ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
আইন দর্পণ
Topic Ads 1
সতিনকে ফাঁসাতে আড়াই বছরের সন্তানকে হত্যা, আদালতে মায়ের জবানবন্দি

সতিনকে ফাঁসাতে আড়াই বছরের সন্তানকে হত্যা, আদালতে মায়ের জবানবন্দি

নরসিংদীর মনোহরদীতে সতিনকে ফাঁসাতে নিজের আড়াই বছরের মেয়েকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার হওয়া রহিমা ওরফে টুনি আদালতে সন্তান হত্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শিশুর নাম তানজিমা আক্তার। সে ওই গ্রামের নাজমুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত রহিমা ওরফে টুনি (২৩) নাজমুলের দ্বিতীয় স্ত্রী। আজ রোববার বিকেলে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জবানবন্দির বিষয়ে পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগের ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে রহিমা তাঁর স্বামী নাজমুল ও সতিন হনুফার সঙ্গে বসবাস করছিলেন। এ সময় শিশু তানজিমা তার নানাবাড়ি চরমান্দালিয়ায় ছিল। ঘটনার আগের দিন ৭ অক্টোবর রাতে রহিমার সঙ্গে সতিন হনুফার পারিবারিক কলহ হয়। এরপর ৮ অক্টোবর রহিমা নানাবাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে আসেন। জবানবন্দিতে রহিমা ওরফে জানান, সতিন হনুফাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় একটি পুকুরে তানজিমাকে পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। পরে শিশুটির মরদেহ স্বামীর বসতঘরের একটি চৌকিতে কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার দিন রাতে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তানজিমার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গত ১০ অক্টোবর শিশুটির দাদি ফিরোজা বেগম (৭৫) বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান ও মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, রহিমা ওরফে টুনিকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি তানজিমাকে পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান বলেন, ৯ অক্টোবর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

চাঁদপুরে জেলেদের ৫ টন চাল গোপনে বিক্রির অভিযোগ, জব্দের পর তদন্তে কমিটি

মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ৫ টন চাল গোপনে বিক্রির পর পরিবহনের সময় জব্দ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ বাজার এলাকা থেকে চালগুলো জব্দ করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম। জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্যসহায়তা হিসেবে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আওতায় চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের ৪ হাজার ৯৭০ জন জেলের জন্য চাল বরাদ্দ ছিল সোয়া ১১ মেট্রিক টন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে এসব চাল জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। জব্দ করা চাল পরিবহনের দায়িত্বে থাকা পিকআপচালক শাহাদাত জানান, চাঁদপুর সিএসডি গোডাউন থেকে চালগুলো কুমিল্লার লাকসামে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল। তবে তাঁকে চালের কোনো মালিকের নাম জানানো হয়নি। কেবল লাকসামে পৌঁছানোর পর মালিকের পরিচয় জানানো হবে বলা হয়েছিল। পথিমধ্যে হাজীগঞ্জ এলাকায় পৌঁছানোর পর চালগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ফোন পান তিনি। চাল বিক্রির টোকেনে পরিমাণ ৪ হাজার ৯৩০ কেজি লেখা থাকলেও সেখানে কোনো মালিকের নাম উল্লেখ ছিল না। এদিকে, চাল বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযানের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চালগুলো জব্দ করা হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চালগুলো লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দ ছিল এবং এ ঘটনায় স্থানীয় এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে নির্ধারিত সময়ে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ না করার কারণ জানতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএমএন জামিউল হিকমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কথা না বলে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে জানান, চালগুলো সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হবে। তবে বিতরণে কেন বিলম্ব হলো, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

