ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
আইন দর্পণ
Topic Ads 1
হাসপাতালের ১৫ ফ্যান চুরি, বিএনপি নেতার ছেলের ৬ মাসের কারাদণ্ড

হাসপাতালের ১৫ ফ্যান চুরি, বিএনপি নেতার ছেলের ৬ মাসের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৫টি সিলিং ফ্যানসহ লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল চুরির ঘটনায় মো. মান্না শেখকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মান্না শেখ একজন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক। তিনি বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সহকোষাধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজাউল হক শেখের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত কক্ষের তালা ভেঙে মালামালগুলো চুরি করা হয়। পরদিন শনিবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবনের পেছনে থাকা অব্যবহৃত ক্যান্টিন কক্ষ থেকে এসব মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নৈশপ্রহরী না থাকায় চুরির সময় ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়েনি। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে মালামাল নিয়ে বের হওয়ার সময় মান্না শেখকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনকে শনাক্তের পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মান্না আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা মালামালসহ তাকে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালতে পাঠানো হলে আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর আগেও একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালকদের কেউ কেউ এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলেও দাবি তাদের। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আদালতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুই পক্ষের হাতাহাতি, পিপি আহত

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) ভবনে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ভবনের দ্বিতীয় তলায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকেও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে আদালতপাড়ায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও তার অনুসারী আইনজীবীদের সঙ্গে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জাকির ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক নয়নের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা আরও উত্তেজিত হয়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি করে একে অপরের ওপর চড়াও হন।  এ সময় আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধানকে সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেনকে রক্ষা করতে তার দেহরক্ষী পুলিশ সদস্যকেও বেগ পেতে দেখা যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে দুটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান ও পিপি আবুল কালাম আজাদ জাকির একটি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন, অন্যদিকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ন কবির অপর গ্রুপে রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুই পক্ষের আইনজীবীরা আদালতপাড়ায় আইনজীবী সমিতির ভবনের দ্বিতীয় তলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি কক্ষে দুপুরের খাবার খেতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল। আসন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের স্থানান্তর নিয়ে উভয়পক্ষের আলোচনার একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানও লাঞ্ছিত হন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জাকির ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক নয়নসহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান বলেন, ‌‘সাখাওয়াত হোসেন ও তার অনুসারীরা আমাদের দিকে তেড়ে এসে হামলা চালান ও গালিগালাজ করেন। তারা এডিশনাল পিপি ওমর ফারুক নয়নকে মারধর করেন। পরে আমরা প্রতিবাদস্বরূপ তাদের এক ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রেখেছি।’ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, ‘সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ আদালতকে দুই ভাবে বিভক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন। যারাই তার মতের বিরুদ্ধে যাচ্ছে তাদেরকে হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আজ এ ঘটনা ঘটেছে।’ আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, ‘সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যদের নিয়ে আমার রুমে খাওয়া-দাওয়া করছিলাম। পাশের রুম থেকে সেক্রেটারির লোকজন উসকানিমূলক বাজে আওয়াজ দিচ্ছিল। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আমার মনে হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই হয়তো ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।’ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা নিজেদেরকে চিনতে ভুল করেছে। এগুলো নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য করা হয়েছে। এরে পেছনে কার ইন্দন রয়েছে তা দেখা দরকার।’ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আসন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে।’

আদালতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুই পক্ষের হাতাহাতি, পিপি আহত

দলীয় পরিচয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার কতটা কঠোর?

