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। ২. ডায়েটে আনুন পরিবর্তন চুল মূলত ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিনে তৈরি হয়। এ জন্য প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম, মাছ, সোয়াবিন, পালং শাক ও বাদাম রাখুন। কারণ, বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়তা করে। ৩. ডার্মারোলার ব্যবহার ত্বক বিশেষজ্ঞরা ঘরোয়া যত্নে ডার্মারোলার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এটি মাথার ত্বকে সূক্ষ্ম ছিদ্র তৈরি করে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং হেয়ার সিরাম বা ওষুধের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা নতুন চুল গজাতে সহায়ক। ৪. ডিএইচটি ব্লকার খাবার কুমড়োর বীজ, গ্রিন টি ও আমলকী প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার খাবার হিসেবে কাজ করে। এসব খাবার নিয়মিত খেলে হরমোনজনিত চুল পড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। ৫. ধূমপান পরিহার ও পর্যাপ্ত ঘুম ধূমপানের কারণে চুলের ফলিকলে রক্ত প্রবাহ হ্রাস পায়। তাই চুল পড়া রোধে ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি। পাশাপাশি দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন, কারণ ঘুমের মধ্যেই শরীরের কোষগুলো মেরামত হয়। চিকিৎসা চুল পড়া রোধে এর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। আর চুলের পুষ্টি আসে হেয়ার বালবের শিরা-উপশিরা থেকে। তাই চুলের পুষ্টি সঞ্চালন করতে হলে হেয়ার ফলিকলের নিচে, ত্বকের গভীরে হেয়ার বালবে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে হবে। রোগীভেদে চিকিৎসক খাওয়ার ওষুধ, চুল ঝরা বন্ধের লোশন, শ্যাম্পু ইত্যাদি প্রেসক্রাইব করে থাকেন। আধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে মেসোথেরাপি ও পিআরপি। এ ধরনের আধুনিক চিকিৎসা করতে বেশ কয়েকটি সেশন ও সময় লাগে। অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বা বংশগত টাকের জন্য এটি একটি কার্যকরী চিকিৎসা। চুলের চিকিৎসা দীর্ঘ মেয়াদে নিতে হয়। তাই ধৈর্য প্রয়োজন এবং লাইফস্টাইল ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন কাম্য। 

অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

চোখের স্ট্রোকের জন্য কি হাইপারটেনশন দায়ী?চোখের চিকিৎসক ডা. সুমন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘হাইপারটেনশনের কারণে চোখের একাধিক ক্ষতি হতে পারে।’ উচ্চ রক্তচাপে চোখের রেটিনার শিরায় ব্লকেজ তৈরি হয়। এর ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এই অবস্থাকে ‘সেন্টাল রেটিনাল ভেইন অকুলেশন’ বলা হয়। এটি শিরার পাশাপাশি ধমনীতেও হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডা. মুখোপাধ্যায়। আসলে চলতি ভাষায় এই অবস্থাকেই চোখের স্ট্রোক বলা হয়।সিআরভিও-এ কি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন?সিআরভিও-এর একাধিক উপসর্গ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কমন হলো- হঠাৎ করে একটা চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া। এছাড়া চোখে রক্তপাত হলে চোখের ভিতর কালো ঝুলের মতো অংশ দেখা যায়।‘সিআরভিও-এর চিকিৎসা হলো ইনজেকশন বা রেটিনাল লেজার’ বলেন ডা. মুখোপাধ্যায়। সিআরভিও হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কতটা ক্ষতিকর?ডা. মুখোপাধ্যায়ের সংযোজন, ‘প্রেশার খুব বেশি থাকলে চোখের ভিতর যে অপটিক নার্ভ থাকে, তারও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।’ এই অবস্থায় চোখে রক্তপাতও হতে পারে। একে চিকিৎসার ভাষায় হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি বলা হয়।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কি গর্ভবতীদেরও হয়?হাইপারটেনশনে ভয় রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও। অনেক সময় গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের ব্লাড প্রেশার অত্যধিক বেড়ে যায়। যাকে বলে প্রেগন্যান্সি হাইপারটেনশন বা ‘একলাম্পসিয়া’। এই অবস্থা তৈরি হলে মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়। এই পর্যায়ে পৌঁছনোর ঠিক আগে চোখের উপর প্রভাব পড়ে। দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। এই লক্ষণ দেখে বোঝা যায় যে, ‘একলাম্পসিয়া’ খারাপ দিকে এগোচ্ছে ‘অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার কন্ট্রোলে রাখা দরকার কেন?এছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার বারবার যাচাই করা দরকার। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকা অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে চোখে রক্তপাত হতে পারে এবং চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