চাঁদপুরে জেলেদের ৫ টন চাল গোপনে বিক্রির অভিযোগ, জব্দের পর তদন্তে কমিটি

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত, বিজিবির পাল্টা ফায়ার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সাজুল হোসেন (৩০) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাল্টা ফায়ার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জামালপুর সীমান্তের ১৫২/১০-এস নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাজুল হোসেন জামালপুর গ্রামের সাবাজ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে ঘাস কাটতে গেলে ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নার্সারি ক্যাম্পের টহলদল তাঁকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকালে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হন। ঘটনার পরপরই জামালপুর বিওপির বিজিবি টহলদল দ্রুত সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিজিবিও পাল্টা ফায়ার করে। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি রয়েছে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এদিকে, গুলিবিদ্ধ সাজুল হোসেনকে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোহিদ হাসান তুহিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি যাচাই করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত, বিজিবির পাল্টা ফায়ার

চাঁদপুরে বাসচাপায় প্রবাসী বাইকচালক নিহত

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মেয়ের জন্মদিনের কেক কিনতে যাওয়ার পথে বাসের চাপায় মোটরসাইকেল চালক সৌদিপ্রবাসী আল আমিন (৪০) নামে এক যুবক নিহত হন। তিনি উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মসজিদ বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মৌতা বাড়ি নামক এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় মোটরসাইকেল চালক আল আমিন ও আরেক আরোহী হৃদয় (১৯) গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর মোটরসাইকেল আরোহী হৃদয়কে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হাজীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোরাদ জানান, চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগে আল আমিন নিহত হয়েছেন। হাজীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে শাহরাস্তি থানা পুলিশকে মৃতদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিহত আল আমিনের ভাই বাহারউদ্দিন জানান, আল আমিন সৌদিপ্রবাসী। তাঁর একটি মেয়ে আছে। মেয়ের জন্মদিনের কেক কিনতে হাজীগঞ্জে যাওয়ার পথে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। রোববার সকালে সে সৌদি যাওয়ার কথা ছিল। শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

