ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
আইন দর্পণ
Topic Ads 1
রাজবাড়ীতে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

রাজবাড়ীতে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

রাজবাড়ীতে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আসামি পলাতক থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন আদালত। আজ সোমবার বেলা ১টার দিকে রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বালিয়াকান্দি উপজেলার বাসিন্দা। নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর স্ত্রী ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি বালিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর রাত ১টার দিকে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ওই ব্যক্তি তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে আলোচনা করে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছর ছিল বলে উল্লেখ করা হয় মামলার এজাহারে। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে ভুক্তভোগী, চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও চিকিৎসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকে তা আদায়ের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি জাহিদ উদ্দিন মোল্লা। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আনিছুর রহমান। সরকারি কৌঁসুলি জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, মামলার সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদনসহ উপস্থাপিত অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে সিদ্ধান্ত দেন। এ কারণে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

ধর্ষণে অভিযুক্তকে আটক, ইট নিক্ষেপে ওসি আহত

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পঞ্চবটিতে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে জাকির হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁকে আটক করে গাড়িতে তোলার সময় উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটের টুকরোর আঘাতে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুব আলম মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। গতকাল ‎রোববার রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের একটি হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ‎‎আটক জাকির হোসেন বরিশালের বানারীপাড়ার গাবা গ্রামের কাদের হাওলাদারের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে এনায়েতনগরের ওই আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন। ‎‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ৮টার দিকে শিশুটিকে একা পেয়ে প্রতিবেশী জাকির হোসেন ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তাঁর বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। ‎‎ একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জাকির হোসেন নিজেকে রক্ষার জন্য ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ গিয়ে তাঁকে আটক করে। কিন্তু উত্তেজিত জনতা জাকিরকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। এ সময় ফতুল্লা থানার ওসি মাইকে বক্তব্য রেখে এলাকাবাসীকে শান্ত করে জাকির হোসেনকে পুলিশ গাড়িতে তোলেন। এ সময় উত্তেজিত জনতার মধ্য থেকে ইটের টুকরো ছোড়া হয়। এতে একটি ইটের টুকরো ওসি মাহাবুব আলমের মাথায় লাগে। পরে তাঁকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ‎ ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুব আলম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করতে গেলে সেখানে উত্তেজিত জনতা ইটপাটকেল ছোড়ে। একটি ইট আমার মাথায় এসে লাগায় আমি কিছুটা আহত হয়েছি। তবে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়নি। তিনি বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে জাকির হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

ধর্ষণে অভিযুক্তকে আটক, ইট নিক্ষেপে ওসি আহত

ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষকের ৫ বছরের কারাদণ্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ছত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. গোলাম কবির (৫৪) নামে এক শিক্ষককে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাইনুদ্দিন এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. গোলাম কবির শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর (কাঠালিয়াপাড়া) এলাকার মৃত তাজেবুল হকের ছেলে এবং তিনি ছত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক ও স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষক ছিলেন। আদালত ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ আগস্ট বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী (ভুক্তভোগী) জীববিজ্ঞানের বই চাইলে শিক্ষক গোলাম কবির তাঁকে ২৩ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন। কথামতো ভুক্তভোগী সেদিন বিদ্যালয়ে গেলে ওই শিক্ষক তাঁকে স্কুলশিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অফিস কক্ষে নিয়ে যান। পরে অফিস কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে অফিসের গ্লাস ভেঙে ফেলেন এবং ভুক্তভোগী মানসম্মানের ভয়ে বাথরুমে লুকিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা মো. শাহজাহান আলী বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালত এই রায় প্রদান করেন। মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. আব্দুস সালাম এবং বিবাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. নাজমুল আজম। রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুস সালাম সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের নৈতিকতাহীন আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অপমানজনক। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক যেন এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সাহস না পান, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষকের ৫ বছরের কারাদণ্ড