ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
আইন দর্পণ

রাজনীতি

বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক দলের কমিটি: পদ বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ, উঠেছে বাণিজ্যের অভিযোগ

বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক দলের কমিটি: পদ বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ, উঠেছে বাণিজ্যের অভিযোগ

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে চরম অস্থিরতা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে মাঠে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক লীগ’-এর পদধারী ব্যক্তিদের কমিটিতে পুনর্বাসন এবং এর নেপথ্যে বড় অঙ্কের ‘পদ বাণিজ্যের’ গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।সবচেয়ে বড় রহস্য তৈরি হয়েছে স্বয়ং সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের স্বাক্ষর নিয়ে। প্রথমে নিজের সইকে ‘অবৈধ ও বাতিল’ ঘোষণা করে জরুরি বিজ্ঞপ্তি এবং মাত্র ছয় দিনের মাথায় কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের ঘটনা সাংগঠনিক পরিমণ্ডলে নজিরবিহীন নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে।মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ-এর প্রধান কার্যালয় এবং সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও থমথমে পরিস্থিতি। সাধারণ কর্মচারীদের একাংশ এবং দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা এই কমিটিকে সরাসরি ‘পকেট কমিটি’ ও ‘সুবিধাবাদীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।কার্যালয়ের করিডোরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রবীণ কর্মচারী বলেন: "বিগত ১৫ বছর যারা হামলা, মামলা ও বরখাস্তের শিকার হয়ে বিআইডব্লিউটিএ থেকে বিতাড়িত ছিল, তাদের কোনো মূল্যায়ন নেই। অথচ বিগত সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী শ্রমিক লীগের সাবেক নেতারা রাতারাতি বনে গেছেন শ্রমিক দলের শীর্ষ কাণ্ডারি। এটা দলের তৃণমূলের পিঠে সরাসরি ছুরিকাঘাত।"সাধারণ শ্রমিকদের অভিযোগ, নতুন এই কমিটিকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির ভেতরে প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং যে কোনো সময় পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কমিটি অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াতেই রয়েছে বড় ধরনের নাটকীয়তা ও অসঙ্গতি। শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় প্যাডে গত ১ সেপ্টেম্বর সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিআইডব্লিউটিএ ইউনিট কমিটি অনুমোদনে তাঁর স্বাক্ষরের অপব্যবহার করা হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট স্বাক্ষরটি ‘বাতিল ও অকার্যকর’ বলে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে মাত্র ছয় দিনের মাথায়, অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বর আরেকটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগের বিজ্ঞপ্তিটি ‘প্রত্যাহার’ করে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সভাপতির এমন ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে সংগঠনের ভেতর নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে।কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিদের পূর্ববর্তী সাংগঠনিক পরিচয় ঘেঁটে দেখা যায়, বর্তমান কমিটির পদপ্রত্যাশী ও অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকজন অতীতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। পুরোনো নথিপত্র অনুযায়ী মাজহারুল ইসলাম, শাহিন উদ্দিন খান ও জিয়াদ উদ্দীন বিভিন্ন সময় শ্রমিক লীগের নানা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের সক্রিয় নেতাদের কোনো ধরনের সাংগঠনিক তদন্ত ছাড়াই রাতারাতি কীভাবে এই ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হলো, তা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ জুড়ে চলছে তীব্র সমালোচনা।এদিকে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে একটি মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই কমিটিতে পদ বাণিজ্য করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কিছু ব্যক্তিকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে এই অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাংকিং প্রমাণ প্রকাশ্যে না এলেও, সভাপতির স্বাক্ষরের বৈধতা নিয়ে সৃষ্ট নাটকীয়তা ও সমঝোতার গতিপ্রকৃতি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগকে আরও ঘনীভূত করেছে। ফলে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বশীল এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিআইডব্লিউটিএ ইউনিটের কমিটি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অবগত এবং বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আদালত থেকে বেরিয়ে আইভী বললেন, ‘জয় বাংলা’ দাবিয়ে রাখা যাবে না

গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রিকশাধালক তুহিন হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক সিটি মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভীর পুনর্জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ দেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে কড়া পুলিশি প্রহরায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পৌঁছান সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে তাকে দ্রুত আদালতকক্ষে নেওয়া হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও তার সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। শুনানিকালে আইভীর প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন আদালতে জানান, মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে পুলিশ বিস্ফোরকের কোনো আলামত কিংবা ঘটনার সঙ্গে আসামির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়নি। এছাড়া নোটিশ পাওয়ার পরও মামলার বাদী ও নিহত তুহিনের স্ত্রী আলেয়া আক্তার মিম আদালতে হাজির হননি। আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, এর আগেও এই মামলায় তার মক্কেল জামিনে ছিলেন। ফলে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ এবং তার ক্লায়েন্টের পুনরায় জামিন মঞ্জুরের জন্য তারা আবেদন জানান। অন্যদিকে, শুনানিতে জামিনের বিরোধিতা করেন নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাকির হোসেন। তিনি আদালতে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই জামিনের বিরুদ্ধে 'নারাজি পিটিশন' জমা দেওয়া হবে। তবে এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পিপি জাকির হোসেনের কাছে জানতে চান—ঠিক কোন আইনের ভিত্তিতে তিনি নারাজি পিটিশন দেবেন? উভয় পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ আইভীর পুনরায় জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। আইনি কার্যক্রম শেষে আদালত থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় সেলিনা হায়াৎ আইভী উচ্চস্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘জয় বাংলা, দাবিয়ে রাখা যাবে না।’ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৪ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে থাকা অন্য একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।

আদালত থেকে বেরিয়ে আইভী বললেন, ‘জয় বাংলা’ দাবিয়ে রাখা যাবে না

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত, বিজিবির পাল্টা ফায়ার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সাজুল হোসেন (৩০) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাল্টা ফায়ার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জামালপুর সীমান্তের ১৫২/১০-এস নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাজুল হোসেন জামালপুর গ্রামের সাবাজ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে ঘাস কাটতে গেলে ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নার্সারি ক্যাম্পের টহলদল তাঁকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকালে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হন। ঘটনার পরপরই জামালপুর বিওপির বিজিবি টহলদল দ্রুত সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিজিবিও পাল্টা ফায়ার করে। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি রয়েছে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এদিকে, গুলিবিদ্ধ সাজুল হোসেনকে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোহিদ হাসান তুহিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি যাচাই করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত, বিজিবির পাল্টা ফায়ার

কলকাতায় মারা গেলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান।  রোটনের মৃত্যুর বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন তার মামা তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী সুমন। তিনি জানান, রোটন কোলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মারা গেছেন।  এদিকে সকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসেও রোটনের মৃত্যুর খবর জানান।  ওই পোস্টে আমিনুল ইসলাম লেখেন, ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে রোটনের সঙ্গে তার পরিচয়। ১৯৯৬ সালের আন্দোলনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রামে একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতিও স্মরণ করেন তিনি। রোটনের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম আরও লেখেন, মুজিবাদর্শের কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেছিলেন রোটন। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হন এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। স্ট্যাটাসে রোটনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আমিনুল ইসলাম তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। গত ৪ অক্টোবর রাতে রোটনকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় অবস্থান করছিলেন তিনি। মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন। ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া রোটন পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় হন। চট্টগ্রামের রাউজানের এই রাজনীতিবিদ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্যও হন তিনি।

কলকাতায় মারা গেলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন

বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মাহদীকে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। মাহদী নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আজ আমার ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে করে জ্যামাইকা যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইটটি ছিল রাত ৯.৩৫ মিনিটে। কিন্তু আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি।’ তার দাবি, সব মামলায় জামিনে থাকলেও তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। দেশের বাইরে যেতে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে আদালতের অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে চলে যান তিনি। 

বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মাহদীকে

বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে আখতারুজ্জামানের জামিন হয়নি: গোলাম পরওয়ার

বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।  মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমান বন্দরে অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনা সাধারণ কোনো বিষয় নয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী জায়গা থেকে নির্দেশনা ছাড়া এটি ঘটতে পারে না। আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগ দেওয়ার আক্রোশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিমান বন্দরের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, বিমান বন্দরে ট্রলি পাওয়া যায় না। লাগেজ পেতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হয়। জনাব আখতারুজ্জামান অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে পরে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দেওয়া জামিনযোগ্য মামলায় আদালতে তার জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে।  তিনি আরও বলেন, সরকারের মন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে জাতির সামনে সেদিনের ঘটনা নিয়ে অসত্য কথা বলে শপথ ভঙ্গ করেছেন। মন্ত্রী সৎ হলে অব্যবস্থাপনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন, তাদের প্রত্যাহার করতেন এবং মামলা দিতেন; কিন্তু মন্ত্রী তা করেননি। বরং অব্যবস্থাপনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা কর্মকর্তার দ্বারা আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য করা হয়েছে। আখতারুজ্জামান সমাজে একজন সম্মাননীয় ব্যক্তি। অথচ তাকে হাতকড়া, হেলমেট ও জ্যাকেট পড়িয়ে আদালতে আনা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামানকে ডিভিশন দেওয়া হয়নি। তিনি যে সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা- সে গেজেট আমরা আদালতে উপস্থাপন করেছি। তবুও তাকে ডিভিশন দেওয়া হয়নি। ৭৫ বছর বয়সী আখতারুজ্জামান অসুস্থ, কিন্তু তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। আমরা অবিলম্বে তার ডিভিশনের আদেশ কারাগারে পাঠানোর দাবি জানাচ্ছি। বিচারকরা ভয় পাচ্ছেন তাকে ডিভিশন দিলে তার কি না হয়, এর পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।  গোলাম পরওয়ার বলেন, আদালতে বিএনপি আইনজীবীরা মব সৃষ্টি করেছে। আখতারুজ্জামানের আইনজীবীদের উপর হামলা চালিয়েছে, আমাদের নেতাকর্মী ও আখতারুজ্জামানের আত্মীয়স্বজন যারা তাকে দেখতে গিয়েছিলেন, তাদের উপর হামলা করেছে। আমরা ধিক্কার জানাই আওয়ামী ফ্যাসিবাদী যুগে আদালতে যে দৃশ্য করা হতো, যে ঘটনা ঘটানো হতো, আমরা তারই পুনরাবৃ্ত্তি দেখতে পাচ্ছি। আচরণের দিক থেকে কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আর এখনকার বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ সারা দেশে হচ্ছে। প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দারুণভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে, প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে। তাকে মুক্তি না দিলে রেমিট্যান্স শাটডাউনের ঘোষণা দেবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তারা। এসব বিবেচনায় নিয়ে আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।  এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত।

বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে আখতারুজ্জামানের জামিন হয়নি: গোলাম পরওয়ার

দলীয় পরিচয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার কতটা কঠোর?

