প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
জায়গা না থাকায় বসতঘরেই বৃদ্ধকে দাফন
||
জায়গা না থাকায় নিজেদের বসতঘরের ভেতরেই করিম মিয়া (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে দাফন করেছে তার পরিবার। দীর্ঘদিন পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ এই বৃদ্ধের মৃত্যুর পর ঘরের টিনের বেড়া খুলে সেখানে কবর দেওয়া হয়। এতে পরিবারের বসবাসের ঘরটিই এখন পরিণত হয়েছে কবরস্থানে। ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার শালমারা গ্রামে।
করিম মিয়া শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের বাসিন্দা। রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে তিনি মারা যান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে নিজের বসতঘরের ভেতরে তাকে দাফন করা হয়।
করিম মিয়ার বড় মেয়ে কোতুলী বেগম জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ছিলেন। বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ফুফুর কাছ থেকে বাবার থাকার ঘরসহ তিন শতাংশ জমি কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু দাফনের জন্য পরিবারের অন্য কোনো জায়গা না থাকায় শেষ পর্যন্ত সেই ঘরেই বাবাকে কবর দিতে হয়েছে।
কোতুলী বেগম বলেন, আমরা দুই ভাই-বোন ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজ করি। আরেক বোন স্বামীর বাড়িতে থাকে। বাবাকে কবর দেওয়ার মতো কোনো জায়গাজমি আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরে কবর দিতে হয়েছে। সরকারি কবরস্থান থাকলে সেখানে দাফন করতে পারতাম। কিন্তু আমাদের এখানে সেই ব্যবস্থা নেই। বাড়ি থেকে অন্তত ৫ কিলোমিটার দূরে সরকারি গোরস্থান।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ ও নাদিম বলেন, ওই এলাকায় কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সরকারি কবরস্থান নেই। শালমারা বাজারের উত্তরে সড়কের পূর্ব পাশের অনেক দরিদ্র পরিবারের নিজস্ব কবরস্থানের জায়গা নেই। ফলে তাদের বসতভিটাতেই স্বজনদের দাফন করতে হয়। এলাকায় অনেক খাসজমি রয়েছে। সেখানে সরকারি কবরস্থান করা হলে স্থানীয়দের উপকার হবে। এলাকায় বিত্তবান ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী থাকলেও করিম মিয়ার দাফনের জন্য আলাদা জায়গার ব্যবস্থা হয়নি।
এদিকে বাবাকে হারানোর শোকের সঙ্গে বসতঘরে কবর দেওয়ার কারণে নতুন সংকটে পড়েছে পরিবারটি। যে ঘরে এত দিন করিম মিয়া ও তার স্ত্রী বসবাস করেছেন, সেই ঘরেই এখন রয়েছে তার কবর। ফলে পরিবারের মাথা গোঁজার আশ্রয় নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, বিষয়টি সন্ধ্যায় শুনেছি। আগামীকাল সকালে প্রশাসনের লোকজনসহ আমরা ঘটনাস্থলে যাব ও করণীয় সব করব। ওই এলাকায় গোরস্থান নেই। একটি গণ-গোরস্থান করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হবে।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘরের ভেতরে কবর দেওয়ার বিষয়টি অবগত হয়েছি। মঙ্গলবার সেখানে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। পরিবার চাইলে মরদেহটি আমরা সরকারি গোরস্থানে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করব।
সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মো: গোলাম মোস্তফা
৩৯, বি.বি. এভিনিউ, সমবায় নিকেতন (৩য় তলা)জিরো পয়েন্ট, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ ।
কপিরাইট © ২০২৬ আইন দর্পণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত