ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
আইন দর্পণ
Topic Ads 1
শিশুশ্রম নিরসনে আইন প্রয়োগ ও সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

শিশুশ্রম নিরসনে আইন প্রয়োগ ও সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

শিশুশ্রম নিরসনে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। আজ রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্ল্যাটফর্মের (ক্লেপ) সহযোগিতায় সংলাপটি আয়োজন করে। সংলাপে কায়সার কামাল বলেন, দেশে অনেক ভালো আইন থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগের অভাব রয়েছে। আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। প্রভাবশালীদের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীদের পাশাপাশি সরকারের নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিও নিশ্চিত করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। জনগণের করের টাকায় যাঁরা বেতন পান, তাঁদের কর্মকাণ্ডের যথাযথ তদারকি থাকা প্রয়োজন বলে জানান কায়সার কামাল। কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাহী বিভাগের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা ও কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পথশিশুদের বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী পথশিশুদের দাওয়াত দিয়ে খাইয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন, পথশিশুরাও সুন্দর জীবনের দাবিদার। পর্যায়ক্রমে তাদের রাস্তা থেকে ঘরে ফেরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশে একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী পাওয়া গেছে উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ যেন রাজনীতিকরণ করা না হয়। তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’ ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গৃহকর্মে নিয়োগ না দেওয়ার জন্য সবাইকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। শিশুদের স্বার্থে প্রয়োজন হলে মহান সংসদে বিদ্যমান আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এএসডির নির্বাহী পরিচালক এম এ করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন, আন্না মিনজ ও শওকত আরা আক্তার। এএসডির অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম. রবিউল ইসলাম, ক্লেপের সদস্য এ কে এম মাকসুদ, আইএলওর জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী সৈয়দা মুনিরা সুলতানা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক পাবলো নেরুদা, শাপলা নীড় বাংলাদেশের মাহফুজা পারভীন, এএসডির কর্মসূচি পরিচালক লুৎফুন নাহার কান্তা, প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইউ কে এম ফারহানা সুলতানা এবং স্ক্যানের সহসভাপতি আফতাবুজ্জামান। অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও মুদ্রণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।