ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
আইন দর্পণ

জাতীয়

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু

দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। উভয় দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনার রূপরেখা ও কার্যপরিধি নির্ধারণে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (টিওআর) স্বাক্ষরিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব বলেন, ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আশাব্যঞ্জক হলেও বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বহুমুখীকরণের বিপুল সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো। বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বাংলাদেশ মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার। হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এসময় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। মালয়েশিয়ার চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত এফটিএ কেবল শুল্ক হ্রাসের চুক্তি নয়; বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও সুষম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলগত উদ্যোগ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চুক্তি কার্যকর হলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। তিনি পারস্পরিক সমঝোতা, নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর এ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন বলেন, এফটিএ কার্যকর হলে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, সহজ ও পূর্বানুমান যোগ্য হবে। তিনি জানান, আলোচনায় পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন (পণ্যের উৎপত্তিবিধি) এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণ করে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নমনীয়তার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম দফার আলোচনা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

রমজানের আগে নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি বেড়েছে

আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরের আমদানি এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ এসব নিত্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধির ফলে রমজানে বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও মসুর ডালের দাম কমেছে এবং ভোজ্যতেল ও চিনির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় ও শুল্ক কাঠামোর বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেল, ডিম, ডাল, ছোলা, খেজুর ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে এসব চিত্র উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আসন্ন রমজানে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং আমদানি ও শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। সভা শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।  নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসিতে অগ্রগতি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এ সময়ে মোট ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ দশমিক ২৩ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের ৭ দশমিক ৫ লাখ টনের তুলনায় ১ দশমিক ১৮ লাখ টন বেশি। ভোজ্যতেলের এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫ লাখ টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৩১ লাখ টন বেশি। এ ছাড়া সয়াবিন বীজ আমদানি হয়েছে ৫ দশমিক ১ লাখ টন, যা গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ১৩ লাখ টন বেশি। চিনি আমদানি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৭ লাখ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫৩ লাখ টন বেশি। চিনির এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১০ লাখ টনে। রমজানে ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ ছোলার আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে শূণ্য দশমিক ৮২ লাখ টন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল শূণ্য দশমিক ১২ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে শূণ্য দশমিক ৭০ লাখ টন। এ সময়ে ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ১ দশমিক ৩৮ লাখ টন। অন্যদিকে, মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ দশমিক ২২ লাখ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬৪ লাখ টন বেশি। মসুর ডালের এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৪ লাখ টনে। খেজুর আমদানি হয়েছে শূণ্য দশমিক ১১ লাখ টন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল শূণ্য দশমিক শূণ্য ৪ লাখ টন। খেজুরের শুল্ক কাঠামো সহজ করার উদ্যোগ সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা খেজুরের জাত, গুণগত মান ও মূল্যের পার্থক্য বিবেচনায় শুল্ক কাঠামো সহজ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, মিশর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। এসব পণ্যের বৈচিত্র্যের কারণে একই ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আমদানিকারকদের জন্য সহজবোধ্য ও বাস্তবসম্মত শুল্কব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুল্ক নির্ধারণের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দায়িত্ব হলেও এ ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। আলোচনায় খেজুরের প্রচলিত শুল্ক সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ সুবিধা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি খেজুরের নির্দিষ্ট মূল্য ধরে শুল্কায়নের পরিবর্তে প্রকৃত গুণগত মান ও মূল্যের ভিত্তিতে কর নির্ধারণের প্রস্তাব আলোচনায় আসে। আমদানিকারকেরা জানান, সাধারণ মানের খেজুরের ক্ষেত্রে বাস্তব আমদানি মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন না হলে শুল্ক ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। এর সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, বিকল্প পরিবহনপথ ব্যবহার, বাড়তি লজিস্টিক ব্যয় এবং এলসি খোলার জটিলতা যুক্ত হয়ে বাজারে পণ্য সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফল আমদানিকারকেরাও উচ্চ করহারের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় ফল আমদানির কর কাঠামো আরও সহনশীল করার দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার ও শুল্ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মসুর ডালের দাম কমেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা প্রয়োজন। সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, ছোলা ও মসুর ডাল আমদানিতে বর্তমানে শুল্ক-কর নেই। তবে চিনি ও ফল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সমন্বয় করা গেলে বাজারে দাম সহনীয় রাখতে সহায়ক হতে পারে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাজারে তাজা ফলের দামও কিছুটা কমেছে বলে পর্যালোচনায় উঠে আসে। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সামগ্রিকভাবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিমাণ বৃদ্ধি, স্থানীয় বাজারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমে আসা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা আসন্ন রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রমজানের আগে নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি বেড়েছে

কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল, বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি

একই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা, বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ, লাল কাঁকড়ার বিচরণ, লেম্বুর বনের সবুজ প্রকৃতি, রাখাইন সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আর বৌদ্ধ মন্দিরের ঐতিহ্য– সব মিলিয়ে কুয়াকাটা যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক অনন্য ছবি। এই সাগরকন্যাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরতে দীর্ঘ ৯ বছর পর আয়োজন করা হচ্ছে ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল’। ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুদিনব্যাপী এ উৎসব উপলক্ষে নেওয়া হচ্ছে বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি। সমুদ্রসৈকতে খেলাধুলা, বিচ ফুটবল, বিচ ক্রিকেট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত, ফ্যাশন শো, কমেডি, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, বিচ ম্যারাথন. চর বিজয় ভ্রমণসহ নানা আয়োজন থাকছে উৎসবে। আয়োজকদের পরিকল্পনায় এবারের কার্নিভাল কেবল বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়; বরং কুয়াকাটাকে প্রকৃতি, ঐতিহ্য, স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি ও আধুনিক বিনোদনের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান, ঐশী, হাসান, আরমান আলিফ ও চিশতী বাউলের পরিবেশনা ঘিরে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। পাশাপাশি অভিনয়শিল্পী, উপস্থাপক, ফ্যাশন মডেল ও সামাজিক মাধ্যমের পরিচিত মুখদের অংশগ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে। কার্নিভালকে কেন্দ্র করে আট শতাধিক পুলিশ সদস্য, আটটি চেক পয়েন্ট, চারটি পার্কিং জোন, স্বেচ্ছাসেবক, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্য এবং চারটি মেডিকেল টিমের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উৎসব কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুন করে পরিচিত করার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য কুয়াকাটা। পর্যটকদের কাছে এর সবচেয়ে বড় পরিচিতি একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ। তবে কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা শুধু সমুদ্রসৈকতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। লেম্বুর বন, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, রাখাইন পল্লি, বৌদ্ধ মন্দির, স্থানীয় খাবার, কৃষি ও জীবনধারা এ অঞ্চলের পর্যটনকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে। থাকছে নৃত্য পরিবেশনা, ফ্যাশন শো ও কমেডি অনুষ্ঠান।  কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক জানান, নিরাপত্তায় ৮০০ পুলিশ সদস্য, আটটি চেক পয়েন্ট, চারটি পার্কিং জোন, ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক, শতাধিক বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্য এবং চারটি মেডিকেল টিম রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা, যানজট নিরসন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. সামীমুজ্জামান বলেন, পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে সরকার প্রতিবছরই পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের আয়োজন করে থাকে। এ বছর আমরা সেই আয়োজনটি পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় করেছি। আমরা চাই, এই কার্নিভালের মাধ্যমে কুয়াকাটায় থাকা বিভিন্ন সম্ভাবনাময় স্থান দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে। আমরা মনে করি, এই কার্নিভাল উপলক্ষে কুয়াকাটার পর্যটনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে সামনে আনতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে নতুন পর্যটন আকর্ষণগুলো পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন খাতে সংশ্লিষ্টদের আগ্রহও বাড়তে পারে। পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার চেষ্টা করছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে আরও সমৃদ্ধ করতে। সে লক্ষ্যেই আমরা এই কার্নিভালকে গুরুত্ব দিচ্ছি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ পর্যটকের আগমনকে সফল করতে চাই। কুয়াকাটায় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও এই উৎসব একটি বড় প্রচারমাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।  

কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল, বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি

বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস সেমিনারে যোগ দিবেন ডা. জুবাইদা রহমান 

বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধবিষয়ক এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে যোগ দিবেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক এ সেমিনার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আবদুল মুহিত এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। এছাড়া অস্টিওপোরোসিস দিবস উদযাপন উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ এবং আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীন।  সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্যানেল আলোচনা ও কুইজ অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবেন অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. ফারুক কাশেম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলালুল ইসলাম।

বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস সেমিনারে যোগ দিবেন ডা. জুবাইদা রহমান 

সাভারে ৬ লাশ পোড়ানোর মামলায় ‘রাজসাক্ষী’ হওয়া আবজালুল কারামুক্ত

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাস পাওয়া আসামি আবজালুল হক কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। গত ১৩ অক্টোবর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার ১৯ অক্টোবর রাতে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২–এর জেলার আরিফুর রহমান। আবজালুল হক আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই)। এখন পর্যন্ত তিনি একমাত্র আসামি, যিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত মামলায় খালাস পেয়েছেন। তাঁর কারামুক্তির মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের খালাসের রায় কার্যকর হলো। তিনি এ মামলায় অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হয়েছিলেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন আশুলিয়া থানা এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে তাদের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত ছিলেন, তাকেও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেদিন যারা নিহত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন, আস–সাবুর, তানজিল মাহমুদ, বায়েজিদ বোস্তামী ও আবুল হোসেন প্রমুখ। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এর রায়ে এ মামলায় ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে রায়ে ‘রাজসাক্ষী’ আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস ও ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি উত্তর) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।

সাভারে ৬ লাশ পোড়ানোর মামলায় ‘রাজসাক্ষী’ হওয়া আবজালুল কারামুক্ত

ইশরাকের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীর জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি দৃশ্যমান

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-রাষ্ট্রদূত জন এফ ড্যানিলোভিচ। তার মতে, সরকারের সদস্যদের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।  সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। পোস্টে জন এফ ড্যানিলোভিচ লিখেছেন, ‘ইশরাক হোসেনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের পর তার পদত্যাগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি এমন একটি ইঙ্গিত, যা প্রমাণ করে সরকারের সদস্যদের তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে তারেক রহমান আন্তরিক। বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে অতীতের চেয়ে ভিন্ন পথে এগিয়ে নিতে তার নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’আরও পড়ুনআরও পড়ুনদুর্গাপূজায় গুজব-অপপ্রচারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই: আনসার ডিজি উল্লেখ্য, জন এফ ড্যানিলোভিচ ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সিলর এবং ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) বা উপ-রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।  এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।  পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র তার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানায়, এ বিষয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

ইশরাকের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীর জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি দৃশ্যমান

