কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩, আহত ৭
কুমিল্লার দাউদকান্দি ও বরুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও এক বাস সহকারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়। অন্যদিকে, বরুড়ায় বলাকা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে চালকের সহকারী (হেল্পার) নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বাসের সাত যাত্রী।
মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের হরিপুর মসজিদসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার জিংলাতলী গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে নজরুল ইসলাম (৬২) ও তাঁর স্ত্রী ঝরনা বেগম (৪৮)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, আজ ফজরের নামাজ শেষে প্রাতভ্রমণে বের হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী। তাঁরা মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে হেঁটে হরিপুর এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাঁদের চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে তাঁরা সড়কের পাশে ছিটকে পড়েন। পরে পথচারীরা তাঁদের উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেমলাল দাস জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মহাসড়কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, আজ সকালে বরুড়া উপজেলার কুমিল্লা-বরুড়া সড়কের দেওড়া ফকিরা মোকাম এলাকায় বলাকা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটির সহকারী আতিকুল্লাহ সবুজ (২২) নিহত হন। তিনি বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অলি উল্লাহর ছেলে। এ ঘটনায় বাসের সাত যাত্রী আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় বাসটি চালাচ্ছিলেন এর মালিক মনির হোসেন। তাঁর ভাষ্য, স্টিয়ারিং লক হয়ে যাওয়ায় বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি খাদে পড়ে যায়। এ সময় বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই সহকারী সবুজের মৃত্যু হয়।
বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। নিহতের বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় স্বজনেরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দাফনের পর অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।