একদিকে অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ও রাজনৈতিক পরিচয় না দেখার ঘোষণা, অন্যদিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানী ও আশপাশে দখল, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের একাধিক ঘটনা। এর কয়েকটিতে ক্ষমতাসীন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নাম আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা কঠোর হতে পারছে? মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও পরে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে জমি দখলের অভিযোগে হামলা, আদাবরে একটি ভবন দখলের চেষ্টা এবং ইসিবি চত্বরে একটি আবাসন প্রকল্প ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা ঘটে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। এর বাইরে সাভারের আশুলিয়ায় একটি মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় স্থানীয় বিএনপির এক নেতাসহ ৭৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম এসেছে, যদিও অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধের তদন্ত বা অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলছে কি না, সেই আলোচনাও সামনে এসেছে। একদিকে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা, অন্যদিকে সহিংসতা অব্যাহত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই। গত ১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একই নির্দেশ দিয়ে বলেন, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় হচ্ছে সে অপরাধী। তবে সেপ্টেম্বরের মানবাধিকার পরিস্থিতির পরিসংখ্যান বলছে, রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) হিসাবে, সেপ্টেম্বরে দেশে ৬৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় চারজন নিহত এবং ৫২৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ৩৫টি ঘটনায় একজন নিহত ও অন্তত ৩৪০ জন আহত হন। বিএনপি-জামায়াতের সাতটি সংঘর্ষে ৬১ জন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের ছয়টি ঘটনায় ৪২ জন আহত এবং একজন নিহত হন। জামায়াত-আওয়ামী লীগের দুটি ঘটনায় একজন নিহত হন। আগস্টে ৭০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় সাতজন নিহত ও ৫৩৬ জন আহত হয়েছিলেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, অন্তঃকোন্দল এবং চাঁদাবাজি এসব সংঘাতের অন্যতম কারণ। সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক, যৌথ ও বিশেষ অভিযানে ২৮৭টি ঘটনায় অন্তত ২১ হাজার ২০৮ জনকে গ্রেফতারের তথ্যও দিয়েছে এইচআরএসএস। একই মাসে ৩৫টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) পর্যবেক্ষণে সেপ্টেম্বরে ৬৫টি মব সহিংসতার ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৭৪ জন আহত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৭১টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার এবং কারা হেফাজতে ২৪ জনের মৃত্যুর তথ্যও দিয়েছে সংস্থাটি।  অপরাধ মোকাবিলায় তিন ধাপের পরিকল্পনা সহিংস অপরাধ, কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র ও ডিজিটাল জালিয়াতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত অপরাধের তথ্য পর্যালোচনা করে তিন ধাপের পরিকল্পনা তৈরি করেছে তারা। পুলিশের ওই পর্যালোচনা অনুযায়ী, দেশে বছরে গড়ে ৯ হাজার ১৭৮টি চুরি, ২ হাজার ৭৩৩টি ডাকাতি, ১ হাজার ৩৩৩টি ছিনতাই এবং ৪৪৫টি দস্যুতার মামলা হয়। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ব্যবহার করে ১ হাজার ১০৬টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে অপহরণের মামলা হয়েছে ৩ হাজার ১১২টি। পরিকল্পনার প্রথম ধাপে গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর টহল ও টার্গেটেড অভিযান, বডি ক্যামেরা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ৯৯৯ ও অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং জেলা ও মহানগরে সাইবার অপরাধ ইউনিট তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। তৃতীয় ধাপে অপরাধপ্রবণ এলাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল তদন্ত মনিটরিং ব্যবস্থা এবং থানার অপারেশন ও তদন্ত কার্যক্রম আলাদা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘সরকারদলীয় হলেও অপরাধ করলে আটক হবে’ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কতটা কঠোর এবং ক্ষমতাসীন দলের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুলিশের ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে অতিরিক্ত আইজিপি সাইদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশে অপরাধ নতুন নয় এবং অপরাধের ধরন ও মাত্রাও সমাজভেদে আলাদা। বাড়িঘর বা সম্পত্তি দখল, আক্রমণ কিংবা দলবদ্ধভাবে বেআইনি কর্মকাণ্ড, সবই প্রচলিত আইনে অপরাধ। তিনি বলেন, ‘আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সব সময়ই কঠোর। তবে সেই কঠোরতা যেন অমানবিক না হয় এবং মানবাধিকার যেন লঙ্ঘিত না হয়, সেটিও আমাদের দেখতে হয়।’ সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের নাম বিভিন্ন ঘটনায় আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ যখন বেআইনি বা জনশৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করে, তখন সে সরকারদলীয়, বিরোধীদলীয় বা নিরপেক্ষ, সেটা বিবেচনার সুযোগ পুলিশের নেই। অভিযোগ এলে পুলিশ তদন্ত করবে এবং তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারদলীয় বলে কাউকে ছাড় দেওয়ার বিধান আইনে নেই এবং পুলিশও তা করে না। সরকারদলীয় লোকজনকেও আটক করা হয়েছে। অপরাধ করলে তো আটক হবেই। সরকারদলের কোনো ব্যক্তিকে অপরাধ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যখন সরকারে থাকে, তখন সেই দলেরও দায়িত্ব থাকে নিজেদের নেতাকর্মীদের পরিষ্কার বার্তা দেওয়া যে উচ্ছৃঙ্খলতা বা বেআইনি কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান সরকারদলও তাদের নেতাকর্মীদের সেই বার্তা দিচ্ছে। আর পুলিশের ক্ষেত্রে এটি একটি স্থায়ী নীতি। কেউ বেআইনি কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমান সরকারও কোথাও পুলিশকে বলেনি যে তাদের দলের কোনো কর্মীকে ধরা যাবে না। রাড্ডার পর দৃশ্যমান দলীয় ব্যবস্থা মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের তিনটি কমিটি বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দলীয় বিজ্ঞপ্তিগুলোতে রাড্ডার ঘটনাকে সরাসরি এসব সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বহিষ্কারের ক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তার আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। রাড্ডার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। এসব ঘটনার বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজনের সঙ্গে সম্প্রতি আলাপকালে তারা জানিয়েছিলেন, এসব পদক্ষেপ কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া হচ্ছে না। এর উদ্দেশ্য সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করা। তাদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল বার্তা হলো, দলের নামে অপরাধ করে কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবিধা নিতে পারবেন না। তারা সেসময় আরও জানান, রাজনৈতিক পরিচয়কে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; এ বিষয়টি দল স্পষ্ট করতে চায়। একই সময়ে সরকারও যখন বলছে, কোনও অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না, তখন দলের সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় আইনের প্রয়োগও একই ধরনের কঠোর অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, এ মাসে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি হলেও কয়েকটি বিষয়ে অবনতি হয়েছে। মাসজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন-কেন্দ্রিক সহিংসতা, ক্যাম্পাসে সহিংসতা, গণপিটুনি ও মব সহিংসতা, কারাগারে মৃত্য, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতা, শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনার ধারাবাহিকতা রয়েছে। তবে এ মাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার, হয়রানি ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘটনার ধারাবাহিকতা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এসব বিষয় সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গত ৩০ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রকৃত কর্মীরা কখনও চাঁদাবাজি বা জমি দখলের সঙ্গে জড়িত হতে পারেন না। দলের নাম ব্যবহার করে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে, বিএনপি তাদের কাউকে ছাড়বে না। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান শনিবার (৩ অক্টোবর) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চেষ্টা করছেন। সরকারে থাকা দলের নাম ব্যবহার করে কিছু সুযোগসন্ধানী অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে যারা অপরাধে জড়িয়েছে, কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।’ শীর্ষ অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার কবে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জিরো টলারেন্সে নীতি গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’