তারেক রহমানের নতুন ধারার রাজনীতিতে বদলে যাচ্ছে দেশ

এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নিজের দলের প্রতিমন্ত্রী এবং এমপির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, নতুনধারার রাজনীতি চালু করার যে অঙ্গীকার তিনি করেছিলেন তা কেবল কথার কথা নয়, বাস্তবতা। এই দুই ঘটনা শুধু বিএনপির নেতা, কর্মীদের জন্য নয়, সবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক উক্তির বাস্তব রূপ দেখালেন- ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ। দেশের জন্য, দেশের মানুষের স্বার্থে তিনি যে দলের ভিতরেও শুদ্ধি অভিযানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তা তিনি আবারও প্রমাণ করলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। ইশরাক হোসেন, বিএনপির সম্ভাবনাময় তরুণ নেতা। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার সন্তান, ইশরাক এলাকায় পিতার মতোই জনপ্রিয়। দীর্ঘ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ইশরাকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাঁর সাহসী ভূমিকা এবং রাজপথের লড়াই কর্মীদের জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এরকম একজন তরুণ যেকোনো দলের জন্য সম্পদ। কিন্তু তারেক রহমান জানিয়ে দিলেন, যত বড় এবং জনপ্রিয় নেতাই হোন না কেন, তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। তারেক রহমান জানিয়ে দিলেন, সবার আগে বাংলাদেশ। প্রথমে নারী সংসদ সদস্য মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং সোমবার ইশরাক হোসেনকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি এদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফেরদৌসী আহমেদ। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, নারী সংসদ সদস্য যেহেতু সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নয় তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য সহজ ছিল। ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ মোটেও সহজ ছিল না। নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সাহসী। তারেক রহমান ছাড়া অন্য কেউ এত কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। অতীতে আমরা দেখেছি, এর চেয়ে গুরুতর অপরাধেও মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু তারেক রহমান গতানুগতিক ধারায় সরকার পরিচালনা করছেন না। তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এজন্যই তিনি অনন্য, অসাধারণ। সে কারণেই তিনি এরকম কঠিন সিদ্ধান্ত সহজেই নিতে পেরেছেন। ইশরাক যে কাজটি করেছেন, তার পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে। কিন্তু সে সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি চেষ্টা করেছেন সেটা এখন জাতীয় সমস্যা। মাদক এখন আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাদকের থাবায় ধ্বংস হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। মাদকবিরোধী অভিযানে সফল না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই ইশরাক হোসেনের মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে তিনি যেভাবে মাদক নির্মূল করতে চেয়েছেন সেটা সঠিক নয়। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়েছেন সদ্য বিদায়ি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরাও কয়েকজনকে ধরতে তৎপর হন। গত শনিবার বিকালে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরতে বলছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। এ সময় একজনকে গুলি করার হুমকি দিতে শোনা যায়। এক তরুণকে লাথি দিতেও দেখা যায় একজন দেহরক্ষীকে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সরকারের নির্বাহী বিভাগের অংশ। তাঁদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা সংবিধান, সরকারের কার্যবিধি এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান দিয়ে নির্ধারিত হয়। সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদে সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ এবং সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার বিধান রয়েছে। আর সরকারের কার্যবিধিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। তবে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশের মতো তল্লাশি, আটক কিংবা গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা পান না। এ ধরনের ক্ষমতার জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি প্রয়োজন। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কথা উল্লেখ রয়েছে। আইনটির ২১ ধারায় প্রকাশ্য স্থান বা চলাচলকারী যানবাহনে মাদকদ্রব্য জব্দ এবং নির্দিষ্ট শর্তে কাউকে আটক ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ২৩ ধারায় নির্দিষ্ট শর্তে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পুলিশের উপপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য বাহিনীর কর্মকর্তাদের। এই বিধানে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে আলাদা কোনো অভিযান পরিচালনার ক্ষমতার উল্লেখ নেই। ফলে তাঁদের পদমর্যাদা নিজে থেকে মাদকবিরোধী অভিযানের আইনগত এখতিয়ার তৈরি করে না। আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়া এবং সেই অস্ত্র যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রদর্শন বা ব্যবহার করার অনুমতি পাওয়া এক বিষয় নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই প্রকাশিত ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০২৫-এর ২৫ অনুচ্ছেদে অস্ত্র বহন ও ব্যবহারের শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। এর ২৫(ক) উপঅনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি স্বীয় লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত অস্ত্র আত্মরক্ষার নিমিত্ত নিজে বহন/ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অন্যের ভীতি/বিরক্তি উদ্রেক করতে পারে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।’ একই নীতিমালার ২৫(খ) উপঅনুচ্ছেদে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তারক্ষীদের ইউনিফর্ম ছাড়া প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সাধারণ লাইসেন্সধারীর ক্ষেত্রে ২৫(ক) উপঅনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অন্যের ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। অর্থাৎ আত্মরক্ষার জন্য বৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখা এবং সেই অস্ত্র উঁচিয়ে অন্যকে ভয় দেখানো বা কাউকে ধরতে এগিয়ে যাওয়া আলাদা বিষয়। অস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেই সেটি দিয়ে পুলিশি অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা তৈরি হয় না। বয়সে তরুণ হওয়ার কারণে ইশরাক হোসেন এই কাজটি করেছেন। এটি নিয়ে অনেকেই রাজনীতি পানি ঘোলা করার চেষ্টা করতে শুরু করেছিলেন। অনেকেই আবার, এই ঘটনাকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেই সুযোগ দেননি। বাংলাদেশে অতীতে বহু মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এরকম কিংবা এর চেয়েও গুরুতর অভিযোগ এসেছে। কিন্তু যারাই ক্ষমতায় ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। এর পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অস্বীকৃতির সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। নিজের দলের লোকদের খারাপ বললে জনগণের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়- এ ধরনের একটি মিথ্যা বিশ্বাস রাজনীতিতে প্রচলিত আছে। তাই নিজের দলের লোক অন্যায় করলেও তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা ক্ষমতাসীন দলের সর্বনাশ করেছে সবসময়। ক্ষমতাসীনরা অস্বীকার করলেও সাধারণ মানুষ তাদের অপকর্মের কথা জানত, ফলে ক্ষতি হতো রাজনৈতিক দলেরই। জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হতো যে ক্ষমতায় গেলে আইন লঙ্ঘন করা যায়। দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজি করা যায়। এসবের বিচার হয় না। এর ফলে শুধু যে ক্ষমতাসীন দলের ক্ষতি হয় তা নয়, সামগ্রিকভাবে রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়। কিন্তু অতীতে কোনো দলের নেতাই সাহসের সঙ্গে নিজের দলে শুদ্ধি অভিযান করতে পারেননি, ফলে রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক মনোভাবেরও পরিবর্তন হয়নি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই পরিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচ্ছন্ন হবে। আইন অমান্য করলে শাস্তি পেতেই হবে-এই বার্তাটি তারেক রহমান প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই। এক মাধ্যমে তিনি যেমন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর আন্তরিকতা প্রমাণ করলেন তেমনি নতুনধারার রাজনীতির পথে দেশকে আরও একধাপ এগিয়ে নিলেন। এই ধারাই বাংলাদেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক ধারা চালু করার ক্ষেত্রে তারেক রহমান হলেন পথপ্রদর্শক।