রক্তচাপ কতটা বেড়ে গেলে হার্টঅ্যাটাক হতে পারে

প্রথমত, উচ্চ রক্তচাপ কখন হয় এবং এটি আসলে কী তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। সহজ কথায়, এটি এমন একটি স্বাস্থ্যগত অবস্থা যেখানে রক্ত পাম্প করার জন্য হৃদপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হয়। এর ফলে, শিরাগুলির উপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যার কারণে তাদের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। গুরুতর ক্ষেত্রে, শিরা ফেটে যেতে পারে, যা মারাত্মক হতে পারে।উচ্চ রক্তচাপের পরিসীমা কতযদি শরীরের রক্তচাপের পরিসীমা ১২০/৮০ মিমি এইচজি হয় তবে তাকে স্বাভাবিক রক্তচাপ বলা হয়। কিন্তু যখন এই পরিসীমা সিস্টোলিক ১৩০/১৩৯ এবং ডায়াস্টোলিক ৮০ থেকে ৯০ মিমি এইচজি-র মধ্যে পড়ে, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপের অবস্থা বলা হয়।রক্তচাপের কোন স্তরটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও হার্টঅ্যাটাকের জন্য অনেকাংশে দায়ী। পরিসরের কথা বলতে গেলে, যদি রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিমিএইচজি-র উপরে পৌঁছায়, তাহলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে, আপনার অবিলম্বে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত যাতে অবস্থা গুরুতর না হয়।দৃশ্যমান লক্ষণগুলি কী কীরক্তচাপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি কোনও গুরুতর লক্ষণ দেখায় না। এজন্যই একে 'নীরব ঘাতক' বলা হয়। তবে, কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, চোখ লাল হওয়া, বুকে ব্যথা, নাক দিয়ে রক্তপাত এবং বমি বমি ভাব অনুভব করতে পারেন। অতএব, যদি আপনার রক্তচাপের সমস্যা থাকে, তাহলে নিয়মিত আপনার রিডিং পরীক্ষা করে দেখুন এবং গুরুতর অবস্থার ক্ষেত্রে, অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

রক্তচাপ কতটা বেড়ে গেলে হার্টঅ্যাটাক হতে পারে

রক্তচাপ কতটা বেড়ে গেলে হার্টঅ্যাটাক হতে পারে

প্রথমত, উচ্চ রক্তচাপ কখন হয় এবং এটি আসলে কী তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। সহজ কথায়, এটি এমন একটি স্বাস্থ্যগত অবস্থা যেখানে রক্ত পাম্প করার জন্য হৃদপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হয়। এর ফলে, শিরাগুলির উপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যার কারণে তাদের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। গুরুতর ক্ষেত্রে, শিরা ফেটে যেতে পারে, যা মারাত্মক হতে পারে।উচ্চ রক্তচাপের পরিসীমা কতযদি শরীরের রক্তচাপের পরিসীমা ১২০/৮০ মিমি এইচজি হয় তবে তাকে স্বাভাবিক রক্তচাপ বলা হয়। কিন্তু যখন এই পরিসীমা সিস্টোলিক ১৩০/১৩৯ এবং ডায়াস্টোলিক ৮০ থেকে ৯০ মিমি এইচজি-র মধ্যে পড়ে, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপের অবস্থা বলা হয়।রক্তচাপের কোন স্তরটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও হার্টঅ্যাটাকের জন্য অনেকাংশে দায়ী। পরিসরের কথা বলতে গেলে, যদি রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিমিএইচজি-র উপরে পৌঁছায়, তাহলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে, আপনার অবিলম্বে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত যাতে অবস্থা গুরুতর না হয়।দৃশ্যমান লক্ষণগুলি কী কীরক্তচাপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি কোনও গুরুতর লক্ষণ দেখায় না। এজন্যই একে 'নীরব ঘাতক' বলা হয়। তবে, কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, চোখ লাল হওয়া, বুকে ব্যথা, নাক দিয়ে রক্তপাত এবং বমি বমি ভাব অনুভব করতে পারেন। অতএব, যদি আপনার রক্তচাপের সমস্যা থাকে, তাহলে নিয়মিত আপনার রিডিং পরীক্ষা করে দেখুন এবং গুরুতর অবস্থার ক্ষেত্রে, অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

রক্তচাপ কতটা বেড়ে গেলে হার্টঅ্যাটাক হতে পারে

‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ কী? কেন এ সমস্যায় পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি ভোগেন?