দলীয় পরিচয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার কতটা কঠোর?

বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার ক্ষোভে আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার, দাবি পরওয়ারের

বিমানবন্দরের ঘটনায় নয়, বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার ক্ষোভেই মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, আখতারুজ্জামানের দল পরিবর্তন বিএনপি সহ্য করতে পারছে না। সেই ক্ষোভ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। ‘সরকার কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ঠুনকো অজুহাতে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে’ এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগরী জামায়াত। সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জামায়াতের ৩৪ জন সংসদ সদস্য এবং দলের নেতারা বিদেশ সফর শেষে বিমানবন্দরে নেমে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জমজমের পানি ও লাগেজ পাননি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া নাগরিক অধিকার। আখতারুজ্জামান সেই অধিকার প্রয়োগ করেছেন। অথচ এ ঘটনায় মামলা করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়া ও লাঞ্ছিত করার যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সত্য নয় বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার, রিমান্ডের আদেশ বাতিল এবং তাঁর মুক্তি দাবি করেন তিনি। সরকারের আচরণে দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হচ্ছেন উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু প্রস্তুত হইতেছে। বিএনপি সরকারের যে আচরণ, তারা প্রস্তুতি নিতেছে আপনাদের বিরুদ্ধে, সামলাইতে পারবেন না।’ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রীও তাঁর দলের মন্ত্রী-এমপিদের সুরে জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন উল্লেখ করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, তিনি জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলছেন। ৪–দলীয়, ১৮–দলীয়, ২০–দলীয় জোটের নেতা হিসেবে খালেদা জিয়া যখন জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তখন তাদের গুপ্ত মনে হয়নি। খালেদা জিয়া কর্মসূচি দিয়েছেন, মাঠে ছিল জামায়াত–শিবির। প্রধানমন্ত্রী এখন তাদের গুপ্ত বলেন, তখন তিনি ছিলেন লন্ডনে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে গুপ্ত, গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধী বলার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থানকেই শক্তিশালী করা হচ্ছে। এ সময় দিল্লির সঙ্গে বিএনপির গোপন কোনো সংযোগ হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন। বিএনপির কোনো কোনো সংসদ সদস্যের জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁদের বক্তব্যে শেখ হাসিনার সুর শোনা যাচ্ছে। এর অর্থ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে শুধু নামের পার্থক্য, চরিত্র এক। একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, সে সময় জামায়াতের যাঁরা রাজনীতি করতেন, তাঁরা অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। তবে তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামী কখনো গণহত্যা বা ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হয়নি। একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতার সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রেম তো আর একতরফা হয় না, আমরাই খালি ভালোবাসব, আপনি মোটে ভালোবাসবেন না।…একাত্তরের ন্যারেটিভ তৈরি করে জাতিকে বিভক্ত করে হাসিনার পথে হাঁটবেন, আর আমি আপনাকে সহযোগিতা করব, জামায়াতে ইসলামী রাজনীতিকে এত ইমম্যাচিউরড নয়, এত অপরিপক্ব নয়।’ বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ এবং ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ষড়যন্ত্র বানচাল করার আহ্বানও জানান জামায়াত সেক্রেটারি। সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ঢাকার জন্য মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্রুত মামলা প্রত্যাহার করে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন, ঢাকা উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত ও ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট মোড় প্রদক্ষিণ করে মৎস্য ভবন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার ক্ষোভে আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার, দাবি পরওয়ারের