চাঁদপুরে বাসচাপায় প্রবাসী বাইকচালক নিহত

‘জমি লিখে না দিলে কবরও হবে না’— বৃদ্ধকে কৃষক দল নেতার হুমকির অভিযোগ

কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সুলায়মান হোসাইন বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা, হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করেছে একটি পরিবার। ওই পরিবারের গৃহকর্তা বিরাশি বছরের বৃদ্ধ আলতাফ হোসেনকে ‘জমি লিখে না দিলে কবরও দিতে দিবে না’ বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এমনই অভিযোগ পরিবারটির। এ ছাড়া তাঁর ছেলের চাকরি খোয়ানোর জন্য সর্বোচ্চ মহলে তদবির করে যাচ্ছেন ওই কৃষক দল নেতা। এ অবস্থায় নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানিয়েছেন ওই বৃদ্ধ। নিরাপত্তা ও কৃষক দল নেতার হয়রানি থেকে মুক্তি চেয়ে আজ বৃহস্পতিবার বেলা একটায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারটি। তাঁরা ফরিদপুর জেলা সদরের গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদি গ্রামের বাসিন্দা। এ সময় তাঁরা কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। তাঁরা জানান, সুলায়মান হোসাইন তাঁদের প্রতিবেশী এবং কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁদের জমি দখল, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। এর মধ্যে ৫টি দাগে প্রায় ৫৯ শতক জমি দখলে নেওয়ার জন্য পরিবারটিকে হুমকি-ধমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছেন বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে সালিস মীমাংসা, থানা থেকে আদালতে গড়িয়ে হেরে গেলেও বর্তমানে জোরপূর্বক জমি লিখে দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করে আসছেন।  সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বৃদ্ধ আলতাফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন— ‘আমার কেনা জমির বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও এই সুলায়মান জবরদস্তি করে বিগত ১৫ বছর যাবৎ অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। বর্তমানে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় পদ পেয়ে আরও ভয়ংকর উঠেছে। আমার জমি নেওয়ার জন্য ৫ আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর ক্ষমতা দিয়ে জুলুম-নির্যাতন, মামলা, হয়রানি, প্রতিবন্ধকতা, সীমানার বাউন্ডারি উঠিয়ে দেওয়ার সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা বারবার হামলা সহ তিলে তিলে আমাদের শেষ করে দিচ্ছে।’ তাঁর দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে ইউসুফ হোসেন নূর বর্তমানে পুলিশের এএসআই হিসেবে মাগুরা জেলায় কর্মরত রয়েছেন। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করায় পুলিশের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার জন্য সর্বোচ্চ মহলে তদবির করছেন বলে আলতাফ হোসেন অভিযোগ করেন। আলতাফ হোসেন জানান, ২০২৩ সালে ইউসুফ নূর বাদী হয়ে কৃষক দল সুলায়মান হোসাইনকে আসামি করে ভূমি প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। এরপর থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে জুলাই আন্দোলনে আমার ছেলের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেখানেই কর্মরত থাকে, সেখানে গিয়ে বিএনপির নেতাদের দিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। অথচ আমি একজন বিএনপির কর্মী এবং আমার এই ছেলেকে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী মরহুম চৌধুরী কামাল ইউসুফ চাকরি দিয়েছিল। ভূমি প্রতিরোধ আইনের মামলায় সম্প্রতি সুলায়মানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর গত ৮ জুলাই কোতোয়ালি থানার এসআই সমীর তাঁকে গ্রেপ্তার করতে যায়, তখন এসআই সমীরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকিসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। যার একটি অডিও রেকর্ড উপস্থাপন করেন তিনি। এ সময় তিনি কেঁদে কেঁদে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চেয়ে বলেন, আমার বসত ঘর থেকে সুলায়মানের বসত ঘরের দূরত্ব ১০ ফিটের মতো। বাড়িতে এসেই রাতের বেলা আমার ঘরে ঢুকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলে এবং বলে কাগজে সই করে দাও নইলে মরলে কবরে মাটি দিতে দেব না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমার অনুরোধ—এই বয়সে আমার বৈধ জমিতে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। দয়া করে আপনি এই সুলায়মান ও তাঁর পরিবারের জুলুম অত্যাচার নির্যাতন হতে বাঁচান এবং আমার ছেলের চাকরিকেও বাঁচান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করেন কৃষক দল নেতা সুলায়মান হোসাইন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ বানোয়াট। জমিগুলো নিয়ে আমার বাবার নামে দলিল আছে, বাবার মৃত্যুর পর থেকে ওই জমি দখল করে ছোট বেলায় আমাদের উচ্ছেদ করে দিয়েছিল। আমার বাবার বৈধ জমি বুঝে নিতে গেলে এই বিরোধ শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে শহিদুল ইসলাম বাবুল ভাইয়ের (কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য) বাড়িতে এক সালিসের সিদ্ধান্তের পর আলতাফ হোসেন স্বাক্ষর করে কিন্তু বাড়িতে ফিরেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমি বুঝিয়ে দেয়নি। কখনো সাদা কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। বর্তমানে আদালতে বণ্টন মামলাও চলমান এবং এখন এটা আদালতের বিষয়।

‘জমি লিখে না দিলে কবরও হবে না’— বৃদ্ধকে কৃষক দল নেতার হুমকির অভিযোগ

ভোলায় যুবককে তুলে নিয়ে দুই চোখ উপড়াল প্রতিপক্ষ

ভোলার বোরহানউদ্দিনে মো. রাজিব নামে এক যুবককে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর দুই চোখ উপড়ে ফেলেছে প্রতিপক্ষ। গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের দেউলা শিবপুর গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার মামলা হলে ইমাম হোসেন নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয় তাঁকে। রাজিবের ভাই মো. রিয়াজ জানান, গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে বাড়ির সামনে বসেছিলেন রাজিব। এ সময় একটি মাইক্রোবাসে কয়েকজন এসে তাঁকে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে। পরে চোখ দুটি উপড়ে ফেলে ভোলা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের কাছে ডোবার পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রেখে যায়। এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে পরিবারকে খবর দেয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক দেখে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। রিয়াজ আরও জানান, রাজিবের শরীরে ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের কয়েকজন তাঁদের এলাকার। এদের মধ্যে রাজিব কয়েকজনকে চিনতে পেরেছেন এবং তাদের নাম বলেছেন। বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী বলেন, মধ্যরাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে রাজিবের স্ত্রী বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে ইমাম হোসেন নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ভোলায় যুবককে তুলে নিয়ে দুই চোখ উপড়াল প্রতিপক্ষ