তবে যখন আঘাত লাগে, হাড় ভাঙে বা হাড়ে চিড় ধরে, তখন কষ্টের শেষ থাকে না। আর যত্নআত্তির প্রয়োজনও সেই সময়েই পড়ে। তখন সাবধানে থাকতে কী করা উচিত, হাড় ভাল রাখার কী কী ব্যায়াম আছে, কী খেলে হাড় মজবুত হবে— ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। হাড় কীভাবে ভাঙে, কখন ভাঙে, কাদের বেশি হয়— এই নিয়ে সচেতনতা কম মানুষেরই আছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা বা আঘাত লাগা ছাড়াও কিন্তু হাড় ভাঙে বা হাড়ে চিড় ধরে, যাকে ‘বোন ফ্র্যাকচার’ বল হয়। তেমনই একটি হল ‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ যেই সমস্যাটি নারীদেরই বেশি হয়।‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ’ থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পুরুষের চেয়ে নারীরাই হাড়ের স্ট্রেস ফ্র্যাকচারে বেশি ভোগেন। যারা খেলাধূলা বেশি করেন, জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দৌড়ন, জগিং বা ওয়েট ট্রেনিং করেন, অথবা নাচ, অ্যারোবিক্স করেন, তাদের এই ফ্র্যাকচার বেশি হয়।‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ কীভাবে হয়?হাড়ের অনেক স্তর থাকে। একেবারে বাইরে একটা পর্দা থাকে, যাকে পেরিঅস্টিয়াম বলা হয়, তারপর থাকে কর্টিকাল বোন, তার মাঝে থাকে মজ্জা। এটি অনেকটা রডের মতো, ত্রিমাত্রিক গঠনের। ওই অংশটি যদি ভেঙে যায় বা থেঁতলে যায়, তখন বলা হয় হাড়ে ‘ফ্র্যাকচার’ হয়েছে। এই বিষয়ে অস্থি চিকিৎসক সুব্রত গড়াই জানাচ্ছেন, প্রধানত ফ্র্যাকচার হয় কোনো ট্রমা বা ইনজুরি থেকে। তাতে হয় হাড় সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যায় বা তাতে চিড় ধরতে পারে। হাড়ের সঙ্গে যে পেশি জুড়ে থাকে, সেগুলোতে ক্ষত হয়, হাড়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে পারে। শরীরের কোনো একটি অংশের হাড় ও পেশিতে ক্রমাগত চাপ পড়ার কারণে যখন ওই অংশের পেশি দুর্বল হয় ও হাড়ে চিড় ধরে, তখন তাকে স্ট্রেস ফ্র্যাকচার বলে। এটি গোড়ালি মচকে যাওয়া বা হাত ভেঙে যাওয়ার মতো হঠাৎ করে ঘটা দুর্ঘটনা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে হাড়ে চাপ পড়তে পড়তে বা আঘাত লেগে হাড় দুর্বল হয়ে গিয়ে ফ্র্যাকচার হয়।এটি খেলোয়াড়দের বেশি হয়, তবে যারা খুব বেশি দৌড়োদৌড়ি বা ভারি ব্যায়াম করেন, তাদেরও হতে পারে। অস্টিয়োপোরোসিস থেকেও ‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ হতে পারে। হাড়ের ভিতরে টিউমার বা কোনো সংক্রমণের কারণে হাড়ের শক্তি কমে গিয়েও এমন হতে পারে। নারীদের রজোনিবৃত্তির পরে ‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কারণ ওই সময়ে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে, ফলে শরীরের প্রতিরোধ শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।

‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ কী? কেন এ সমস্যায় পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি ভোগেন?

তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক কেন হয়? ঝুঁকিমুক্ত থাকতে করণীয়

রাস্তাঘাটে খোলা খাবার খাওয়া যাবে না। এই গরমে ডায়রিয়া অনেক বেশি হয় তাই সবসময় খাবারের দিকটা একটু খেয়াল রাখতে হবে। সহজে হজম হয় এ ধরনের খাবার খেতে হবে। খোলা বাসি খাবার খাওয়া একদমই  যাবে না। এগুলো খেলে পাতলা পায়খানা-ডায়রিয়া হবে; শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়বে। রাস্তায় ও ফুটপাতের অপরিষ্কার, নোংরা পরিবেশে তৈরি শরবত, চা বা অন্যান্য খাবার খাওয়া পরিহার করতে হবে এবং অনিরাপদ পানি পান করা যাবে না।একটানা রোদের মধ্যে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যারা শ্রমিক, দিনমজুর তারা এই রোদে টানা বাইরে কাজ করছেন তারা অবশ্যই এক নাগারে কাজ না করে ছায়ার নিচে আধাঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে তারপর আবার কাজ করবেন। বারবার মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দেবেন।

তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক কেন হয়? ঝুঁকিমুক্ত থাকতে করণীয়