তারেক রহমানের নতুন ধারার রাজনীতিতে বদলে যাচ্ছে দেশ

ধর্মের নামে কেউ যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বৈরাচারের পতনের পর মহান আল্লাহ আমাদের দেশ গড়ার যে সুযোগ দিয়েছেন, আমরা যেন ঐক্যবদ্ধভাবে তা কাজে লাগাতে পারি। ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন আর যেন দেশে কখনো ফিরে না আসে এবং ধর্মের নামে কেউ যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে—সে ব্যাপারে সবার সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিবর্গের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতে যান। সেখানে তাদের উদ্দেশে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুফতি বশিরুল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহার ও মাওলানা মীর ইদরীস নদভি; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম; জাতীয় ইমাম খতিব কাউন্সিলের কো-অর্ডিনেটর মাওলানা ফয়সাল, খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ইসলামি পণ্ডিত ও আলেম-ওলামাদের খুব সম্মান করতেন। ইসলামের প্রতি মমতাবোধ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘বিস্মিল্লাহির্-রাহ্মানির্-রহিম’ সংযোজন করেন। এ ছাড়া আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি এখন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক মানুষ। তবে ইসলামী মূল্যবোধ ও শরিয়ায় আঘাত আসে, এমন কোনো কাজ যাতে কেউ না করে—তা তিনি লক্ষ রাখবেন। প্রতিনিধিদলটি মধ্যপ্রাচ্যের ধনী ও উন্নত দেশ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এবং অনুদান সহায়তা আনার ব্যাপারে তাদের আরবি ভাষা ও যোগাযোগের পারদর্শিতা এবং ব্যক্তিগত সংযোগ কাজে লাগানোর অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতি এ ব্যাপারে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসা ও ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি সুবিধাজনক সময়ে মাদ্রাসাগুলোতে সফরের ও হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার বিষয়ে তার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ধর্মের নামে কেউ যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে: রাষ্ট্রপতি

