ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
আইন দর্পণ

সর্বশেষ

সচিব হলেন বাবুল মিঞা

অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মো. বাবুল মিঞা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পদোন্নতির পর তাকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান (সচিব) পদেই বহাল রাখা হয়েছে। তিনি বিসিআইসিতে যোগদানের আগে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মো. বাবুল মিঞা ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর ১৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগদান করেন। তিনি বিভিন্ন জেলায় সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে মাঠ প্রশাসনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সচিব হলেন বাবুল মিঞা

ঢাকার আদালত দুই ভাগ করতে হাইকোর্টে রিট

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতকে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ-পৃথক দুই বিচারিক অঞ্চলে বিভক্ত করতে হাইকোর্টে রিট দাখিল করা হয়েছে। রিটকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, আইনগত ও বিচারিক পদক্ষেপ নিতে আইনমন্ত্রী, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে এ নোটিশ পাঠিয়েছিলেন তিনি। তাতে সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে তিনি রিট করেন। নোটিশে ঢাকা উত্তর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা উত্তর মহানগর দায়রা আদালত এবং একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর দায়রা আদালত প্রতিষ্ঠা বা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। রাজধানী ঢাকায় প্রায় আড়াই কোটি জনসংখ্যা, বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা এবং ক্রমবর্ধমান দেওয়ানি, ফৌজদারি, পারিবারিক, বিশেষ ও মহানগর ফৌজদারি মামলার চাপ বিবেচনায় বর্তমান বিচারিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, বিদ্যমান বিচারিক ব্যবস্থায় বিপুলসংখ্যক মামলা, বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, সাক্ষী, আসামি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সমাগমের কারণে বিচারিক প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের জন্য আদালতে যাতায়াত, মামলার ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ঢাকার আদালত দুই ভাগ করতে হাইকোর্টে রিট

এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চল পুলিশের প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (অতিরিক্ত আইজিপি) ইসরাইল হাওলাদার। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে এই রদবদলের কথা জানানো হয়। ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা ফারুক আহমেদের বাড়ি বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার কৈডালা (রণবাঘা) গ্রামে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একজন সৎ, দক্ষ ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বগুড়ায় বাড়ি হওয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনায় অত্যন্ত সৎ, মেধাবী ও পরিশ্রমী পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার পরও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে পদোন্নতি বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। ২০০৯ সালে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের হস্তক্ষেপে তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পদোন্নতি ও রদবদলের মধ্যে তিনি পুলিশ সুপার থেকে পদোন্নতি পান। পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) হিসেবে দায়িত্ব পান। সেখানে তিনি প্রশাসনিক কাজে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন। পরে ডিএমপি থেকে তাকে র‍্যাবে বদলি করা হয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুনএসআরবির মহাপরিচালকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৭ কর্মকর্তাকে বদলি গত ৪ জুন বর্তমান সরকার ফারুক আহমেদসহ পুলিশের পাঁচ ডিআইজিকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি দেয়। এরপর ৭ জুন পুলিশ সদর দপ্তরে তাদের নতুন পদমর্যাদার র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ২৮ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে ফারুক আহমেদকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) থেকে বদলি করে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব দিয়েছিল সরকার।

এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ

শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতা করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিসি ফরিদা

পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে শ্রমিকের ছদ্মবেশে কেউ নাশকতা, সহিংসতা কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ ফরিদা খানম। মঙ্গলবার সকালে সাভার উপজেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য যৌক্তিক দাবির বিষয়ে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। তাই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য শ্রমিকদের ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। ফরিদা খানম বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকারের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ অপপ্রচার চালালে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো দুষ্কৃতকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে নিয়োজিত করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার জরুরি আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শ্রমিক সংগঠনের নেতা, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, প্রকৃত শ্রমিকেরা এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন; তাঁরা কাজে ফিরতে চান। তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছে। যেসব পোশাক কারখানা খোলা রয়েছে, সেসব কারখানায় শ্রমিকেরা স্বাভাবিকভাবে কাজে যোগ দিচ্ছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য মাঠে রয়েছেন। আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, হেলমেট পরে কিংবা বিভিন্ন ছদ্মবেশে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তারা প্রকৃত শ্রমিক নয়। প্রকৃত শ্রমিকেরা তাঁদের জানিয়েছেন, তাঁরা এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নন; বরং কাজ করতে চান। কারণ, তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকা মজুরির ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার নীতিগতভাবে তাঁদের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের হঠকারিতা, সহিংসতা কিংবা নাশকতা বরদাশত করা হবে না। ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু  এদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা শ্রমিক অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। তবে প্রশাসনের তৎপরতা এবং জনগণের সচেতনতার কারণে তারা কোনোভাবেই সফল হতে পারবে না। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে। কাজেই ষড়যন্ত্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা যাবে না। বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই পথ চলছে। শ্রমিকেরা যে দাবি জানিয়েছিলেন, তা পূরণে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, এর মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং একটি স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে। এ সময় ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতা করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিসি ফরিদা

৬ সন্তানের কেউই নিচ্ছেন না দায়িত্ব, ৯৫ বয়সী শামসুলের ঠিকানা তাই গাছতলা

জীবনের সবটুকু সুখ-শ্রম বিলিয়ে ছয় সন্তানকে বড় করেছেন হাজী শামসুল হক মোল্লা (৯৫)। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই সন্তানদের কাছেই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ছয় সন্তানের কেউই তাঁর দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। জমিজমা লিখে নেওয়ার পর সন্তানরা তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। আশ্রয় হয়েছে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে। সেখানেই কাটছে তাঁর দিন। শামসুল হক মোল্লা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। তাঁর দুই ছেলে ও চার মেয়ে। বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় ফেরিওয়ালা। ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার। চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী। জানা গেছে, ছোট মেয়ে কাজুলী ছাড়া বাকি পাঁচ সন্তান নিজেদের সংসার ও সন্তান নিয়ে ব্যস্ত। কয়েক বছর আগে শামসুল হক জমি বিক্রি করে হজ করতে যান। তখন অবশিষ্ট জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। তবে বর্তমানে বিপত্নীক এই বৃদ্ধের খোঁজখবর তেমন কেউ রাখছেন না। গত কয়েক দিন বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন শামসুল হক। মঙ্গলবার সকালে মায়া তাঁকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ভাই ও তাঁদের স্ত্রীরা মিলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছের নিচে রেখে দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সন্তানদের এমন আচরণ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মায়া বেগম বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ্য। এছাড়াও আমার বাড়িতে আবার প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকে। ফলে আমার পক্ষে বাবাকে রাখা সম্ভব নয়। শামসুল হকের মেজ মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, আমাদের চার বোনকে জমি বিক্রি করে বাবা মাত্র ৪ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি দিয়েছে। এখন আমরা বোনেরা কেন বাবার দেখাশুনা করব? এ বিষয়ে জানতে শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে আজিজুল ও রেয়াজুলের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের স্ত্রীরাও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের বাড়ির এক গৃহিণী বলেন, শামসুল হক মোল্লার জমি জমা লিখে নিয়ে এখন তার সন্তানরা তাকে আশ্রয় দিচ্ছে না। তিনি যদি সন্তানদের জমি লিখে না দিতো তা হলে হয় তো এই অবস্থা হতো না। সন্তানরা যেটি করছেন সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। বৃদ্ধ শামসুল হক বলেন, আমি এখন কোথায় যাব? কি করব? কিছুই বুঝতে পারছি না। সারা জীবন কষ্ট করে যাদেরকে বড় করলাম তাদের কাছে আমি এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি। কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। শামসুল হক সাহেবের সন্তানেরা যদি তাকে দেখাশোনা না করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ’ আইন অনুসারে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

৬ সন্তানের কেউই নিচ্ছেন না দায়িত্ব, ৯৫ বয়সী শামসুলের ঠিকানা তাই গাছতলা