এইডস রোগীর জন্য দুটি নতুন ওষুধ তৈরির দাবি বিজ্ঞানীদের

এইচআইভি মানুষের দেহে প্রবেশ করলে সবার আগে শরীরের রোগপ্রতিরোধী টি-কোষকে নিশানা করে থাকে। ভয়ঙ্কর এ রোগ খুব দ্রুত জিনগতভাবে বদলে যেতে পারে এ ভাইরাস। মানুষের দেহে প্রবেশ তাড়াতাড়ি বিভাজিত হয়ে সংখ্যাতেও বাড়তে পারে। শরীরের রোগপ্রতিরোধী কোষগুলোকে নষ্ট করতে থাকে। ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। সাধারণ কোনো সংক্রমণ হলেও তা বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রাণনাশের আশঙ্কা বেড়ে যায়। সে জন্য রোগীদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়।গবেষকরা দাবি করে বলেন, নতুন ওষুধের যদি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না হয়, তা হলে দুই মাস অন্তর ইনজেকশন দিতে থাকলে রোগীকে প্রতিদিন কড়া ওষুধ খেতে হবে না। আর সংক্রমণের ভয়ও কম থাকে। নতুন এই ওষুধ কতটা কার্যকর, সেটাই এখন দেখার বিষয়।ওষুধ দুটির নাম হচ্ছে— রিলপিভিরিন ও ক্যাবোটেগ্রাভির। দুটিই অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ। গবেষকরা জানিয়েছেন, ওষুধ দুটির ‘কম্বিনেশন’ তৈরি করা হচ্ছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট ডোজে মিশিয়ে তা ইনজেকশনের মাধ্যমে রোগীকে দেওয়া হবে। প্রথম ডোজের এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। এরপর প্রতি দুই মাস অন্তর সেই ইনজেকশন এইডস রোগীদের দেওয়া শুরু হবে।

এইডস রোগীর জন্য দুটি নতুন ওষুধ তৈরির দাবি বিজ্ঞানীদের

এই ৫ খাবারে হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি

ক্রিয়াজাত মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, সোডিয়াম এবং প্রিজারভেটিভ বেশি থাকে, যা রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, প্রতিদিন ৫০ গ্রামের বেশি প্রক্রিয়াজাত মাংস গ্রহণ করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি ১৮% বৃদ্ধি করে।ভাজা খাবারনিয়মিত ভাজা খাবার খেলে হৃদপিণ্ডের ধমনীতে বাধা তৈরি হতে পারে। ভাজা খাবারে স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্স ফ্যাট বেশি থাকে, যা ধমনীতে প্লাক জমা বাড়ায়। এই প্লাক ধমনী সংকুচিত করতে পারে, রক্ত প্রবাহ হ্রাস করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।বেশি মিষ্টি খাবারকোল্ড ড্রিঙ্কস, ক্যান্ডি এবং উচ্চ পরিমাণে চিনিযুক্ত মিষ্টি স্থূলতা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।লবণ বেশি থাকা খাবারচিপস, স্ন্যাকস এবং টিনজাত খাবারে উচ্চ পরিমাণে সোডিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদপিণ্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করে। সোডিয়াম শরীরে পানির পরিমাণ বাড়ায়, যার কারণে রক্তের পরিমাণ এবং চাপ উভয়ই বৃদ্ধি পায়। উচ্চ রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের পাম্পিং চেম্বারের প্রাচীরকে ঘন করে তোলে, যা হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার কারণ হতে পারে।লাল মাংস

এই ৫ খাবারে হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি

চশমা ছাড়াই বাচ্চাদের দৃষ্টি সমস্যা সমাধানে আসছে এল আই ড্রপ

মূলত মায়োপিয়ার চিকিৎসায় এই আই ড্রপের ব্যবহার হবে। মায়োপিয়া মানেই হল দূরের দৃষ্টি ঝাপসা হতে থাকা। দেশে মায়োপিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। ক্রমাগত মোবাইল বা ট্যাবে চোখ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি দেখা, কম আলোয় মোবাইল স্ক্রল করার কারণেই দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে শিশু ও কমবয়সিরা।নতুন ফর্মুলায় আই ড্রপটি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্মাতা সংস্থা এনটড ফার্মাসিউটিক্যালস। তাদের দাবি, এই ড্রপটি চোখে দিলে মায়োপিয়ার ঝুঁকি কমবে। যে শিশুর দূরের দৃশ্য দেখতে সমস্যা হচ্ছে, স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা পড়তে পারছে না অথবা চোখে যন্ত্রণা, চোখ দিয়ে পানি পড়ার সমস্যা হচ্ছে, তারা এই আই ড্রপটি ব্যবহার করতে পারে। তবে মায়োপিয়া যদি ধরা পড়ে, তাহলে চিকিৎস

 চশমা ছাড়াই বাচ্চাদের দৃষ্টি সমস্যা সমাধানে আসছে এল আই ড্রপ