সাত সচিবসহ ৯ কর্মকর্তার রদবদল

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল করেছে সরকার। ছয় সচিবকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুই অতিরিক্ত সচিবকে দুটি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক নয়টি প্রজ্ঞাপনে এসব বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) পদে বদলি করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির (নাডা) রেক্টর (সচিব) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তার স্থলে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবুল হাসানাত হুমায়ুন কবীরকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব উল আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সচিব (সংযুক্ত) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অপর এক প্রজ্ঞাপনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমিকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সাত সচিবসহ ৯ কর্মকর্তার রদবদল

৭ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামী ৭ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৭। রোববার (১৮ অক্টোবর) বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সঙ্গে অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ আয়োজন বিষয়ক ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বইমেলার সময় নির্ধারিত হয়। 

৭ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

সচিবালয়ে বড় রদবদল, সাত সচিবের দপ্তর পরিবর্তন

দেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে বড় ধরনের রদবদল এনেছে সরকার। সাত সচিবের দপ্তর পরিবর্তনের পাশাপাশি একজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি এবং দুই অতিরিক্ত সচিবকে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব বদলি, পদোন্নতি ও পদায়নের আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান পদে বদলি করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. মো. কামরুজ্জামানকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব করা হয়েছে। এ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমিকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য পদে বদলি করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য পদটি সচিব পদমর্যাদার। এদিকে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমকে সচিবের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামকে জাতীয় প্রশাসন একাডেমির রেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ পদটিও সচিব পদমর্যাদার। অন্যদিকে, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবুল হাছানাত হুমায়ূন কবীরকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সচিবালয়ে বড় রদবদল, সাত সচিবের দপ্তর পরিবর্তন

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় রাষ্ট্রদূতকে তলব

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রবিবার মন্ত্রণালয়ে তাকে তলব করে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ সময় রাষ্ট্রদূতকে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর শিরশ্ছেদের ঘটনা ও এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে সরকার। এর আগে, গতকাল শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ নিয়ে সরকার এখনো কিছু জানতে পারেনি। তবে বাংলাদেশ চিঠি দিয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে।  এ সময় সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত‍্যুদণ্ড ‘আমাদের জন‍্য’ বড় শিক্ষা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের শ্রম উইং থেকে যে বার্তা এসেছে, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের অভ‍্যন্তরে ‘ব‍্যভিচারে’ লিপ্ত ছিলেন দুই বাংলাদেশি, যা সৌদি আইনে একটি গর্হিত কাজ হিসেবে গণ‍্য। ওই আইন অনুযায়ী আদালত ব‍্যবস্থা নিয়েছে; কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সরকার কোনো কিছুই পায়নি। বাংলাদেশ তাই দুজনের বিস্তারিত জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে। সৌদি আরব চিঠির জবাব দিলে মৃতদেহগুলো কিভাবে ফেরত আনা যাবে সে বিষয়ে জানতে পারবেন বলে উল্লেখ করেছেন শামা ওবায়েদ। প্রসঙ্গত, সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তথ্য নিশ্চিত করে। এই দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় রাষ্ট্রদূতকে তলব

পুতুলের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (১৮ অক্টোবর) এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছেন দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। ২০২৫ সালের ২০ মার্চ মিথ্যা তথ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় চাকরি ও সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক।  দুদকের অভিযোগে বলা হয়, ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে জমা দেওয়া সিভিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে (বর্তমান নাম বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ‘অনারারি স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট’ হিসেবে কাজ করার মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দেন সায়মা ওয়াজেদ। ওই তথ্য ব্যবহার করে তিনি সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করেন। আরও পড়ুনআরও পড়ুনডেঙ্গুতে এক দিনে ৬ জনের মৃত্যু দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, পুতুল ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এ কার্যক্রম চালান। সিভিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের তদন্তে আরও বলা হয়েছে, সিভিতে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি খোলা ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ না দিয়েই চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, জাতিসংঘের কার্যালয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে এসব তথ্য পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুতুল আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পান। দুদকের এজাহারে বলা হয়, আসামি সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ওরফে সায়মা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতা বা শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরি বা রিভিউ সম্পর্কিত কার্যক্রমে অংশ না নিয়েও নিজেকে এই কাজে সম্পর্কিত মর্মে মিথ্যা দাবি করে ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আবেদন করেন। পরবর্তীসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়ে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৮/৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এজাহারে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাধ্যমে ২০১৭ সালে অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন নিযুক্ত হন সায়মা ওয়াজেদ। ওই পদে কর্মরত অবস্থায় ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় দাখিল করা সিভিতে নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে পুতুল লেখেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা/শিক্ষা ম্যানুয়েল রিভিউ সম্পর্কিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, অটিজম এবং মানসিক সমস্যা সংক্রান্ত কারিগরি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন।