একদিকে অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ও রাজনৈতিক পরিচয় না দেখার ঘোষণা, অন্যদিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানী ও আশপাশে দখল, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের একাধিক ঘটনা। এর কয়েকটিতে ক্ষমতাসীন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নাম আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা কঠোর হতে পারছে? মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও পরে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে জমি দখলের অভিযোগে হামলা, আদাবরে একটি ভবন দখলের চেষ্টা এবং ইসিবি চত্বরে একটি আবাসন প্রকল্প ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা ঘটে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। এর বাইরে সাভারের আশুলিয়ায় একটি মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় স্থানীয় বিএনপির এক নেতাসহ ৭৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম এসেছে, যদিও অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধের তদন্ত বা অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলছে কি না, সেই আলোচনাও সামনে এসেছে। একদিকে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা, অন্যদিকে সহিংসতা অব্যাহত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই। গত ১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একই নির্দেশ দিয়ে বলেন, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় হচ্ছে সে অপরাধী। তবে সেপ্টেম্বরের মানবাধিকার পরিস্থিতির পরিসংখ্যান বলছে, রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) হিসাবে, সেপ্টেম্বরে দেশে ৬৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় চারজন নিহত এবং ৫২৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ৩৫টি ঘটনায় একজন নিহত ও অন্তত ৩৪০ জন আহত হন। বিএনপি-জামায়াতের সাতটি সংঘর্ষে ৬১ জন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের ছয়টি ঘটনায় ৪২ জন আহত এবং একজন নিহত হন। জামায়াত-আওয়ামী লীগের দুটি ঘটনায় একজন নিহত হন। আগস্টে ৭০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় সাতজন নিহত ও ৫৩৬ জন আহত হয়েছিলেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, অন্তঃকোন্দল এবং চাঁদাবাজি এসব সংঘাতের অন্যতম কারণ। সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক, যৌথ ও বিশেষ অভিযানে ২৮৭টি ঘটনায় অন্তত ২১ হাজার ২০৮ জনকে গ্রেফতারের তথ্যও দিয়েছে এইচআরএসএস। একই মাসে ৩৫টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) পর্যবেক্ষণে সেপ্টেম্বরে ৬৫টি মব সহিংসতার ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৭৪ জন আহত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৭১টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার এবং কারা হেফাজতে ২৪ জনের মৃত্যুর তথ্যও দিয়েছে সংস্থাটি।  অপরাধ মোকাবিলায় তিন ধাপের পরিকল্পনা সহিংস অপরাধ, কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র ও ডিজিটাল জালিয়াতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত অপরাধের তথ্য পর্যালোচনা করে তিন ধাপের পরিকল্পনা তৈরি করেছে তারা। পুলিশের ওই পর্যালোচনা অনুযায়ী, দেশে বছরে গড়ে ৯ হাজার ১৭৮টি চুরি, ২ হাজার ৭৩৩টি ডাকাতি, ১ হাজার ৩৩৩টি ছিনতাই এবং ৪৪৫টি দস্যুতার মামলা হয়। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ব্যবহার করে ১ হাজার ১০৬টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে অপহরণের মামলা হয়েছে ৩ হাজার ১১২টি। পরিকল্পনার প্রথম ধাপে গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর টহল ও টার্গেটেড অভিযান, বডি ক্যামেরা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ৯৯৯ ও অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং জেলা ও মহানগরে সাইবার অপরাধ ইউনিট তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। তৃতীয় ধাপে অপরাধপ্রবণ এলাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল তদন্ত মনিটরিং ব্যবস্থা এবং থানার অপারেশন ও তদন্ত কার্যক্রম আলাদা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘সরকারদলীয় হলেও অপরাধ করলে আটক হবে’ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কতটা কঠোর এবং ক্ষমতাসীন দলের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুলিশের ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে অতিরিক্ত আইজিপি সাইদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশে অপরাধ নতুন নয় এবং অপরাধের ধরন ও মাত্রাও সমাজভেদে আলাদা। বাড়িঘর বা সম্পত্তি দখল, আক্রমণ কিংবা দলবদ্ধভাবে বেআইনি কর্মকাণ্ড, সবই প্রচলিত আইনে অপরাধ। তিনি বলেন, ‘আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সব সময়ই কঠোর। তবে সেই কঠোরতা যেন অমানবিক না হয় এবং মানবাধিকার যেন লঙ্ঘিত না হয়, সেটিও আমাদের দেখতে হয়।’ সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের নাম বিভিন্ন ঘটনায় আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ যখন বেআইনি বা জনশৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করে, তখন সে সরকারদলীয়, বিরোধীদলীয় বা নিরপেক্ষ, সেটা বিবেচনার সুযোগ পুলিশের নেই। অভিযোগ এলে পুলিশ তদন্ত করবে এবং তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারদলীয় বলে কাউকে ছাড় দেওয়ার বিধান আইনে নেই এবং পুলিশও তা করে না। সরকারদলীয় লোকজনকেও আটক করা হয়েছে। অপরাধ করলে তো আটক হবেই। সরকারদলের কোনো ব্যক্তিকে অপরাধ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যখন সরকারে থাকে, তখন সেই দলেরও দায়িত্ব থাকে নিজেদের নেতাকর্মীদের পরিষ্কার বার্তা দেওয়া যে উচ্ছৃঙ্খলতা বা বেআইনি কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান সরকারদলও তাদের নেতাকর্মীদের সেই বার্তা দিচ্ছে। আর পুলিশের ক্ষেত্রে এটি একটি স্থায়ী নীতি। কেউ বেআইনি কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমান সরকারও কোথাও পুলিশকে বলেনি যে তাদের দলের কোনো কর্মীকে ধরা যাবে না। রাড্ডার পর দৃশ্যমান দলীয় ব্যবস্থা মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের তিনটি কমিটি বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দলীয় বিজ্ঞপ্তিগুলোতে রাড্ডার ঘটনাকে সরাসরি এসব সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বহিষ্কারের ক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তার আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। রাড্ডার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। এসব ঘটনার বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজনের সঙ্গে সম্প্রতি আলাপকালে তারা জানিয়েছিলেন, এসব পদক্ষেপ কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া হচ্ছে না। এর উদ্দেশ্য সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করা। তাদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল বার্তা হলো, দলের নামে অপরাধ করে কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবিধা নিতে পারবেন না। তারা সেসময় আরও জানান, রাজনৈতিক পরিচয়কে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; এ বিষয়টি দল স্পষ্ট করতে চায়। একই সময়ে সরকারও যখন বলছে, কোনও অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না, তখন দলের সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় আইনের প্রয়োগও একই ধরনের কঠোর অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, এ মাসে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি হলেও কয়েকটি বিষয়ে অবনতি হয়েছে। মাসজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন-কেন্দ্রিক সহিংসতা, ক্যাম্পাসে সহিংসতা, গণপিটুনি ও মব সহিংসতা, কারাগারে মৃত্য, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতা, শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনার ধারাবাহিকতা রয়েছে। তবে এ মাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার, হয়রানি ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘটনার ধারাবাহিকতা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এসব বিষয় সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গত ৩০ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রকৃত কর্মীরা কখনও চাঁদাবাজি বা জমি দখলের সঙ্গে জড়িত হতে পারেন না। দলের নাম ব্যবহার করে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে, বিএনপি তাদের কাউকে ছাড়বে না। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান শনিবার (৩ অক্টোবর) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চেষ্টা করছেন। সরকারে থাকা দলের নাম ব্যবহার করে কিছু সুযোগসন্ধানী অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে যারা অপরাধে জড়িয়েছে, কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।’ শীর্ষ অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার কবে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জিরো টলারেন্সে নীতি গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’