উত্তরায় সাবেক এমপি শওকত হাসানুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার ১৪ আসামি রিমান্ড শেষে কারাগারে

বরগুনার সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমানের (রিমন) ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে গ্রেপ্তার ১৪ আসামির রিমান্ড শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরা এলাকায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ জনের পৃথক মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সেদিন ১৪ আসামিকে তিন দিন ও ফারজানা (২১) নামের এক আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার কারাগারে যাওয়া ১৪ আসামি হলেন মো. ইয়াকুব হোসাইন (২৬), আরাফাত মিয়া (২২), রিফাত হাওলাদার (১৯), হৃদয় হাসান (২১), ফাহিম (১৯), রাজিব হোসেন (২৪), মো. ফিরোজ (২৬), মো. আরিফ (২৮), মো. ওমর ফারুক (২১), আবদুল্লাহ আল আমান (১৯), মো. আবদুল্লাহ আল নোমান (২১), মো. সোহানুর হোসেন শাহীন (২২), মো. হাসিব (১৯) ও মো. হাসিব মিয়া (২৩)। এদিন তাঁদেরকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক ইকবাল হোসেন তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপর দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ১১ জনের পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার বিবরণে বলা হয়, রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এই সংবাদ পেয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রুমের ভেতর থেকে আসামিদের আটক করেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা ২০–২২ জন আসামি কৌশলে পালিয়ে যান। মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, তল্লাশি করে রুমের টেবিলের ড্রয়ারের ভেতর থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিরা ইউনিয়ন কমিটির পদপ্রার্থী ২০ জনের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত লেখা ২০টি পাতা জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠন উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সদস্য বলে জানায়। এ ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা হয়।

উত্তরায় সাবেক এমপি শওকত হাসানুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার ১৪ আসামি রিমান্ড শেষে কারাগারে

জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান ইনকিলাব মঞ্চের

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে শরিফ ওসমান হাদি বলেন, বিএনপি অসহযোগিতা করলে তাদের জাতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জামায়াত অসহযোগিতা করলে জবাবদিহি করতে হবে তাদেরও। এই সরকারের মেয়াদ হবে ১০ মাস থেকে এক বছর। যদি জাতীয় সরকার না করতে পারেন তাহলে জাতীয় ঐক্য কাউন্সিল গড়ে তোলেন। জাতীয় ঐক্য কাউন্সিল প্রধান হবেন ড. ইউনূস। সব রাজনৈতিক দল থেকে সেখানে প্রতিনিধি থাকবে সদস্য হিসাবে। তাদের সাংবিধানিক মর্যাদা হবে ক্যাবিনেট মন্ত্রী পরিষদের মতো। তারা মন্ত্রী হবেন না, উপদেষ্টা হবেন না কিন্তু ওয়াচডগ হিসাবে কাজ করবেন।জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্রের কার্যক্রম না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে কোনো লাভ নেই। যদি জুলাই ঘোষণাপত্র না আসে, যারা জুলাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দিল্লির সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগ তাদের কচুকাটা করবে। জুলাই ঘোষণাপত্র সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেলেই আওয়ামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবে।

জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান ইনকিলাব মঞ্চের

সরকারের কাছে পাঁচ দাবি জানিয়েছে এনসিপি

দেষ্টাকে বলেছি, গণঅভ্যুত্থানের যে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সেই দায়িত্ব শেষ করেই অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন।এনসিপির পাঁচ দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে জুলাই ঘোষণাপত্র একটি দাবি ছিল এবং সেটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ কার্যদিবস সময় নেওয়া হয়েছিল; সেটি যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয় সে দাবি জানিয়েছি। আমাদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ড. ইউনূস স্যারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে।নাহিদ বলেন, দ্বিতীয়ত—জুলাই আন্দোলনে যারা শহিদ ও আহত হয়েছেন তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে হচ্ছে সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে। তৃতীয়ত—শেখ হাসিনার আমলে হওয়া জাতীয় ও স্থানীয় সব নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করতে বলেছি। কারণ সে সময়ে শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন করেছিল এবং মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। দিনের ভোট রাতে করেছে, ডামি প্রার্থীর ভোট হয়েছে। ফলে সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই নির্বাচনগুলোকে সেই সময়ের বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময়ে প্রত্যাখান করেছে। আবার সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে আদালতে নিয়ে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। সেই বিশৃঙ্খলা এড়াতে পূর্বের নির্বাচনগুলোকে আইনগতভাবে যাতে অবৈধ ঘোষণা করা হয় সেই দাবি জানিয়েছি।চতুর্থ নম্বরে নাহিদ জানান, রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্তমান যে ইলেকশন কমিশন সেটার ওপরে আস্থা রাখতে পারছেন না। ইলেকশন কমিশন পুনর্গঠন করে স্থানীয় নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করার দাবি জানান তারা।সর্বশেষ জুলাই গণহত্যার বিচার ও জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত

সরকারের কাছে পাঁচ দাবি জানিয়েছে এনসিপি

সরকারের কাছে পাঁচ দাবি জানিয়েছে এনসিপি

দেষ্টাকে বলেছি, গণঅভ্যুত্থানের যে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সেই দায়িত্ব শেষ করেই অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন।এনসিপির পাঁচ দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে জুলাই ঘোষণাপত্র একটি দাবি ছিল এবং সেটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ কার্যদিবস সময় নেওয়া হয়েছিল; সেটি যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয় সে দাবি জানিয়েছি। আমাদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ড. ইউনূস স্যারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে।নাহিদ বলেন, দ্বিতীয়ত—জুলাই আন্দোলনে যারা শহিদ ও আহত হয়েছেন তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে হচ্ছে সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে। তৃতীয়ত—শেখ হাসিনার আমলে হওয়া জাতীয় ও স্থানীয় সব নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করতে বলেছি। কারণ সে সময়ে শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন করেছিল এবং মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। দিনের ভোট রাতে করেছে, ডামি প্রার্থীর ভোট হয়েছে। ফলে সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই নির্বাচনগুলোকে সেই সময়ের বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময়ে প্রত্যাখান করেছে। আবার সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে আদালতে নিয়ে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। সেই বিশৃঙ্খলা এড়াতে পূর্বের নির্বাচনগুলোকে আইনগতভাবে যাতে অবৈধ ঘোষণা করা হয় সেই দাবি জানিয়েছি।চতুর্থ নম্বরে নাহিদ জানান, রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্তমান যে ইলেকশন কমিশন সেটার ওপরে আস্থা রাখতে পারছেন না। ইলেকশন কমিশন পুনর্গঠন করে স্থানীয় নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করার দাবি জানান তারা।সর্বশেষ জুলাই গণহত্যার বিচার ও জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত

সরকারের কাছে পাঁচ দাবি জানিয়েছে এনসিপি

প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ আমরা চাই না: নুর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল সেখানে ফাটল দেখা দিয়েছে মন্তব্য করে নুর বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ছাত্রদের ওপর বিরক্ত। গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, নির্বাচন সবই প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে কথা বললেই কোনো সদুত্তর নেই। প্রধান উপদেষ্টাকে ঘিরে আছে ওয়ান ইলেভেনের দুষ্টু চক্র।নুর বলেন, বাংলাদেশে অনির্বাচিত সরকার থাকলে সংকট কাটবে না। সংকট কাটাতে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা না করেই করিডরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কীভাবে! বিভিন্ন প্রসঙ্গে এর আগে জাতীয় সংলাপ হয়েছে, কিন্তু এখন কেন ডাকা হচ্ছে 

প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ আমরা চাই না: নুর