পুতুলের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

৬৬৬ কোটি টাকা দাবি: গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশ স্থগিত

পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য পদক্ষেপ নিতে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের পৃথক রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ রোববার এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবির পরিমাণ ৬৬৬ কোটি টাকা। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ শুনানি হবে। গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এসব করবর্ষের বিপরীতে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে গত ১০ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় ১২ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। দুটি রিটের একটিতে দেওয়া রায় ১৫ পৃষ্ঠার, অপরটি ৩২ পৃষ্ঠার। ৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের শেষাংশে আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব রিট আবেদনকারীর (গ্রামীণ কল্যাণ) কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের শেষাংশে আবেদনকারীর বকেয়া করসংক্রান্ত বিষয়ে নোটিশ জারির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর গ্রামীণ কল্যাণ পৃথক দুটি লিভ টু আপিল করে। লিভ টু আপিল দুটি চেম্বার আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ওঠে। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন ও সরদার জিন্নাত আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব রিট আবেদনকারী গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। আপাতত অর্থ আদায়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে বিষয়টি ১৩ ডিসেম্বর শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। পৃথক রিটে হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনা অংশটুকু স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রায়ে যত দ্রুত সম্ভব, রিট আবেদনকারীর (গ্রামীণ কল্যাণ) কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অপর রায়ে আবেদনকারীর বকেয়া করসংক্রান্ত বিষয়ে নোটিশ জারির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। দুটি রায়ের নির্দেশনা অংশটুকু স্থগিত করা হয়েছে। লিভ টু আপিল দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলার পূর্বাপর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের মধ্যে একটা চুক্তি হয়। এ অনুসারে গ্রামীণ ফোনে বিনিয়োগ করা হয়। চুক্তির আওতায় শেয়ার থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের ওপর অর্জিত মুনাফার ৪২ দশমিক ৬৫ শতাংশ পাবে গ্রামীণ কল্যাণ। তবে যে অর্থ পেয়েছে, তা লভ্যাংশ আয়—নাকি ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কর কর্তৃপক্ষের মতে, ওই অর্থ প্রকৃতপক্ষে সুদ বা বিনিয়োগের ওপর প্রাপ্ত আয় এবং এটি লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য না করে ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ হিসেবে বিবেচিত হবে। পুনর্মূল্যায়নের পর ওই পাঁচ করবর্ষের জন্য প্রদেয় কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন। রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয়। বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইন অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিল (অতিরিক্ত কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে) করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয় রায়ে। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। পৃথক লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আদেশ দেন আপিল বিভাগ। গ্রামীণ কল্যাণের করা ওই রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃ শুনানি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি নিয়ে রিট দুটি খারিজ করে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। অবশ্য ওই বছরের ২৯ আগস্ট তা প্রত্যাহার করে নেন একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে বলা হয়, দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যেহেতু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সুতরাং রায়টি ডিফেকটিভ (ক্রটিপূর্ণ) হবে। পাশাপাশি মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি গত ১৩ মে এক আদেশে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠান। এই বেঞ্চ রুল খারিজ করে নির্দেশসহ রায় দেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে রায়ের নির্দেশনা অংশ স্থগিত হলো।

৬৬৬ কোটি টাকা দাবি: গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশ স্থগিত