দলীয় পরিচয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার কতটা কঠোর?

বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার ক্ষোভে আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার, দাবি পরওয়ারের

বিমানবন্দরের ঘটনায় নয়, বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার ক্ষোভেই মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, আখতারুজ্জামানের দল পরিবর্তন বিএনপি সহ্য করতে পারছে না। সেই ক্ষোভ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। ‘সরকার কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ঠুনকো অজুহাতে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে’ এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগরী জামায়াত। সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জামায়াতের ৩৪ জন সংসদ সদস্য এবং দলের নেতারা বিদেশ সফর শেষে বিমানবন্দরে নেমে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জমজমের পানি ও লাগেজ পাননি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া নাগরিক অধিকার। আখতারুজ্জামান সেই অধিকার প্রয়োগ করেছেন। অথচ এ ঘটনায় মামলা করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়া ও লাঞ্ছিত করার যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সত্য নয় বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার, রিমান্ডের আদেশ বাতিল এবং তাঁর মুক্তি দাবি করেন তিনি। সরকারের আচরণে দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হচ্ছেন উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু প্রস্তুত হইতেছে। বিএনপি সরকারের যে আচরণ, তারা প্রস্তুতি নিতেছে আপনাদের বিরুদ্ধে, সামলাইতে পারবেন না।’ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রীও তাঁর দলের মন্ত্রী-এমপিদের সুরে জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন উল্লেখ করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, তিনি জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলছেন। ৪–দলীয়, ১৮–দলীয়, ২০–দলীয় জোটের নেতা হিসেবে খালেদা জিয়া যখন জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তখন তাদের গুপ্ত মনে হয়নি। খালেদা জিয়া কর্মসূচি দিয়েছেন, মাঠে ছিল জামায়াত–শিবির। প্রধানমন্ত্রী এখন তাদের গুপ্ত বলেন, তখন তিনি ছিলেন লন্ডনে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে গুপ্ত, গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধী বলার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থানকেই শক্তিশালী করা হচ্ছে। এ সময় দিল্লির সঙ্গে বিএনপির গোপন কোনো সংযোগ হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন। বিএনপির কোনো কোনো সংসদ সদস্যের জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁদের বক্তব্যে শেখ হাসিনার সুর শোনা যাচ্ছে। এর অর্থ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে শুধু নামের পার্থক্য, চরিত্র এক। একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, সে সময় জামায়াতের যাঁরা রাজনীতি করতেন, তাঁরা অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। তবে তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামী কখনো গণহত্যা বা ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হয়নি। একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতার সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রেম তো আর একতরফা হয় না, আমরাই খালি ভালোবাসব, আপনি মোটে ভালোবাসবেন না।…একাত্তরের ন্যারেটিভ তৈরি করে জাতিকে বিভক্ত করে হাসিনার পথে হাঁটবেন, আর আমি আপনাকে সহযোগিতা করব, জামায়াতে ইসলামী রাজনীতিকে এত ইমম্যাচিউরড নয়, এত অপরিপক্ব নয়।’ বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ এবং ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ষড়যন্ত্র বানচাল করার আহ্বানও জানান জামায়াত সেক্রেটারি। সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ঢাকার জন্য মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্রুত মামলা প্রত্যাহার করে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন, ঢাকা উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত ও ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট মোড় প্রদক্ষিণ করে মৎস্য ভবন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার ক্ষোভে আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার, দাবি পরওয়ারের