রাজবাড়ীতে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

রাজবাড়ীতে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আসামি পলাতক থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন আদালত। আজ সোমবার বেলা ১টার দিকে রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বালিয়াকান্দি উপজেলার বাসিন্দা। নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর স্ত্রী ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি বালিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর রাত ১টার দিকে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ওই ব্যক্তি তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে আলোচনা করে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছর ছিল বলে উল্লেখ করা হয় মামলার এজাহারে। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে ভুক্তভোগী, চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও চিকিৎসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকে তা আদায়ের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি জাহিদ উদ্দিন মোল্লা। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আনিছুর রহমান। সরকারি কৌঁসুলি জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, মামলার সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদনসহ উপস্থাপিত অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে সিদ্ধান্ত দেন। এ কারণে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

রাজবাড়ীতে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

দুদকের মামলায় ওয়াসার গাড়িচালক ও তাঁর স্ত্রীর তিন বছরের কারাদণ্ড

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক গাড়িচালক মো. তাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী খাইরুন্নেছা বেগমকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত তাজুল ইসলাম চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার পশ্চিম শহিদনগর এলাকার বাসিন্দা। দুদকের পিপি মোকাররম হোসেন আজকের পত্রিকাকে জানান, নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আসামি মো. তাজুল ইসলামকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮৬ টাকার ৫০ শতাংশ হিসেবে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৩ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রী খাইরুন্নেছা বেগমকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৩ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মোকাররম বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে আদালত তাঁদের সাজামূলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, তাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী পরস্পর যোগসাজশে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্থ উপার্জন করে তা দিয়ে খাইরুন্নেছা বেগমের নামে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ করেন। পাশাপাশি স্বামীর অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থকে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে খাইরুন্নেছা নিজের নামে আয়কর নথি খোলেন এবং সেখানে অর্জিত সম্পদ ও আয়ের উৎস প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া দুদকে দাখিল করা সম্পদবিবরণীতে ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগও আনা হয়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দিলে ২০২৫ সালের ১ জুলাই বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

দুদকের মামলায় ওয়াসার গাড়িচালক ও তাঁর স্ত্রীর তিন বছরের কারাদণ্ড

ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষকের ৫ বছরের কারাদণ্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ছত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. গোলাম কবির (৫৪) নামে এক শিক্ষককে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাইনুদ্দিন এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. গোলাম কবির শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর (কাঠালিয়াপাড়া) এলাকার মৃত তাজেবুল হকের ছেলে এবং তিনি ছত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক ও স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষক ছিলেন। আদালত ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ আগস্ট বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী (ভুক্তভোগী) জীববিজ্ঞানের বই চাইলে শিক্ষক গোলাম কবির তাঁকে ২৩ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন। কথামতো ভুক্তভোগী সেদিন বিদ্যালয়ে গেলে ওই শিক্ষক তাঁকে স্কুলশিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অফিস কক্ষে নিয়ে যান। পরে অফিস কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে অফিসের গ্লাস ভেঙে ফেলেন এবং ভুক্তভোগী মানসম্মানের ভয়ে বাথরুমে লুকিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা মো. শাহজাহান আলী বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালত এই রায় প্রদান করেন। মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. আব্দুস সালাম এবং বিবাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. নাজমুল আজম। রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুস সালাম সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের নৈতিকতাহীন আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অপমানজনক। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক যেন এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সাহস না পান, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষকের ৫ বছরের কারাদণ্ড